৫০ বছরে বাংলাদেশের বিস্ময়কর অগ্রগতি | জাতীয় | Aporup Bangla | বাংলার প্রতিধ্বনি
ঢাকা | বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৭ আশ্বিন ১৪২৮
জাতীয়
আজ ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী

৫০ বছরে বাংলাদেশের বিস্ময়কর অগ্রগতি

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৫ মার্চ ২০২১ ২৩:১৫ আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২১ ২০:০০

বিশেষ প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ২৫ মার্চ ২০২১ ২৩:১৫


স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধু

আজ স্বাধীনতার ৫০ বছর। বাংলাদেশের জন্মের সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব। এ যেন এক ঘোরলাগা স্বপ্ন। অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা, ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান, ২ লাখ নারীর সম্ভ্রম আর নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে আমরা অর্জন করেছিলাম স্বাধীনতা। আমাদের প্রিয় স্বাধীনতা। আজ একটি কথা বারবার করে বলতে ইচ্ছে করছে সেটা হলো, এই স্বাধীনতার বীজ, একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্¦প্ন বাঙ্গালির মনে বুনেছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যার জন্ম না হলে আমরা এই দেশ, এই মানচিত্র পেতাম না। স্বাধীনতার এই সুবর্ণজয়ন্তীতে তাঁর প্রতি আমাদের অকৃত্রিম শ্রদ্ধা। শ্রদ্ধা ৩০ লাখ শহীদের প্রতি। তাদের প্রতি যাঁরে আত্মত্যাগে আমাদের এই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে।
স্বাধীনতার ৫০ বছরে দাঁড়িয়ে পিছনে তাকালে দেখা যাবে এই পথ কুসমাস্তীর্ণ ছিল না। নানা বাঁধা, উপেক্ষা আর ষড়যন্ত্র ছিল দেশের বিরুদ্ধে। যাকে মোকাবেলা করে একটি তলা বিহীন ঝুঁড়ি থেকে এ্কটি উদিয়মান অর্থনীতির দেশের পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। উন্নয়নে বাংলাদেশ আজ রোল মডেল। শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে দেশ আজ বিশ্ব দরবারে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে। যার সূচনা করেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কিন্তু ১৯৭৫ সালে তাঁকে নির্মম ভাবে সপরিবারে হত্যার ‘৭১ সালের পরাজিত শক্তি বাংলদেশের সেই অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দেয়। কিন্তু আবারও ঘুরে দাঁড়য়েছে বাংলাদেশ। অদম্য ইচ্ছায়। অসীম সাহসে। শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে।
সব বাঁধা পেরিয়ে বাংলাদেশ মধ্যমআয়ের দেশ। উন্নত দেশের কাতারে হাঁটছে। এ অর্থনীতিকে মজবুত করতে পারে এমন সুচিন্তিত পরিকল্পনার কথা বেরিয়ে এসেছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কণ্ঠ থেকে। তাইতো তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদদের নিয়ে পরিকল্পনা কমিশন গঠন করেছিলেন। দেশেই সেই প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মধ্য দিয়েই বর্তমান অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় দেশের অর্থনীতি। এ যাত্রায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেয়া, মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা, নারী জাগরণ কর্মসূচি ছড়িয়ে দিতে সব সময় বঙ্গবন্ধু ছিলেন নির্ভীক। সাধারণ জনগণ, পিছিয়ে পড়া অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় আনতে গ্রহণ করেন নানা পদক্ষেপ। তার উন্নয়ন ভাবনায় পরিস্ফুটিত হয় ভবিষ্যৎ বিকাশের রেখা বলে দেশের অর্থনীতিবিদ, বাঙ্কার, ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের আত্মনির্ভর অর্থনীতি বিনির্মাণের ইতিহাসের সাহসী মাইলস্টোন হিসেবে কয়েকটি স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে। তারা আরো বলেন, সামাজিক, অর্থনীতির এ ধারাবাহিকতায় অতিক্রম করতে ৪৯টি বছর সময় লেগেছে। স্বাধীনতার ৫০ বছরে অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য দেশে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের গুরুত্ব অনেক। বর্তমানে দেশের অর্থনীতি যে অবস্থানে রয়েছে তার চেয়ে আরও ভালো অবস্থানে থাকতে পারত।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাসও বলছে, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। মাথাপিছু প্রবৃদ্ধির বিবেচনায়ও দেশটির অবস্থান স্বস্তির। করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে বাংলাদেশের রপ্তানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হলেও এখনও বড় আঘাত লাগেনি।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেকদূর এগিয়েছে। স্বাধীনতার সময়ে অর্থনীতির প্রতিটি সূচকে পাকিস্তান এগিয়েছিল। আজ ৪৯ বছর পর প্রায় প্রতিটি সূচকেই তারা বাংলাদেশ থেকে পিছিয়ে আছে। এটিই আমাদের স্বাধীনতার বড় অর্জন।’

