আপন জুয়েলার্সের মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র | জাতীয় | Aporup Bangla | বাংলার প্রতিধ্বনি
ঢাকা | বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ৫ কার্তিক ১৪২৮
জাতীয়

আপন জুয়েলার্সের মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

অপরূপ বাংলা প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২ মার্চ ২০২১ ১৭:৩১ আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২১ ১২:৪১

অপরূপ বাংলা প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ২ মার্চ ২০২১ ১৭:৩১


আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার হোসেন সেলিম (ফাইল ছবি)

আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার হোসেন সেলিমের বিরুদ্ধে শুল্ক ও কর ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে স্বর্ণালঙ্কার মজুদের অভিযোগে করা মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। রমনা থানায় মানি লন্ডারিং আইনে করা মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সংশ্লিষ্ট সাধারণ নিবন্ধন (জিআর) শাখায় এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মঙ্গলবার (২ মার্চ) আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

শুল্ক গোয়েন্দার তদন্ত সূত্রে জানা যায়, আপন জুয়েলার্স বিভিন্ন সময় সাড়ে ১৩ মণ সোনা ও পৌনে ৮ হাজার পিস ডায়মন্ড কিনতে গিয়ে ১৯০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা পাচার করেছে। এতে কর ফাঁকির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা। রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এসব অর্থপাচার করা হয়।

২০১৭ সালে আপন জুয়েলার্সের পাঁচটি শাখায় একযোগে অভিযান চালায় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। অভিযানে আপন জুয়েলার্সের ৫টি শাখা থেকে জব্দ করা হয় ৫৩৭ কেজি ৫০০ গ্রাম সোনা ও ৭ হাজার ৭৪৩ পিস ডায়মন্ড অলংকার। ওই বছরের ১২ আগস্ট আপন জুয়েলার্সের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় ২টি, ধানমন্ডি থানায় একটি, রমনা থানায় ১টি ও উত্তরা পূর্ব থানায় ১টি মামলা করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

আপন জুয়েলার্স অলংকার আমদানির বিপরীতে বৈধ কোনো কাগজ দেখাতে পারেনি। অর্থাৎ শুল্ক গোয়েন্দা বলছে, অর্থপাচার করে চোরাচালানের মাধ্যমে এসব অলংকার দেশে আনা হয়েছে। আর এনবিআরে দেওয়া আয়কর নথিতে তথ্য গোপন করে দেওয়া হয়েছে কর ফাঁকি। শুল্ক গোয়েন্দার তদন্তে আপন জুয়েলার্সের মালিক তিন ভাই আজাদ আহমেদ, গুলজার আহমেদ ও দিলদার আহমেদকে দায়ী করা হয়েছে। 

আপন জুয়েলার্সের গুলশানে সুবাস্তু স্কয়ার শোরুমের মামলায় আসামি করা হয় গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদকে। সেখান থেকে জব্দ করা হয় ২০৩ কেজি সোনা ও ২৮৫৯ পিছ ডায়মন্ডের অলংকার। যেখানে জব্দ করা অলংকারের বিপরীতে পাচার হয়েছে ৭৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে ১১ কোটি ২৭ লাখ টাকা।

মৌচাক মার্কেট শো-রুমের রমনা মডেল থানার মামলায় আসামি করা হয় দিলদার আহমেদকে। যেখানে শো-রুমটি থেকে জব্দ করা হয় ৫৪ কেজি ২শ গ্রাম সোনা ও ১৫৮০ পিছ ডায়মন্ড অলংকার। যার বিপরীতে পাচার করা হয়েছে ১৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা, কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে ৩ কোটি টাকা।

এনআর কমপ্লেক্স শো-রুমের উত্তরা পূর্ব থানার মামলায়ও আসামি করা হয় দিলদার আহমেদকে। শো-রুমটি থেকে জব্দ করা হয় ৮৯ কেজি সোনা ও ১৪১০ পিস ডায়মন্ডের অলংকার। যার বিপরীতে পাচার করা হয়েছে ৩০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে ৪ কোটি ২২ লাখ টাকা।

ডিএনসিসি মার্কেট শো-রুমের গুলশান থানার মামলায় আসামি করা হয় আজাদ আহমেদকে। শো-রুমটি থেকে জব্দ করা হয় ৯০ কেজি ৩শ গ্রাম সোনা ও ৩৩৮ পিস ডায়মন্ডের অলংকার। যার বিপরীতে বিদেশে পাচার করা হয়েছে ৩১ কোটি ৭ লাখ টাকা। আর কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে ৪ কোটি ৬ লাখ টাকা।

এছাড়া সীমান্ত স্কয়ার শো-রুমের ধানমন্ডি থানার মামলায় আসামি করা হয় দিলদার আহমেদকে। শো-রুমটি থেকে জব্দ করা হয় ১০১ কেজি সোনা ও ১৫৫৭ পিস ডায়মন্ডের অলংকার। যার বিপরীতে পাচার করা হয়েছে ৩৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে ৪ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। মোট ১৯০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা পাচার করা হয়েছে আর কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে ২৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

২০১৭ সালের ২৮ মার্চ দ্য রেইনট্রি হোটেলে জন্মদিনের পার্টিতে আমন্ত্রণ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু নাঈম আশরাফ। ৬ মে রাতে ভুক্তভোগীদের একজন বনানী থানায় আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। এরপরই শুল্ক গোয়েন্দা আপন জুয়েলার্সে অবৈধ অলঙ্কার জব্দ করতে অভিযানে নামে।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top