৫ বছর মেয়াদি প্রকল্পে সাড়ে তিন বছরে অগ্রগতি নেই | বিজনেস | Aporup Bangla | বাংলার প্রতিধ্বনি
ঢাকা | বৃহঃস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৮ আশ্বিন ১৪২৮
বিজনেস

৫ বছর মেয়াদি প্রকল্পে সাড়ে তিন বছরে অগ্রগতি নেই

অপরূপ বাংলা প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ মার্চ ২০২১ ২২:৩০ আপডেট: ২২ মার্চ ২০২১ ০৯:১৪

অপরূপ বাংলা প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ২১ মার্চ ২০২১ ২২:৩০


ফাইল ছবি

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছিল ২০১৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর হতে ২০২২ সালের ৩০ জুন। তবে এখন অবদি প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ এবং ভূমি অধিগ্রহণের আংশিক কাজ ছাড়া কিছুই হয়নি। প্রায় সাড়ে ৩ বছরে বাস্তব অগ্রগতি শূন্য নিজেই স্বীকার করেছেন প্রকল্প পরিচালক।

ঢাকা-সাভার-আশুলিয়া এলাকার যানজট নিরসনকল্পে ‘ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬৯০১ দশমিক ৩২ কোটি টাকা, তারমধ্যে ভৌত নির্মাণ ব্যয় ১০৯৪৯ দশমিক ৯ কোটি টাকা।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি বা একনেক সভায় ২০১৭ সালের ২ নভেম্বর ‘ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদিত হয়। একই বছরের ২৯ নভেম্বরে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট এন্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের (সিএমসি) সাথে বাসকের বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

তাই প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত করার চিন্তাভাবনা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে ব্যয় যেমন বাড়বে তেমনি প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রিতাও তৈরি হবে। প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্যে ছিল ঢাকা শহর এবং আশুলিয়া-সাভার এলাকায় যানজট নিরসন করা। প্রকল্পটি এশিয়ান হাইওয়ের সাথে সরাসরি সংযুক্ত হয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগসহ আন্তঃদেশীয় সড়ক যোগাযোগ সুবিধা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্পটি জি টু জি পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন করবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ধীন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পের ৮৫ শতাংশ লোন দেবে চায়না সরকার। প্রকল্পের মূল কাজ করবে চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট এন্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন।

চুক্তি অনুযায়ী দুটি লোন প্রস্তাব অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ-ইআরডিতে দেওয়া হয়। চুক্তি দুটির মধ্যে ২০১৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর এবং ২০১৮ সালের ২১ অক্টোবর প্রস্তাব দুটি পাঠানো হয়। নানা জটিলতায় চীন সরকার অর্থ ছাড়ে বিলম্ব করে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন চলতি মাসের শেষ দিকে বা আগামী মাসের মধ্যে চীন সরকার লোন প্রস্তাবে চুক্তি করবেন। এরপর মূলত কাজ শুরু হবে। প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্রিশ্চিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (সিসিডিবি)।

ভূমি অধিগ্রহণ অগ্রগতি:

গাজীপুর জেলা অংশে ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে। ঢাকা জেলার অংশে ২৪ কিলোমিটারের মধ্যে প্রথম ১২ কিলোমিটারে অংশের চূড়ান্ত প্রস্তাব অনুমোদন ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রক্রিয়াধীন এবং দ্বিতীয় ১২ কিলোমিটার অংশে যৌথ জরিপ কাজ চলমান। আগামী ৫-৬ মাসের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হবে।

তবে প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি যাই হোক ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১২৪৮ দশমিক ৫২ কোটি খরচ হয়ে গেছে। তারমধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ খরচ হয়েছে ১২২৪ কোটি টাকা। ভূমি অধিগ্রহণের আরও ব্যয় হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পরামর্শক খরচ সব ধরেই ১২৪৮ দশমিক ৫২ কোটি।