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় এ দেশের অর্থনীতিকে তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। আমার বিশ্বাস, সেই কিসিঞ্জার যদি আজ বেঁচে থাকতেন তাহলে তিনিই এখন বাংলাদেশের উন্নয়ন দেখে বিস্মিত হতেন। এখন আমরা বাংলাদেশকে নিয়ে গর্ব করে বলতে পারি, সেই তলাবিহীন ঝুড়ি আজ বিশে^র বিস্ময়, উন্নয়নের এক রোলমডেল।’

সব বাঁধা পেরিয়ে বাংলাদেশ মধ্যমআয়ের দেশ। উন্নত দেশের কাতারে হাঁটছে। এ অর্থনীতিকে মজবুত করতে পারে এমন সুচিন্তিত পরিকল্পনার কথা বেরিয়ে এসেছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কণ্ঠ থেকে। তাইতো তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদদের নিয়ে পরিকল্পনা কমিশন গঠন করেছিলেন।

ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন ‘বাংলাদেশ অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। অর্থনীতি ক্ষেত্রে, সামাজিক ক্ষেত্রে, মেট্রোরেলসহ সব ক্ষেত্রেই উন্নয়ন হচ্ছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন দেখে প্রতিবেশি রাষ্ট্রও বিস্মিত হচ্ছে। পাকিস্তানি পার্লামেন্টে তারা বলেছে, সুইজারল্যান্ড পরের কথা আগে বাংলাদেশ হও। এ কী আমাদের উন্নয়ন না। যারা আমাদের সঙ্গে শত্রু করেছে। যাদের আমরা তাড়িয়ে দিয়েছি। তারা আমাদের কাছে আসছে, অনুসরণ করছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে এবং বঙ্গবন্ধুর কারণেই আজকে আমরা স্বাধীন হতে পেরেছি। তার যে অবদান সেটাতো কখনও ভোলা যাবে না। এ উন্নয়ন ধরে রাখতে আমাদের কী কী করা দরকার জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন ধরে রাখার পূর্বশর্ত সামাজিক, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে স্ট্যাটাস মেন্টেন্ড করতে হবে। পলিটিক্যাল স্ট্যাবিলিটি সবচেয়ে বড় জিনিস। উন্নয়নের আরও একটি কারণ হলো গত ১০-১১ বছর ধরে স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তি ক্ষমতায় আছে বলেই দেশের উন্নয়ন হয়েছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, স্বাধীনতার পর অর্থনীতির মুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আর তলাবিহীন জুড়িতে নেই। যে কথাটা প্রচলিত ছিল সেটা আজ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। তখন সাড়ে ৭ কোটি জনগণের স্থলে এখন ১৭ কোটি জনগণ। রেমিট্যান্স বেড়েছে, রপ্তানি বেড়েছে, বেড়েছে কর্মসংস্থান। এগুলোই প্রমাণ করে অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে। তবে আরও উন্নয়ন হতো যদি আমাদের দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা না থাকত। দেশে যদি সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা যায়; তাহলে উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত ও টেকসই হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও অধ্যাপক আবু আহসান মো. সামসুল আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি অগ্রযাত্রায় অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক ক্ষেত্রে এগিয়ে চলছে দেশ। এটা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামের কারণে। তিনি চেয়েছিলেন, ক্ষুধামুক্ত দারিদ্রমুক্ত দেশ গড়তে। তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা সে ধারাবাহিকতা রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশ অর্থনীতির সমিতির (বিইএ) সাধারণ সম্পাদক, অর্থনীতিবিদ ড. জামালউদ্দিন আহমেদ, এফসিএ বলেন, মধ্যবিত্তে প্রবেশ করতে বিজনেস করতে হবে। প্রসার বাড়াতে হবে। বিজনেস লোক ছাড়া বিজনেস করা যাবে না। বিজনেস পরিবেশ তৈরি করতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে হবে। তিনি বলেন, বিচার বিভাগই এখন ঠিকমত কাজ করছে না, বিচার বিভাগ, প্রশাসনিক বিভাগকে সঠিকভাবে কাজ করতে হবে। এগুলো চালানোর অভিজ্ঞতা লাগবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ‘অর্থনীতির প্রত্যাশা কিছুটা তো পূরণ হয়েছেই। আরও ভালো করতে পারত, কিন্তু তা পারেনি কিছুটা রাজনৈতিক অস্থিরতা, আর কিছুটা পলিসির কারণে। আমাদের জিডিপির গ্রোথ যেখানে থাকার কথা ছিল। সেখানে নেই। ব্যাংকিং অবস্থা খারাপ না। তবে বেশি বেসরকারি ব্যাংক হয়ে গেছে। আর ব্যাংলাদেশে ব্যাংকে যা ঘটে গেছে তা অবিশ্বাস্য (রিজার্ভ চুরি); যা জীবনে ঘটেনি তাই ঘটেছে। এটা কেউ আশা করেনি। শেয়ারবাজার যেখানে থাকার কথা ছিল, সেখানে নেই। কৃষি জমি সংকুচিত হচ্ছে। এখন অল্প জমিতে বেশি ফলন ফলাতে হবে।’
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, ‘আইএমএফসহ সব দাতা সংস্থা বাংলাদেশ সম্পর্কে পূর্বাভাস দিচ্ছে, তাতে একটি বার্তা পরিষ্কার, দেশের অর্থনীতি ইতিবাচক ধারায় আছে। এটি আশাবাদী হওয়ার মতো। পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া সঠিক পথেই আছে।

