সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২ , ১৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৯

modhura
Aporup Bangla

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কাছে ১৭ মিলিয়ন ডলার বিক্রি

দিনকে দিন ডলার সংকট দীর্ঘ হচ্ছে

অর্থনীতি

অপরূপ বাংলা প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:৩৩, ৬ নভেম্বর ২০২২

আপডেট: ১১:০৩, ৬ নভেম্বর ২০২২

সর্বশেষ

দিনকে দিন ডলার সংকট দীর্ঘ হচ্ছে

ছবি/ সংগ্রহ

দেশের বাণিজ্য ঘাটতি আশঙ্কাজনক জায়গায়। রপ্তানির তুলনায় আমদানি বাড়ছেই। ফলে দীর্ঘই হচ্ছে ডলার সংকট। আমদানি বিল মেটাতে ডলারের চাহিদা ক্রমেই বাড়তে থাকায় পড়ছে টাকার দামও। রপ্তানি ও রেমিট্যান্স আয় বাড়াতে না পারায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও টান পড়েছে। ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।

আমদানি-রপ্তানির এলসি খুলতে পারছে না অনেক ব্যাংক। সুবিধা বেশি পাওয়ায় অবৈধ পথেই রেমিট্যান্সের অর্থ হুন্ডি করে পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিনিয়ত রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করেও পরিস্থিতির উন্নতি করতে পারছে না। এরমধ্যেই রিজার্ভ থেকে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নকে (আকু) আগামী সোমবার ১ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, কড়াকড়ির কারণে নতুনভাবে অর্ডারের পরিমাণ কিছুটা কমলেও রপ্তানি কমে যাওয়া এবং আমদানি অর্থপ্রদান বেড়ে যাওয়ায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে দেশের বাহ্যিক বাণিজ্য ঘাটতি বছরে ১১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৭ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। দেশের বাণিজ্য ঘাটতি সেপ্টেম্বরে ছিল ৩ বিলিয়ন ডলার, আগস্টে ২ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন এবং জুলাইতে ছিল ২ দশমিক ০৮ বিলিয়ন ডলার; অর্থাৎ ঘাটতি কেবল বেড়েছেই। যদিও একই সময়ে এলসি সেটেলমেন্ট বেড়েছে ৩১ দশমিক ৫৬ শতাংশ; এ সময় সেটেলমেন্ট হয়েছে ২২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের।

গত অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ের রপ্তানির তুলনায় দেশে আমদানি হয়েছে ৬ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার বেশি। এই বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে মোট আমদানি হয়েছে ১৯ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলারের, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১৭ দশমিক ৩২ বিলিয়ন। অন্যদিকে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি হয়েছে ১১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার, যা এক বছর আগের ১০ দশমিক ৫ বিলিয়ন থেকে বেশি।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, বাণিজ্য ঘাটতির অন্যতম কারণ রপ্তানি কমছে। রপ্তানিকারকরা এক্সপোর্ট প্রসিড প্রতি পাচ্ছে ৯৯ টাকা ৫০ পয়সা, অথচ তারই ব্যাক টু ব্যাক এলসি খুলতে ডলার কিনতে হচ্ছে ১০৪ থেকে ১০৫ টাকায়। তিনি বলেন, গত তিন মাসে সরকারের আমদানি ব্যারিয়ার ও ব্যয় কমানোর পদক্ষেপের কারণে


আমদানি এলসি খোলার হার অনেকটা কমেছে। সামনে আমদানির পরিমাণ আরো কমে আসবে। আমাদের রিজার্ভের সংকটের মধ্যে রেমিট্যান্স কমা খুবই আশঙ্কাজনক। এক মার্কেটে একাধিক ফরেক্স মার্কেট রেট কোনভাবেই কাম্য নয়। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত রেমিট্যান্সের ফ্লো বাড়াতে কার্ভ মার্কেটের সঙ্গে সমন্বয় করে রেমিট্যান্স রেট ঠিক করতে হবে।

তবে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত আমদানি তথ্য, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো প্রকাশিত রপ্তানি পরিসংখ্যান থেকে এক মাস পিছিয়ে আছে। প্রাপ্ত তথ্য থেকে দেখা গেছে, অক্টোবরে মাসিক রপ্তানি বছরে ৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ কমে ৪ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংক অক্টোবরে আমদানির তথ্য প্রকাশ করার পরেই এই সংখ্যার তুলনা করা যাবে।

এদিকে, দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে ডলার সঙ্কট। ডলার সংকট প্রকট হওয়ায় স¤প্রতি দাম নির্ধারণ করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এতেও সংকট কমেনি। দামও কমেনি। সে সময় ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ অথরাইজড ডিলারস এসোসিয়েশন (বাফেদা) মিলে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ডলারের দাম নির্ধারণ করে আসছে। কিন্তু ব্যাংক খাতেও এ দামে ডলার কিনতে পাওয়া যাচ্ছে না। আর ডলারের সর্বোচ্চ দাম বেঁধে দেয়ার পর প্রবাসী আয়ে বড় পতন হয়েছে।

ডলার সংকট কাটাতে ২০২১-২২ অর্থবছরে রিজার্ভ থেকে ৭ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই রিজার্ভ থেকে এক অর্থ বছরে এত ডলার বিক্রি করা হয়নি। আমদানি ব্যয় কমার পরও রিজার্ভের ওপর চাপ কমছে না। আগামী ৭ নভেম্বর এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন (আকু)-র পেমেন্ট পরিশোধ করলে দেশের রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়নের কিছুটা বেশি থাকবে। আকু’র সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মেয়াদের আমদানির বিল এসেছে ১ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার।

বুধবার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কাছে ১৭ মিলিয়ন ডলার বিক্রির পর রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার। যদিও চলতি অর্থবছরের শুরুতে এর পরিমাণ ছিল ৪১ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর বেসরকারি ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করবে না। সরকারি আমদানি বাবদ যেগুলো খুবই প্রয়োজন সে দায় মেটাতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করবে।

জা,ই

সর্বশেষ

জনপ্রিয়