করোনায় মারা গেলেন চিত্র পরিচালক কিম কি দুক | শিল্প-সাহিত্য | Aporup Bangla | বাংলার প্রতিধ্বনি
ঢাকা | বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ৫ কার্তিক ১৪২৮
শিল্প-সাহিত্য

করোনায় মারা গেলেন চিত্র পরিচালক কিম কি দুক

অপরূপ বাংলা বিনোদন

প্রকাশিত: ১১ ডিসেম্বর ২০২০ ১৯:৪৭ আপডেট: ১২ ডিসেম্বর ২০২০ ১৩:০০

অপরূপ বাংলা বিনোদন | প্রকাশিত: ১১ ডিসেম্বর ২০২০ ১৯:৪৭


কিম কিদুক
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বিশ্বখ্যাত কোরিয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা কিম কি দুক। শুক্রবার লাটভিয়ার একটি হাসপাতলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর। কান, ভেনিস ও বার্লিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সব চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার জিতেছিল তাঁর সিনেমা।
‘ক্রোকোডাইল’, ‘দ্য আইল’, ‘রিয়েল ফিকশন’, ‘অ্যাড্রেস আননোন’, ‘স্প্রিং, সামার, ফল, উইন্টার...অ্যান্ড স্প্রিং’, ‘সামারিতান গার্ল’, ‘টাইম’, ‘ব্রিদ’, ‘ড্রিম’, ‘রাফ কাট’, ‘পিয়েতা’, ‘আরিরাং’, ‘ওয়ান ওন ওয়ান’, ‘স্টপ’, ‘মেড ইন চায়না’, ‘হিউম্যান’, ‘স্পেস’, ‘টাইম অ্যান্ড হিউম্যান’ কিম কি দুকের উল্লেখযোগ্য সিনেমা। তাঁর সর্বশেষ ছবি ‘ডিজলভ’ মুক্তি পায় ২০১৯ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর। সিনেমাটিকে তুলনা করা হয় তাঁর আগে বানানো ছবি ‘সামারিতান গার্ল’–এর সঙ্গে।

৬৯তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সেরা ছবি হয়েছিল তাঁর ‘পিয়েতা’ ছবিটি। এই ছবির জন্য বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো ও নামকরা এই চলচ্চিত্র উৎসবে কিম কি দুক পেয়েছিলেন গোল্ডেন লায়ন। এই উৎসবের ৬১তম আসরে ‘থ্রি আয়রন’ ছবির জন্য সিলভার লায়ন বা সেরা পরিচালকের পুরস্কার পেয়েছিলেন কিম। ৪৫তম বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘সামারিতান গার্ল’ সিনেমাটি কিমকে দেয় সেরা পরিচালকের পুরস্কার। এটি এই উৎসবের দ্বিতীয় সেরা পুরস্কার।
২০১১ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবের আঁ সার্তে রিগা বিভাগে দেখানো হয় ‘আরিরাং’ ছবিটি এবং জিতে পুরস্কার। ‘স্প্রিং, সামার, ফল, উইন্টার...অ্যান্ড স্প্রিং’ কিমের সবচেয়ে জনপ্রিয় ছবি। চলচ্চিত্র সমালোচক রজার ইবার্টও সর্বকালের সেরা ছবির তালিকায় রেখেছেন একে। কিম কি দুক পরিচালিত দুটো ছবি দক্ষিণ কোরিয়া থেকে অস্কারে সেরা আন্তর্জাতিক সিনেমা বিভাগে পাঠানো হয়। সেই ছবি দুটির একটি ‘স্প্রিং, সামার, ফল, উইন্টার...অ্যান্ড স্প্রিং’ ও অন্যটি ‘পিয়েতা’।
কিম কি দুক ১৯৬০ সালের ২০ ডিসেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার বোংঘোয়ায় জন্ম নেন। ১৯৯০ সাল থেকে চার বছর তিনি প্যারিসে চারুকলা নিয়ে পড়াশোনা করেন। ১৯৯৩ সালে দেশে ফিরে শুরু করেন চিত্রনাট্য লেখার কাজ। ১৯৯৫ সালে কোরিয়ান ফিল্ম কাউন্সিল কর্তৃক আয়োজিত এক প্রতিযোগিতায় চিত্রনাট্যকার হিসেবে পুরস্কার পান। এটিই চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট কিমের প্রথম পুরস্কার। তাঁর প্রথম ছবি ‘ক্রোকোডাইল’ মুক্তি পায় ১৯৯৬ সালে। স্বল্প বাজেটের ছবিটি দক্ষিণ কোরিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।