 

স্বাধীনতার পর অর্থনীতির মুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আর তলাবিহীন জুড়িতে নেই। যে কথাটা প্রচলিত ছিল সেটা আজ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। তখন সাড়ে ৭ কোটি জনগণের স্থলে এখন ১৭ কোটি জনগণ। রেমিট্যান্স বেড়েছে, রপ্তানি বেড়েছে, বেড়েছে কর্মসংস্থান

 

গত ২৩ ডিসেম্বর অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, তাদের অর্থনীতি অনেক অনেক বেশি ভালো অবস্থানে আছে। তারা এখনও সব সূচকে প্রবৃদ্ধি রক্ষা করছেন। তিনি বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধির গড় হার ধরা হয়েছিল ১০ দশমিক ২০ শতাংশ ছিল, গত ৫ অর্থবছরে সেটা এ বছর নভেম্বর মাস পর্যন্ত দেখছি ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ।

যেভাবে বদলেছে অর্থনীতি : স্বাধীনতার অর্ধশত বছরের মাইলফলক স্পর্শ করতে চলেছে বাংলাদেশ। তলাবিহীন ঝুড়ির খেতাব পাওয়া ছোট্ট ব-দ্বীপটি আজ বিশ্বের ৪১তম অর্থনীতির দেশ। অর্থনীতির আকার ৩০০ বিলিয়ন ডলার। প্রতিযোগী এবং পার্শ্ববর্তী অনেক দেশকে পেছনে ফেলে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি এখন ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। বিবিএস এবং বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব সূচকের প্রথম যে তথ্য পাওয়া যায় তাতে দেখা যাচ্ছে, ১৯৭৩-১৯৭৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ছিল মাত্র ২৯৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সে সময় জিডিপির আকার ছিল ৭ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা। মাথাপিছু আয় মাত্র ১২৯ ডলার। দারিদ্র্যের হার ৭০ শতাংশ। পঞ্চাশ বছর পর এসে দেখা যাচ্ছে রপ্তানি আয় বহুগুণে বেড়ে মিলিয়ন ডলার থেকে এসেছে বিলিয়ন ডলারের ঘরে। ২০২০ সালের হিসাবে যা ৩৯.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। জিডিপি আকার ১৯৭৩-১৯৭৪ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে এসে বেড়েছে ৩৬৯ গুণ। পরিমাণে যা প্রায় ২৭ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা। মাথাপিছু আয় বেড়েছে ১৬ গুণ। অর্থাৎ ২,০৬৪ ডলার। দারিদ্রের হার কমে হয়েছে ২০.৫ শতাংশ। কৃষিতে আমাদের অগ্রগতির বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সবজি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি পোলট্রি, গবাদিপশু ও মৎস্য চাষেও উল্লেখখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে কৃষিতে নতুন নতুন প্রযুক্তি ও যান্ত্রিকীকরণকেও উৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে কভিডের পাশাপাশি হাওড়ে বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ধান উৎপাদন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষক। চালের বাজারজুড়ে অস্থিরতার আশঙ্কা কেন জানি থেকে থেকে ফিরে আসছে। এদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের উৎসাহজনক দাম পাওয়ার বিষয়টি সবসময়ই আলোচিত হয়ে আসছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল। রপ্তানি আয় বাড়ছে, রপ্তানি পণ্যে যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন পণ্য। বর্তমানে বিশ্বের ১৯২টি দেশে বাংলাদেশ ৬৯২টি পণ্য রপ্তানি করে থাকে। দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, স্বাধীনতার ৫০ বছরে দেশের অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। স্বপ্নের পদ্মাসেতু নির্মাণ শেষ পর্যায়ে। ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল, কর্ণফুলি টানেল, মেট্রোরেল প্রকল্প, পায়রা বন্দর দেশের অর্থনীতিতে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র , মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ, পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ, ঘুমধুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্প অর্থনীতিকে অনেক দূর এগিয়ে নিচ্ছে। দেশের উৎপাদিত ওষুধ অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণসহ প্রায় ১০০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ১১শ প্রতিষ্ঠান সফটওয়্যার তৈরি করে।

