বাঁধ মেরামত না হওয়ায় সাংসদের উপর ক্ষোভ ঝাড়লেন স্থানীয়রা | দেশজুড়ে | Aporup Bangla | বাংলার প্রতিধ্বনি
ঢাকা | বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ৫ কার্তিক ১৪২৮
দেশজুড়ে

বাঁধ মেরামত না হওয়ায় সাংসদের উপর ক্ষোভ ঝাড়লেন স্থানীয়রা

খুলনা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১ জুন ২০২১ ২০:৩৮ আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২১ ১৩:০৩

খুলনা প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ১ জুন ২০২১ ২০:৩৮


ক্ষুদ্ধ  এলাকাবাসীর মাঝে স্থানীয় সাংসদ

খুলনার কয়রা উপজেলার দশহালিয়া এলাকার ভেঙে যাওয়া বাঁধ টানা তিন দিন চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে স্থানীয় মানুষ। মঙ্গলবার বাঁধ মেরামত কাজ চলা অবস্থায় সেখানে স্থানীয় সংসদ সদস্য উপস্থিত হলে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন ভুক্তভোগীরা। এ সময় তারা সাংসদের ট্রলারে মাটি ও কাদা নিক্ষেপ করেন। পরে সেখানে উপস্থিত গণ্যমান্য লোকজন পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় বাঁধ মেরামত কাজ বিলম্বিত হয়।

এ ব্যাপারে সাংসদ আকতারুজ্জামান বাবু বলেন, বাঁধ মেরামত বিলম্বিত হওয়ায় সেখানকার কিছু মানুষ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। পরে তাদের সাথে কথা বলে নিবৃত করা হয়েছে। মানুষ তাদের অসুবিধার কথা জানিয়েছেন। আমিও তাদেরকে আশ্বস্ত করেছি দ্রুত বাঁধ মেরামতের বিষয়ে।

তিনি আরও বলেন, আমরা জনপ্রতিনিধিত্ব করি। এ কারণে মানুষের দাবীটাও আমাদের কাছে বেশি থাকে। এ জন্য আমাকে দেখে দ্রুত বাঁধ মেরামতের দাবী তুলেছেন তারা। এটা তাদের নায্য দাবী।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন লাবলু জানান, ইয়াসের প্রভাবে বুধবার ইউনিয়নের দশহালিয়া এলাকার বাঁধ ভেঙে ১৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়। গত তিনদিন ধরে স্থানীয় মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে ওই বাঁধ মেরামতের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সংসদ সদস্য ট্রলার যোগে মেরামত কাজ পরিদর্শনে আসলে মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা সাংসদের ট্রলারে ঢিল ছুড়ে মারতে থাকে। পরে তাদেরকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

তিনি বলেন, ‘আজকে (মঙ্গলবার) হয়তো মেরামত কাজ সম্পন্ন করা যেত। কিন্তু এ ঘটনার কারণে সম্ভব হয়নি। লোকজন কাজ ছেড়ে চলে যায়।’

বাঁধ মেরামত কাজে আসা লোকজন বলেন, বাঁধ মেরামত করা যাদের দায়িত্ব তারা কেউ এগিয়ে আসে না। আমরাই ক্ষতিগ্রস্ত হই, আবার আমাদেরকে বাঁধ মেরামতের দায়িত্ব নিতে হয়। তাহলে জনপ্রতিনিধি ও কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব কি এটা তারা জানতে চায়। আমরা জেনেছি সাংসদের লোকজন এ বাঁধ সংস্কারের দায়িত্ব পান। তাদের অবহেলায় আজ এমন পরিস্থিতি বলে অভিযোগ মানুষের।

এ ব্যাপারে পাউবোর উপ সহকারি প্রকৌশলী মশিউল আবেদীন বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়া আমাদের করার কিছু থাকে না। এর পরও মেরামত কাজের জন্য বস্তা, বাঁশ ও অন্যন্য সরঞ্জমাদি সরবরাহ করা হয়েছে। সেই সাথে সার্বক্ষনিক টেকনিকাল সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছি আমরা।

মেরামত কাজ চলাকালিন লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়া সম্পর্কে তিনি বলেন, এমপি আসায় লোকজন বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন বলে শুনেছি। ঘটনার সময় আমি একটু দুরে ছিলাম।

কয়রার ইউএনও অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। শুনেছি দশহালিয়ার বাঁধ মেরামতে যাওয়া লোকজন বিক্ষোভ করেছে।

গত তিন দিন ওই বাঁধ মেরামত কাজে অংশ নেওয়া কয়রা উপজেলা চেয়ারম্যান এস,এম শফিকুল ইসলাম বলেন, বিলের ভিতর দিয়ে রিং বাঁধার জন্য আমরা কয়েক শত মানুষ এক সঙ্গে কাজ করছিলাম। এমন সময় হাক চিৎকার শুনে নদীর ঘাটে এগিয়ে দেখি সাংসদের বহনকারি ট্রলারে ঢিল ছুড়ে মারছে লোকজন। অনেক বুঝিয়েও তাদের নিবৃত করা যায়নি। পরে তারা কাজ ছেড়ে চলে যান।

এদিকে ওই বাঁধ মেরামত না হওয়ায় মহারাজপুর ইউনিয়নের ১৩টি গ্রামসহ পাশের বাগালি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে। জোয়ারে প্রতিদিন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে।

 




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top