বাড়িভাড়া সমস্যার সমাধান যখন হাতের নাগালে! | বিজনেস | Aporup Bangla | বাংলার প্রতিধ্বনি
ঢাকা | মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৬ আশ্বিন ১৪২৮
বিজনেস

বাড়িভাড়া সমস্যার সমাধান যখন হাতের নাগালে!

বিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩ এপ্রিল ২০২১ ০৮:৩৯ আপডেট: ৩ এপ্রিল ২০২১ ০৮:৪১

বিজনেস ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩ এপ্রিল ২০২১ ০৮:৩৯


 বাড়ি ভাড়ার প্রতীকি ছবি

এ শহরের অনেকেরই আয়ের মূল উৎস বাড়িভাড়া। বিশেষ করে বৃদ্ধ বয়সে অনেকেই বাড়ি ভাড়ার আয় থেকে জীবিকা নির্বাহ করেন। তেমনই একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আবীর চৌধুরী(৫৮)। জীবনভর তিনি স্বনির্ভরতাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। অবসরের পরও তিনি নিজ নীতিতে অটল। বাড়িভাড়া ও পেনশনের টাকাতে তাঁর ও তাঁর স্ত্রী’র দৈনন্দিন খরচ চলে যায়। তবে আবীর চৌধুরী বেশ গুরুতর এক সমস্যায় পড়েছেন।

বর্তমানে তিনি স্ত্রী সহ উত্তরায় থাকেন। ধানমন্ডি ২৮ নাম্বারে তাদের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। প্রায় ৫ বছর ধরে ধানমন্ডির ফ্ল্যাটটি রহমান সাহেবের কাছে ভাড়া দেয়া ছিলো। বিশ্বস্ত একজন ভাড়াটিয়া থাকায় ফ্ল্যাটটির ব্যাপারে আবীর চৌধুরীকে তেমন কোনো দুশ্চিন্তা করতে হয়নি, ভাড়াও পেয়েছেন সময়মতো। কিন্তু এক মাস আগে রহমান সাহেব জানিয়েছেন,তার নিজের বাসা রেডি হয়ে যাওয়ায় অক্টোবরে তিনি ভাড়া ফ্ল্যাটটি ছেড়ে দিবেন। এতেও আবীর চৌধুরী প্রথমে বিচলিত হননি। ভেবেছিলেন, ধানমন্ডির মতো জায়গায় ভাড়াটিয়া পাওয়া সহজ হবে।

কিন্তু একমাস ভাড়াটিয়া খোঁজার পরই আসল সমস্যাটি তিনি বুঝতে পারলেন। সম্ভাব্য ভাড়াটিয়াদের আগ্রহের কমতি নেই, তবে তিনি যেমনটি চাইছেন তেমন ভাড়াটিয়া খুঁজে পাওয়ার প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। প্রথম সমস্যা হলো, যারা ভাড়া নিতে চাইছেন তারা প্রথমেই ফ্ল্যাট দেখতে আসতে চান। ফ্ল্যাট দেখানোর জন্য বারবার উত্তরা থেকে ধানমন্ডি আসা পঞ্চাশোর্ধ্ব আবীর চৌধুরীর জন্য একেবারেই সহজ নয়। তার ওপর গত মার্চ থেকে দেশে করোনার যে প্রকোপ চলছে, তাতে ঘর থেকে বের হওয়া, গণপরিবহণ ব্যবহার করা ও অপরিচিত ব্যক্তিদের বাড়ি ঘুরে দেখানো- প্রতিটি ব্যাপারই তাঁর জন্য ভীষণ ঝুঁকিপূর্ণ। এসব ঝুঁকি মেনে নিয়ে কিছুদিন তিনি বাড়ি দেখিয়েছেনও বটে। কিন্তু ক্রমেই বুঝতে পেরেছেন, মহামারীর ঝুঁকি ছাড়াও এমনিতেই এভাবে যাতায়াত করা তাঁর জন্য বেশ কঠিন। কীভাবে দ্রুততম সময়ে উপযুক্ত ভাড়াটিয়া খুঁজে পাওয়া সম্ভব এসব নিয়ে তাই সারাদিনই দুশ্তিন্তা করতে হচ্ছে তাঁকে।