এদিকে ইকোনোমিক ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে গণতন্ত্রের বৈষয়িক সূচকে বাংলাদেশ ৮ ধাপ এগিয়ে বিশ্বের ৮০তম দেশ হয়েছে। মুজিববর্ষে ৬ লাখ আট হাজার দুস্থ পরিবারকে পাকাবাড়ি তৈরি করে দেওয়ার কাজ দ্রুত চলছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রথম দেশ বাংলাদেশ ই-পাসপোর্টের যুগে প্রবেশ করেছে জাতির জন্য মুজিববর্ষে এগুলো শ্রেষ্ঠ উপহার।

বাংলাদেশের অর্থনীতি অগ্রযাত্রায় অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক ক্ষেত্রে এগিয়ে চলছে দেশ। এটা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামের কারণে। তিনি চেয়েছিলেন, ক্ষুধামুক্ত দারিদ্রমুক্ত দেশ গড়তে। তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা সে ধারাবাহিকতা রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন।

ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) বিচারে ২০২০ সালে মহামারীর মধ্যে বিশ্বের অধিকাংশ দেশে গণতন্ত্রের পরিসর সংকীর্ণ হলেও বাংলাদেশের অবস্থান আগের বছরের তুলনায় এগিয়েছে। গণতন্ত্র সূচকে আট ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। পাঁচটি মানদ-ে একটি দেশের গণতন্ত্র পরিস্থিতি বিচার করে ইআইইউ সম্প্রতি যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, সেখানে বাংলাদেশের চার ধাপ উন্নতি হয়েছে। ৫ দশমিক ৯৯ স্কোর নিয়ে ইআইইউর গণতন্ত্র সূচকে বাংলাদেশ এবার রয়েছে ১৬৫টি দেশ ও দুটি অঞ্চলের মধ্যে ৭৬তম অবস্থানে। গতবছর এই সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৫ দশমিক ৮৮; আট ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ উঠে এসেছিল ৮০তম অবস্থানে। তার আগের বছর ৫ দশমিক ৫৭ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশ তালিকার ৮৮তম অবস্থানে ছিল। অন্যদিকে ২০২০ সালে এই সূচকে পুরো বিশ্বের গড় স্কোর আগের বছরের ৫ দশমিক ৪৪ থেকে কমে ৫ দশমিক ৩৭ হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের গণতন্ত্রের দশার এই অবনমনের পেছনে মহামারির মধ্যে দেশে দেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি বড় ভূমিকা রেখেছে। ২০২০ সালের এই সূচক বলছে, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক (৪৯ দশমিক ৪ শতাংশ) এখন গণতন্ত্র অথবা আংশিক গণতন্ত্র ভোগ করছে। এর মধ্যে পূর্ণ গণতন্ত্র উপভোগ করছে মাত্র ৪ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বলছে, গণতন্ত্রের জন্য এই বাজে বছরেও বাংলাদেশ, ভুটান, পাকিস্তানসহ এশিয়ার কিছু দেশের স্কোরে উন্নতি হয়েছে। কিন্তু তারপরও বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ রয়ে গেছে কর্তৃত্ববাদী শাসনের অধীনে, যার একটি বড় অংশ চীনের বাসিন্দা। নির্বাচনি ব্যবস্থা ও বহুদলীয় অবস্থান, সরকারে সক্রিয়তা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং নাগরিক অধিকার এই পাঁচ মানদন্ডে একটি দেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করে ১০ ভিত্তিক এই সূচক তৈরি করে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট। সব সূচক মিলিয়ে কোনো দেশের গড় স্কোর ৮ এর বেশি হলে সেই দেশে ‘পূর্ণ গণতন্ত্র’ রয়েছে বলে বিবেচনা করা হয়েছে প্রতিবেদনে।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top