খুলনার হাসপাতালগুলোতে এ্যাম্বুলেন্স সংকট | দেশজুড়ে | Aporup Bangla | বাংলার প্রতিধ্বনি
ঢাকা | বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ৫ কার্তিক ১৪২৮
দেশজুড়ে

খুলনার হাসপাতালগুলোতে এ্যাম্বুলেন্স সংকট

শরীফা খাতুন শিউলী, খুলনা অফিস

প্রকাশিত: ২১ ডিসেম্বর ২০২০ ১৪:৪৮ আপডেট: ২১ ডিসেম্বর ২০২০ ১৪:৪৯

শরীফা খাতুন শিউলী, খুলনা অফিস | প্রকাশিত: ২১ ডিসেম্বর ২০২০ ১৪:৪৮


অ্যাম্বুলেন্স ফাইল ছবি

বিভাগীয় শহর হিসেবে বরাবরই বেশি সুযোগ সুবিধার আশায় দক্ষিণাঞ্চলের অনেক মানুষ চিকিৎসা নিতে আসে খুলনার সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে। রোগীদের আনা-নেওয়ার কাজে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যবহার হয় এ্যাম্বুলেন্স। কিন্তু চিকিৎসা নিতে আসা মুমূর্ষু রোগীদের বিপদের সুযোগ নিয়ে এ্যাম্বুলেন্সে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে একটি মহল। নগরীর ভেতরে ও বাইরে যে কোন জায়গায় যেতে গেলেই রোগীর স্বজনদের গুনতে হচ্ছে মোটা অংকের টাকা। একদিকে চিকিৎসার খরচ অন্যদিকে রোগী বহনের জন্য এ্যাম্বুলেন্সের বাড়তি ভাড়া। সব মিলিয়ে বড় ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্বজনদের।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্সে যে কোন স্থানে রোগী বহনের জন্য প্রতি কিলোমিটারে ১০ টাকা হারে ভাড়া আদায়ের নিয়ম রয়েছে।  কিন্তু খুলনায় বেসরকারি এ্যাম্বুলেন্স চালকদের সাথে তাল মিলিয়ে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে সরকারি এ্যাম্বুলেন্সের চালকরাও। অনেকের অভিযোগ সরকারি ও বেসরকারি এ্যাম্বুলেন্সের চালকদের নিয়ে গড়ে উঠেছে একটি সিন্ডিকেট । সরকারি এ্যাম্বুলেন্সের কথা বললেই রোগীর স্বজনদের বলা হয় তা নষ্ট এবং পাঠিয়ে দেওয়া হয় বেসরকারি পরিবহনে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসেন হাজারো মানুষ। এ হাসপাতালে সরকারি এ্যাম্বুলেন্স রয়েছে মাত্র দু’টি।

 কিন্তু হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় ভেতরে ও বাইরে সব মিলিয়ে প্রায় অর্ধ শতাধিক এ্যাম্বুলেন্স।

 হাসপাতালের প্রবেশদ্বারে ওত পেতে বসে থাকে এসব পরিবহনের চালকরা।

 হাসপাতাল থেকে রোগী বের হওয়ার সাথে সাথে কোন এ্যাম্বুলেন্স যাবে তা নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয় রীতিমত। আবার কেউ কেউ হাসপাতালের নিচ তলায় রোগীর স্বজনদের সাথে আগে থেকেই যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। শুরু হয় ভাড়া নিয়ে দর কষাকষি। শুধুমাত্র খুমেক হাসপাতাল নয় নগরীর বেশির ভাগ সরকারি হাসপাতালগুলোর সামনে একই অবস্থা দৃশ্যমান।

খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মুন্সি মোঃ রেজা সেকেন্দার বলেন, এ হাসপাতালে এ্যাম্বুলেন্স সংকট রয়েছে।সরকারিভাবে মাত্র দু’টি এ্যাম্বুলেন্স চলাচল করছে। কিন্তু আরও দু’টি এ্যাম্বুলেন্স এখন জরুরি। এছাড়া যেসব বেসরকারি এ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালের ভেতরে থাকে, তাদেরকে বাইরে থাকার জন্য বার-বার বলার পরও কোন কাজ হচ্ছে না। এর আগে তাদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপও নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে হাসপাতালে আনসার বাহিনী নিয়োগ হয়েছে।

 এসব কার্যক্রম বন্ধের জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

বেসরকারি এ্যাম্বুলেন্স চালকদের পাশাপাশি বর্তমানে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার থেকে বেশি টাকা আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একধিক এ্যাম্বুলেন্স চালক জানান, সরকারি এ্যাম্বুলেন্সে রোগী বহনের জন্য যে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে, চালকরা তার থেকে বেশি ভাড়া আদায় করে থাকেন। আর রোগীর স্বজনরা তাদের সরকার নির্ধারিত ভাড়ার কথা বললে জবাবে বলা হয় সরকারি এ্যাম্বুলেন্স নেই বা নষ্ট রয়েছে।

খুলনা এ্যাম্বুলেন্স চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাছুদুর রহমান বাগা জানান, বর্তমানে খুমেক হাসপাতালের আশপাশে প্রায় অর্ধ শতাধিক এ্যাম্বুলেন্স চলে। তবে আমাদের কোন প্রকার ভাড়া নির্ধারণ করা নেই। যে যার ইচ্ছামতই রোগীর স্বজনদের সাথে কথা বলে ভাড়া নির্ধারণ করে। তবে কারো কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হয় না বলে জানান তিনি।

খুলনা সিভিল সার্জন অফিস থেকে দেওয়ার তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৯টি সরকারি হাসপাতালের বর্তমানে মোট ২৩টি এ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চলছে ১৪টি। খুলনা জেনারেল হাসপাতালে আছে ৫টি এ্যাম্বুলেন্স। কিন্তু সচল রয়েছে মাত্র ২টি। তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩টি এ্যাম্বুলেন্সের ২টি সচল রয়েছে, দিঘলিয়া ও রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দু’টি করে এ্যাম্বুলেন্স থাকলেও সচল রয়েছে ১টি করে, ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩টির মধ্যে দু’টি সচল রয়েছে, কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩টি এ্যাম্বুলেন্সের ১টি সচল রয়েছে। এ রকমই বেশিরভাগ সরকারি হাসপাতাল গুলোতে রয়েছে এ্যাম্বুলেন্সের সংকট।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর খুলনার পরিচালক ডাঃ রাশেদা সুলতানা জানান, খুলনা বিভাগের সব হাসপাতালেই এ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। এ্যাম্বুলেন্সের তেমন সংকট না থাকলেও কিছু দালাল চক্রের কারনে সাধারণ মানুষ বেসরকারি এ্যাম্বুলেন্সের ঝুঁকে পড়েন।তবে সরকারি এ্যাম্বুলেন্সের কোন চালকই সরকার নির্ধারিত ভাড়া ছাড়া টাকা নিতে পারবেন না। যদি কারো বিরুদ্ধে এ ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসে তাহলে সাথে সাথে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান বিভাগের শীর্ষ এ কর্মকর্তা।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top