মুক্তি পেতে জেলে যেতে চান কাদের মির্জা | দেশজুড়ে | Aporup Bangla | বাংলার প্রতিধ্বনি
ঢাকা | বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৬ আশ্বিন ১৪২৮
দেশজুড়ে

মুক্তি পেতে জেলে যেতে চান কাদের মির্জা

অপরূপ বাংলা প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ মার্চ ২০২১ ১৩:৫১ আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৪:২৫

অপরূপ বাংলা প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ১২ মার্চ ২০২১ ১৩:৫১


আবদুল কাদের মির্জা

সাম্প্রতিক সময়ে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। বসুরহাট পৌর নির্বাচনের আগে থেকেই সেখানকার পরিস্থিতি ঘোলাটে হতে থাকে। এ পরিস্থিতির কেন্দ্রে রয়েছেন নির্বাচনে জয়ী মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। নিজের রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীকে নিয়ে তিনি একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে কোম্পানীগঞ্জে হামলা-পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

সবশেষ ৯ মার্চ রাতে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আলাউদ্দিন নামে এক সিএনজিচালক নিহত হন। ওই ঘটনায় বসুরহাট পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জাকে প্রধান আসামি করে বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) রাতে একটি হত্যা মামলা করতে চেয়েছিলেন নিহতের ভাই এমদাদ হোসেন। এতে ১৬৪ জনের নাম উল্লেখ করেছিলেন তিনি। মামলাটি গ্রহন করা হয়নি।

এমন পরিস্থিতিতে পুলিশ মামলা নিলে কাদের মির্জার গ্রেফতার হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন অনেকেই। তবে গ্রেফতার নিয়ে মোটেও শঙ্কিত নন তিনি। গ্রেফতারের গুঞ্জন নিয়ে জানতে চাইলে কাদের মির্জা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গ্রেফতার হলে অসুবিধা কী? ১৯৮২ সালে এরশাদবিরোধী আন্দোলন করে গ্রেফতার হয়ে একমাস ডিটেনশনে ছিলাম। এর পরবর্তী পর্যায়ে আমি শত শত দিন জেলখানায় ছিলাম। আমি জেলে যাব মুক্তি পাওয়ার জন্য। সেল হল রাজনীতিবিদদের জন্য সোনার হরিণ।’ 

‘সেখানে যেতে হবে। আমি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। যারা চুরি করে নির্বাচিত হয় তাদের সঙ্গে কি আমাদের শপথ নিতে হয় না? ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা মামলা দিয়ে যদি আমাকে জেলখানায় খারাপ লোকজনের সঙ্গে রাখা হয়, তাহলে কী আর করার আছে? আর এই দেশে তো সেই বিচার নাই। অতীতেও ছিল না। কোনোকালেই কোনো সরকারের আমলেই ছিল না। অন্যায়ভাবে মানুষকে জেলে নিক্ষেপ করা হয়েছে। আমাকে অন্যায়ভাবে জেলে নিক্ষেপ করা হলে আমি মাথা পেতে নেব।’

জেলে গেলে সমর্থকদের উদ্দেশে কী বার্তা থাকবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার সমর্থকদের উদ্দেশে আমি বলব, তোমরা শান্ত থাকবে, তোমরা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেবে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে কিছু প্রোগ্রাম আমি আয়োজন করেছি, সেগুলো তারা করবে। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন যেন শতভাগ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হয় সে লক্ষ্যে তারা কাজ করবে।’

নোয়াখালীর বসুরহাটের পরিস্থিতির জন্য কারা দায়ী জানতে চাইলে কাদের মির্জা বলেন, ‘যারা অপরাজনীতি করে তারাই এর জন্য দায়ী। নিজাম হাজারী তো আমাদের জেলার লোক নয়। কিন্তু তথাকথিত সাধারণ সম্পাদক নুর নবী একটি সমাবেশে বলছেন নিজাম হাজারী উনাকে ফোন দিয়েছেন, এখানে অফিস করতে যত টাকা লাগবে নিজাম হাজারী দেবে। নিজাম হাজারী অন্য জেলার লোক, এখানে উনার কী কাজ? এ কথা তো আমাদের জেলার সভাপতি বলতে পারেন, উনি কেন বলবে। যদিও নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে আমি মানি না। এ কমিটির এখনও অনুমোদন দেওয়া হয়নি। কিন্তু নিজাম হাজারী কেন এ কথা বলবে। তারা সবাই মিলে অবৈধ অস্ত্র দিয়ে রাজনীতি করছে।’

‘আমি চাই গণতন্ত্রের চর্চা। বাংলাদেশে আমরা যদি গণতান্ত্রিক চর্চা করি, আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠিত করতে পারব। শুধু নোয়াখালী নয়, সারা দেশেই অপরাজনীতির কারণে আজ গণতন্ত্রের চর্চা নেই। আজ ভালো মানুষের কোনো দাম নেই। যারা এই সংগঠনের জন্য জীবন-যৌবন দিয়েছে, তারা আজ ঘরে ঢুকে গেছে। তারা আজ অবহেলিত ও লাঞ্ছিত। আর ভোগ করছে সুবিধাভোগীরা।’




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top