প্রকল্প পরিচালক মো. শাহাবউদ্দিন বার্তা২৪.কম-কে বলেন, প্রকল্পটা হলো জি টু জি। বাংলাদেশ সরকার আর চায়না সরকারের মধ্যে চুক্তি। সিভিল ওয়ার্কের ৮৫ শতাংশ লোন দেবে চায়না সরকার। লোনটা ২০২০ সালের নভেম্বরে তারা পাস করেছে। এখন বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সঙ্গে চুক্তি হবে। যে কারণে কাজটা হয়নি। কাজেই লোন চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তো ঠিকাদারকে বলা যায় না। চুক্তিতে বলা আছে যেদিন থেকে লোন এগ্রিমেন্ট হবে সেদিন থেকে চুক্তিটা কার্যকরী হবে।

কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ফিজিক্যাল ওয়ার্ক তো নাই, জিরো। ফিজিক্যাল ওয়ার্ক শুরুই করি নাই। ভূমি অধিগ্রহণ তো অগ্রগতিতে ধরা যাবে না। তবে সব প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণের সময়ক্ষেপণ হয় সেদিক থেকে আমার ভূমি অধিগ্রহণ করেই কাজটা শুরু করতে পারব।

তিনি বলেন, যেহেতু সাড়ে তিন বছর চলে গেছে আমরা ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলেছি যতদ্রুত কাজটা করা যায়া। তারাও সম্মত হয়েছে। লোন চুক্তি থেকে ধরলে এই প্রকল্প ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে শেষ হবে। জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির কারণে ব্যয় ৫-৭ শতাংশ বাড়তে পারে। ভূমি অধিগ্রহণ ও বেতন ভাতাসহ প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ১০ শতাংশ। এর মধ্যে ২৩ কোটি টাকা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনজিওকে দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পে যা থাকছে:

৪ লেন বিশিষ্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ২৪ কিলোমিটার। ২ লেন ল্যাম্প (৭+৭) ১৪টি ১০ দশমিক ৮৪৩ কিলোমিটার। ৪ লেন বিশিষ্ট এটি গ্রেড সড়ক (২ লেন+ ২ লেন) মোট ১৪ দশমিক ২৮ কিলোমিটার, ২ লেন বিশিষ্ট নবীনগর ফ্লাইওভার (২টি) ১ দশমিক ৯১৫ কিলোমিটার, ৪ লেন বিশিষ্ট সেতু ২ দশমিক ৭২ কিলোমিটার, ড্রেনেজ এবং ডাক্ট ১৮ কিলোমিটার।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে তা দেশের বিদ্যমান মহাসড়ক এন-১ (ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক), এন-২ (ঢাকা সিলেট মহাসড়ক), এন-৩ (ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক), এন-৪ (ঢাকা জামালপুর মহাসড়ক), এন-৫ (ঢাকা মানিকগঞ্জ তেঁতুলিয়া মহাসড়ক), এন-৮ (ঢাকা মাওয়া বরিশাল মহাসড়ক) এর সাথে সংযোগ স্থাপন করে মহাসড়কের আন্তঃযোগাযোগ বৃদ্ধি করবে।

প্রকল্পটি নির্মাণাধীন ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এর সাথে ঢাকা বিমানবন্দর এলাকায় সংযুক্ত হবে এবং এর মাধ্যমে বনানী মহাখালী হয়ে চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত অনায়াসে যাতায়াত করা যাবে অর্থাৎ ইপিজেড হতে বাইপাইল আশুলিয়া আব্দুল্লাহপুর এয়ারপোর্ট বনানী তেজগাঁও মগবাজার কমলাপুর হয়ে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসের মাধ্যমে যানজটমুক্ত ভাবে চলাচল করা সম্ভব হবে। ফলে ঢাকা শহরের যানজট বহুলাংশে হ্রাস পাবে।

সাভার গাজীপুর কালিয়াকৈর ও ইপিজেড’র মত শিল্পাঞ্চলের যানবাহনসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের যানবাহন সরাসরি ঢাকা শহরের মধ্য দিয়ে এই এক্সপ্রেস’র মাধ্যমে অনায়াসে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে পারবে এমনকি দিনের বেলাতেও মালবাহী ট্রাক ট্রলি প্রভৃতি যানবাহন বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে যা আমদানি-রফতানিতে প্রভাব ফেলে দেশের জিডিপিতে সরাসরি অবদান রাখবে।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top