২০০০ সালে ‘দ্য আইল’ ছবিটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসা কুড়ানো কিমের প্রথম ছবি। ভেনিস ও টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবেও এ ছবি দেখানো হয়। একই বছর মুক্তি পাওয়া কিমের ‘রিয়েল ফিকশন’ ছবিটি ২৩তম মস্কো চলচ্চিত্র উৎসবে আমন্ত্রণ পায়। কিম কি দুক এশিয়ার তাঁর প্রজন্মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্মাতাদের একজন।

কোরীয় এ পরিচালকের কাজে মুগ্ধ ছিলেন দর্শকরা। চলচ্চিত্রে পরাবাস্তববাদের নানা উপাদান যোগ করেছেন তিনি। তার সিনেমার চিত্রনাট্য, দৃশ্যায়ন, চরিত্র, অবজেক্ট এবং গোটা আবহ যা দর্শকদের নির্মমতার নদীতে ভাসাতে ভাসাতে কঠোর বাস্তবতার এক তীর ভূমিতে পৌঁছে দেন। চলচ্চিত্রে পরাবাস্তববাদের এই সংমিশ্রণে সিনেমা তিনি নিয়ে যান ভিন্নমাত্রায়। যা দর্শকদের এমনভাবে আন্দোলিত করে যে, তারা একে আলাদা করতে পারে না।
এক পর্যায়ে দর্শকের কাছে বাস্তব আর পরাবাস্তবের সীমা অস্পষ্ট হতে থাকে। তিনি যেন চিত্র দিয়েই সবকিছু বলতে ভালোবাসেন। তাই হয়তো তাঁর চলচ্চিত্রে কথার খুব কম উপস্থিতি থাকে। তবে যারা সিনেমা দ্যাখেন তাদের কারো বুঝতে কোনো অসুবিধা হয় না। হতে পারে সে দর্শক ভিনদেশি কিংবা কোরিয়ান দর্শক। আমার দেখা প্রিয় সিনেমার অনেকগুলোই তিনি নির্মাণ করেছিলেন।

১৯৬০ সালের জন্ম নিয়েছিলেন প্রিয় এই সিনেমা নির্মাতা। তিনি ১৯৯০ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত প্যারিসে ফাইন আর্টস বিষয়ে পড়াশোনা করেন। এরপর নিজ দেশ দক্ষিণ কোরিয়াতে এসে শুরু করেন চিত্রনাট্য লেখার কাজ এবং ১৯৯৫ সালে কোরিয়ান ফিল্ম কাউন্সিল কর্তৃক আয়োজিত এক প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার পান। পরের বছর তিনি ক্রোকোডাইল নামক একটি স্বল্প বাজেটের চলচ্চিত্র পরিচালনার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেন। ২০০০ সালে তার চলচ্চিত্র রিয়াল ফিকশন ২৩ তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে জায়গা করে নেয়।
২০০৪ এ বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সামারিটান গার্ল চলচ্চিত্রের জন্য এবং ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে থ্রি আয়রন চলচ্চিত্রের জন্য তিনি সেরা পরিচালকের সম্মানে ভূষিত হন। ২০১২ সালে পিয়েটা নামক তার চলচ্চিত্রটি ভেনিস, বার্লিন ও কান চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা চলচ্চিত্রের সম্মান লাভ করে এবং ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে গোল্ডেন লায়ন পুরস্কার পান।
কিম কিদুক তার এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন "বস্তুতপক্ষে, বর্তমানে খুবই দুঃখজনক এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে পৃথিবীতে। যেখানে টিকে আছে শুধুই নির্মমতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতার নির্যাসটুকুও এখন বিলুপ্তির পথে। তারপরও এখানে একটা প্রত্যাশার জায়গা আছে, তা হলো এই দুটি শ্রেণির সহাবস্থান। আবার এমনও হতে পারে, পৃথিবীর স্বার্থে এই সহাবস্থান নির্ধারণ করাটা হয়তো আমারই এক ধরনের বিভ্রম।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top