আবীর চৌধুরীকে প্রথম বিপ্রপার্টির সন্ধান দিলেন তাঁর মেয়ে আদিলা। কাস্টমার কেয়ারে ফোন দিয়ে তিনি নিজেই ফ্ল্যাটের বিস্তারিত জানালেন। প্রপার্টি ক্রয়-বিক্রয় ও ভাড়া দেয়া-নেয়ার প্রতিটি ধাপকে গ্রাহকদের জন্য সহজ করে তোলাই যে বিপ্রপার্টির লক্ষ্য সে বিষয়ে জানলেন সেখান থেকেই। এরপর বিপ্রপার্টির সাথে শুরু হলো তাঁর বাড়ি ভাড়া দেয়ার যাত্রা। সেদিনই বিপ্রপার্টির একজন সেলস অ্যাডভাইজর আবীর চৌধুরীকে ফোন করলেন ও কীভাবে বিপ্রপার্টির মাধ্যমে তাঁর ফ্ল্যাটটি ভাড়া দেয়া হবে সেটি জানালেন। ভার্চুয়াল ট্যুরের মাধ্যমে সম্ভাব্য ভাড়াটিয়াদের বাড়ি দেখানোর ব্যবস্থা হয়ে যাবে জেনে তিনি সত্যিই দারুণ আশ্বস্ত হলেন। এমনকি কেউ যদি বাড়ি সশরীরে ঘুরেও দেখতে চান, সে ব্যবস্থাও বিপ্রপার্টির এজেন্টই করবে। এটি জেনে আবীর চৌধুরী তো বটেই, তাঁর স্ত্রী ও পরিবারও যেন কিছুটা ভারমুক্ত হলেন। এ সম্পর্কে আবীর চৌধুরী বলেন, ‘ভাড়াটিয়াদের বাড়ি দেখানোর জন্য বারবার ধানমন্ডি আসা আমার জন্য কঠিন ছিলো। কোনো ভাড়াটিয়া ছুটির দিনে বাড়ি দেখতে চায়, কেউ অফিস আওয়ারের পরে সন্ধ্যায় দেখতে চায়। এই বয়সে এত ঝামেলা নেয়াটা আমার জন্য সম্ভবপর হচ্ছিলো না।’

সাত দিনের মাথায় বিপ্রপার্টির এজেন্টের সহায়তায় আবীর চৌধুরীর পছন্দমতো একজন ভাড়াটিয়াও খুঁজে পাওয়া গেলো। ফোনে ভাড়াটিয়ার সাথে কথা বলে তিনি বুঝতে পারলেন, বিপ্রপার্টি তাঁকে ঠিক তাঁর প্রত্যাশিত ভাড়ায়, ছোট পরিবারসহ উপযুক্ত একজন ভাড়াটিয়াই খুঁজে দিয়েছে।

বাড়ি ভাড়ার চুক্তিপত্র থেকে শুরু করে অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরির দায়িত্বও বিপ্রপার্টিই নেয়। এ ব্যাপারে আবীর চৌধুরী বলেন, ‘আগের ভাড়াটিয়ার সাথে আমার কোনো চুক্তিপত্র ছিলো না। কিন্তু আমি চাইছিলাম এবার যেন চুক্তিপত্রের মাধ্যমে সব কিছু গুছিয়ে করা হয়। কীভাবে সেসব করবো এসব নিয়ে চিন্তিতও ছিলাম। তবে যখন দেখলাম ভাড়াটিয়াদের বাড়ি দেখানো থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ বিনা খরচে চুক্তিপত্র তৈরি করে দেয়ার দায়িত্বও বিপ্রপার্টি নিয়েছে, আমি সত্যিই ভীষণ আশ্বস্ত হয়েছি।’

নির্ধারিত দিনে বিপ্রপার্টির ধানমন্ডিস্থ মার্কেটপ্লেসে আবীর চৌধুরী ও তাঁর নতুন ভাড়াটিয়া বাড়ি ভাড়ার চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এভাবে সম্পূর্ণ নির্ঝঞ্ঝাটে, খুব সহজেই নিজের বাড়িটি ভাড়া দিয়েছেন তিনি। তবে এখানেই বিপ্রপার্টির সাথে আবীর চৌধুরীর যাত্রা শেষ নয়। বিপ্রপার্টি এনেছে ভাড়া দেয়া-নেয়ার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, পে-রেন্ট। ফলে আবীর চৌধুরীর মতো যাদের জন্য ভাড়া সংগ্রহের ব্যাপারটি ঠিক সহজ নয়, তারা সহজেই বাড়ি ভাড়া নিতে পারেন এই অ্যাপটির মাধ্যমে।

প্রপার্টি সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যার সমাধান দিতে এভাবেই পাশে আছে বিপ্রপার্টি।বাড়ি ভাড়া দেয়ার জটিল সব ধাপ বিপ্রপার্টির সাহায্যে হয়ে যাচ্ছে সম্পূর্ণ সহজ।

 




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top