মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪ , ১২ আষাঢ় ১৪৩১

modhura
Aporup Bangla

রিক্তা রিচির কয়েকটি কবিতা 

শিল্প-সাহিত্য

রিক্তা রিচি

প্রকাশিত: ০৯:২৭, ৪ ডিসেম্বর ২০২২

আপডেট: ০৯:৩২, ৪ ডিসেম্বর ২০২২

সর্বশেষ

রিক্তা রিচির কয়েকটি কবিতা 

অলংকরণ : জীবন শাহ

 

 

এক.  শীতের শীৎকার

শিমের মাচা বেয়ে শীত নেমেছে
জলপাই রঙের ভোরে কুয়াশার নাচ
ঘুম ঘুম ঘাট, নারকেল গাছের সারি
আমলকীর বনে মৃদু কাঁপন।
নগরে শীতের মেলা
পাটিসাপটা, পুলিদের শহরে 
প্রেমিক বেঁচে নেই
শীতের শীৎকারে ঝরে গেছে দেবদারুর মতো। 

 

দুই. নীল চন্দ্রবিন্দু ও তিনি

তিনি নীল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন গলির শেষ সীমানায়
নীলের ভেতর অদ্ভুত এক মায়া ঢেউ খেলছিল 
যেন সারা রাত ঘন বর্ষণের পর-
সাঁজের প্রথম শিউলি ফুটেছিল এ পাড়ায়।

তিনি নীল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন
হাতে ছিল দুটি কাঠের চুড়ি। হ্যান্ডপেইন্টের কাজ।
চোখে কাজলের রেখা নেই, ঠোঁটের রঙে গাঢ়ত্ব নেই।
গালে ভারি কনট্যুরিং নেই, মেকআপের স্তর নেই।
কেবল কপালে ছিল চন্দ্রবিন্দুর মতো তিলক।
যেন মধুমালতীর মতো ফুটেছিল লাল হয়ে।

ঠিক পথের ধারে
নীল বসনের মায়া
নীল কিন্তু
তবুও যেন মায়াবি রঙিন।
বুকে প্রেম ছিল। প্রেমের জলে খেলেছিল দুটি আয়তাকার চোখ।

 

তিন. মা মা গন্ধ

দিদিদের শরীরে কেমন যেন মা মা গন্ধ থাকে
মায়েদের শরীরে রুটি-রুটি গন্ধ, খিচুড়ি-খিচুড়ি গন্ধ, 
মাছের ঝোলের গন্ধ।
আঁচলের গন্ধগুলো ঘাম হয়ে নুয়ে পড়ে।
সেই ঘামেও মমতারা চিক চিক করে।

মায়েদের হাতের কাঁকনে সংসার-সংসার গল্প থাকে
একদিন দিদিরা খালি হাতে কাঁকন পরে নেয়
লাল লিপস্টিকে রাঙায় ঠোঁট। 
মায়েরা লাল ছেড়ে সাদা শাড়ি পরে।
দিদিরা মা হয়ে ওঠে
মায়েরা দীর্ঘশ্বাসের পাহাড় নিয়ে পাতার মতো বিবর্ণ হয়ে যায়।
দিদিরা
মায়েরা
গাছ হয়ে যায়।
আর গাছেদের বুকের আর্তনাদ কারও কানে পৌঁছায় না।

চার. বিষাদ ছোঁয়ানো চোখ

তার বিষাদ ছোঁয়ানো চোখ, 
এক সমুদ্র ভরা জল বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
আছে দেবদারুর মতো শূন্যতার দুপুর,
খাঁ খাঁ রোদ্দুর বয়ে বেড়ানো ছাদ।
চেলি কাঠের মতো শরীর নিয়ে -
বুকে জমাট বেধে রেখেছে কয়েক লক্ষকাচের পাহাড়। 
দিনের পর দিন, মাসের পর মাস যন্ত্রণার চাবুক সহ্য করে
মিষ্টি কুমড়ার মতো-
ফেটে যেতে চায় নীল আঘাতের ছেদচিহ্নরা
আঘাতের বুকে কোমল হাত বুলিয়ে সে বলে, 
‘জোনাকির মতো জ্বলে ওঠো। আলো দাও’। 

সে নীরব লরেল গাছের মতো কাঁদে। 
তবুও দাঁড়িয়ে থাকে একা।

 

পাঁচ. ব্রেইন ফগ নয়

ভুলে যাওয়ার অসম্ভব রকমের ক্ষমতা নিয়ে
আমার জন্মফুল ফুটেছে পৃথিবীর উর্বর জমিতে।
'ভুলে যাওয়া' আমার সিঁথির সিঁদুর, কপালের টিপ।
ভুলে গেলে বেঁচে থাকা যায়
ভুলে গেলে যন্ত্রণাগুলো মরা পাতার মতো উড়ে যায়।
পাথরকুচি পাতার মতো যেসব কষ্টরা লেলিহান ছড়ায়,
ভুলে যাওয়া সেগুলো দূর করে।

আমি বারংবার এই ভুলে যাওয়া রোগেই আক্রান্ত হতে চাই,
যেন তোমাকে টেনে হিঁচড়ে শরীর থেকে বের করতে পারি,
যেন কোনো দিন আর কোনোদিন 
হৃদয়ে কোমল প্রেমের চারা না জন্মে।
এমন করে ভুলে যেতে চাই
যেন কোনো দিন তোমার সাথে দেখা হয়নি, 
চলা হয়নি, 
যেন কোনো দিনও তোমার খুব কাছে যাইনি। 

তুলসী তলার প্রদীপ জ্বলুক, মরা গাছে প্রাণ ফিরুক,
কার্তিকের ধানের ছড়াগুলোয় কাঁচা রোদ পড়ুক।
আমি সেই রোদে হৃদয় বিছাব।
বিষণ্ণ মগজটাকে আলতো রোদে শুকিয়ে নেব।
পেছনের যত স্মৃতির জোনাক আছে, স...ব ভুলে যাব।

জা,ই

সর্বশেষ