রাজিব হাসানের কবিতা | শিল্প-সাহিত্য | Aporup Bangla | বাংলার প্রতিধ্বনি
ঢাকা | মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৬ আশ্বিন ১৪২৮
শিল্প-সাহিত্য

রাজিব হাসানের কবিতা

অপরূপ বাংলা প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ এপ্রিল ২০২১ ১৬:৪২ আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২১ ১৬:৪৬

অপরূপ বাংলা প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ২৪ এপ্রিল ২০২১ ১৬:৪২


অলংকরণে কবি

ইচ্ছের ঝুড়ি
আমারও কি ইচ্ছে করে না, বাসতে কাউকে ভালো
রংধনুর সব রঙ খুঁজছে আমার সাদা-কালো।
আমারো কি সাধ জাগেনা যখন তখন উড়ি
লাটাই সুঁতোয় বেঁধে রাখা আমার পোষা ঘুড়ি।

আমারো তো স্বপ্ন ছিল আমার পাশে তুমি
স্বপ্ন ভেঙে দেখছি কেন আমার পাশে আমি।
ঢেঁকির উপর দেখার শখ আলতা পায়ে নুপুর
তালপাখাতে দিচ্ছো বাও কাটছে অলস দুপুর।

আমিও তো চেয়েছিলাম তোমায় নিয়ে বাসর
প্রেম- পূন্য দুইয়ে মিলে করবে গানের আসর।
আমিও তো দেখতে চাই তোমার চোখে আমি
জলের দামে বিকিয়ে দেব আমার মনের জমি।

আমিও তো রাখতে চাই তোমার বুকে মাথা
একতরফা শুনতে হবে আমার যত কথা।
আমারো তো বয়স হবে পাকবে মাথার চুল
ভালোবাসাই মুখ্য হবে গৌণ হবে কূল।


উৎসর্গ - যার কাছে ইচ্ছে পোষন করি। তুমি?

১৮ আগস্ট ২০০৪

 

পাষাণীকে নেমন্তন্ন
আয় না পাষাণী একবার পথ ভুলে
বুকের দরজা জানালা খুলে
রাঙিয়ে দেব ভালবাসার রক্তে
ফুটবে ফুল এই তক্তে।

আয় না পাষাণী পায়ে হেঁটে হেঁটে
গোধূলী রঙা ধুলো মেখে
সমুদ্র জলে ধুয়ে দেব-ক্ষণ
আলতা রাঙা সে চরণ।

আয় না পাষাণী দু’হাত খুলে
মেহেদী রাঙা কঙ্কন সাথে
ভাগ্যরেখায় কি লেখা শোন
বলবে আমার বিবাগী মন।

আয় না পাষাণী চুল ছড়িয়ে
মেঘের হিংসা বিদ্বেষ বাড়িয়ে
সিঁথির মাঝে দেবে মোরে ঠাঁই?
আলোর পথের দিশা যেন পাই।

আয় না পাষাণী আমার ভোজ সভায়
দু’জনার রসদ দুটি মন হায়
প্রেমের সুরা পানের আশা
খাদ্য থাকবে ভালোবাসা।

উৎসর্গ - পাষাণপুরের পাষাণীকে। যার বিচরণ এ জগতে নেই।

১৪ মে ২০০৪

 

জন্ম
আমি? আমি।
জন্মাই হাজার বার, লালিত হই তোমার বক্ষে।
আমি, আমি-
কখনও বুলেট, কখনও গ্রেনেড, খুঁজে পাবে শত্রু ধ্বংসে ।
আমি, আমি-
জ্বলন্ত বারুদ, আবার নিভে যাই এক ফোঁটা জলে ।
আমি কখনও প্রতিবাদী মুক্ত মিছিলে, আবার বন্দী চার প্রাচীরে।
আমি, আমি-
কখনও সবুজ ঘাস, পিষ্ট হই তোমার পদতলে
আমি বসন্ত কোকিল, দেখবে কোন বসন্ত কালে।
আমি ঘাসের ডগায় শিশির বিন্দু ভোরের আলোয় মিলিত হই
আমি ঝর্ণাধারা, নদীর সাথে মিলিত হই
আমি, আমি-
কখনও সূর্য, চাঁদকে সাজাই আপন রঙে
আমি কথক, কথা কই তোমার সঙ্গে ।
আমি তোমার চোখের অশ্রু, গড়িয়ে পড়ি তোমার কপল বেয়ে
আমি আকাশের মেঘ বৃষ্টি হয়ে নেমে আসি তোমার কাছে।
আমি, আমি-
নই বীর, ভাঙি, মচকে যাই- তবে আবার গড়ি
আমি সেই আমি - তোমার ডাকে ভিরাই তরী।
আমি, আমি-
অপবিত্র, তোমায় ছুঁয়ে পূণ্য হই।
আমি প্রদীপ, আলো ছড়াই সারা বিশ্বে
আমি রাখালের বাঁশি, ক্লান্ত দুপুরে মোরে বৃক্ষতলে পাবে।
আমি এক ঝাঁক পাখি, আছে নীড়ে ফেরার তাড়া
আমি শিক্ষক, শেখাই ভালোবাসা!
আমি, আমি-
চিনবেনা তুমি এই আমাকে
শত ঘৃণা পেয়েও ভালোবাসি তোমাকে।

উৎসর্গ - আমাকে। নিজেকে এভাবেই দেখি।

১৩ অক্টোবর ১৯৯৯


নবীন
কাদের কোলাহল শুনছি?
কেউ সুধোলো - এরা নবীন।
নবীন?
কতো আশার আলো বহন করে এই নবীন শব্দটি
ঠিক গ্রীষ্মের শুকিয়ে যাওয়া মাঠ বৃষ্টির প্রতিক্ষারত
বসন্তের আগমনী বার্তা, রাত প্রহরীর সূর্যের অপেক্ষা
আর সেনাপতির সাহসী যোদ্ধা।
এদের বরণ করতে হবে।
বুকের ভেতর ঢুকিয়ে দিতে হবে দাবানলের সাহস
কুমারের মাটির ছাঁচে বসিয়ে দিতে হবে পূর্ণ আকৃতির জন্য
থাকবে রনাঙ্গন যেখানে জ্ঞান- ঢাল আর মসি- তরবারী
দিতে হবে ফসলের মাঠ উর্বর পলির ছড়াছড়ি।
এরা নবীন-
বদলে দেবে ভবিষ্যতের মানচিত্র
ভেঙ্গে কুসংস্কার গড়বে সংস্কার
পেশীতে বজ্রপাত আর কন্ঠে বজ্রনাদের শক্তি
ধ্বংস-বিদ্বেষ অবসান আসুক মুক্তি।

আয়রে নবীন এই প্রবীনের হাত ধরে
দেখিয়ে দেব সামনের আরও এক পথ
শিখিয়ে দেব আরও এক নব অধ্যায়।

আর মনে রেখ
তোমাদের দিলাম তিনটি আশা
এক ভালবাসা
দুই ভালবাসা
তিন ভালবাসা।।

উৎসর্গ - সকল নবীনদের, অগ্রসর হও আগামীর পথ উন্মোচনে।

২ জুলাই ২০০৩

 

 




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top