'মা' তোমাকে খুব মনে পড়ছে... | মতামত | Aporup Bangla | বাংলার প্রতিধ্বনি
ঢাকা | বৃহঃস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৮ আশ্বিন ১৪২৮
মতামত

'মা' তোমাকে খুব মনে পড়ছে...

নিজামুল হক বিপুল

প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০২১ ২০:১৭ আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২১:৫৫

নিজামুল হক বিপুল | প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০২১ ২০:১৭


মায়ের সাথে নিজামুল হক বিপুল

আজ ১৪ মার্চ রোববার। আমার জন্য এই দিনটি শুধু বেদনার নয়, একেবারে শূন্য হওয়ার দিন। শুধু আমি নয়, আমাদের পরিবারের সকল সদস্য আমার ভাই-বোন ও আমাদের সন্তানদের জন্য সত্যিই একটি দুঃখের দিন, বেদনার দিন। গত বছরেরর এই দিনে আমি এবং আমরা হারিয়েছিলাম আমরা হারিয়েছিলাম আমাদের মমতাময়ী ‌'মা' কে। আর আমাদের সন্তানরা হারিয়েছিল তাদের দাদী'কে।
আমার জন্য আমার মা ছিলেন সবচেয়ে আবেগের জায়গা। সব সন্তানদের কাছেই মা সবচেয়ে আবেগের জায়গা। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে যেন একটু বেশি। আমার মা আমাকে দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করে শুধু পৃথীবির আলোই দেখাননি। বুকে পিঠে আগলে রেখে শুধু তিল তিল করে বড় করেননি। আমার মা ছিলেন আমার সবচেয়ে দুঃসময়ের বন্ধু, বিপদে-আপদে তিনি ছায়ার মত আমাকে আগলে রেখেছেন।
যেহেতু আমি বাবাকে খুব একটা কাছে পাইনি বা বাবার স্নেহ, মায়া-মমতা, শাসন-বারণ ততোটা পাইনি বাবার প্রবাস জীবনের কারণে। সেই অভাবটুকু মা আমার পূরণ করেছেন। মায়ের কাছেই আমার সব আবদার ছিল। সবটুকু হয়তো মা পূরণ করতে পারেননি। তবে কখনই শূন্য হাতে ফিরিয়ে দেননিন।
আমার মমতাময়ী মাকে নিয়ে এক সাগর লিখলেও ফুরাবে না।
মাধ্যমিকে পড়ালেখার সময়ই আমি জড়িয়ে পড়েছিলাম ছাত্র রাজনীতিতে। সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী হয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে নাম লিখিয়েছিলাম সেই কৈশোরে। সঙ্গত কারণেই সাংগঠনিক কাজে প্রায়শই দূর-দুরান্তে ছুটে যেতাম। যখন গভীর রাতে বাড়ি ফিরে দরজায় করা নাড়তাম দেখতাম মা আমার সঙ্গে সঙ্গেই দরজা খুলে দিয়েছেন। তারপর খাবারের বাটি এগিয়ে দিচ্ছেন। তখনই দেখতাম মা আমার সঙ্গে খাচ্ছেন। তুমি কেন আগে খাওনি জিজ্ঞেস করতেই মা বলতেন, বাবারে তুমি বাড়ি না ফিরলে আমি কী খেতে পারি?
ছাত্রজীবনে এরকম অসংখ্য রজনী মা আমার জন্য নিদ্রাহীন কাটিয়েছেন। শুধু যে ছাত্রজীবনে এমন কষ্ট মা করেছেন তা কিন্তু নয়। এই আমি থিতু হওয়া পর্যন্ত মায়ের কষ্টের শেষ ছিল না। কলেজ জীবনেই শুরু করেছিলাম নিজের খেয়ে বনের মহিষ তাড়ানোর কাজ। অর্থাৎ সাংবাদিকতা।
প্রথমে শখ করে শুরু করলেও দিন যেত না যেতেই একেবারে নেশায় পেয়ে বসে। এক সময় লক্ষ্য করলাম পত্রিকার পাতায় আমার নামে যখন পত্রিকার পাতায় রিপোর্ট ছাপা হতো সেই রিপোর্ট পড়ে মা আমার অনেক খুশী হতেন। মাঝে মাঝে বলতেন বাবা নাম তো ছাপা হচ্ছে, কিন্তু এতে কী জীবন চলবে...। যেটায় জীবন চলে সেরকম কিছু কর। কিন্তু উৎসাহ ছাড়া কখনই বাধা দিতেন না। মায়ের আস্কারা পেয়ে আমি সাংবাদিকতায় আরও সিরিয়াস হই। নানান জন নানান কথা বললেও মা ছিলেন আমার সাহস, অনুপ্রেরণা, ছিলেন আমার লেখার একনিষ্ঠ পাঠক। সাংবাদিকতার কারণে অর্থাৎ পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টের কারণে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধামকি আসলে মা-ই আমাকে সাহস দিয়েছেন। বলেছেন, বাবা সব সময় সৎ পথে থাকবা, কেউ তোমার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। কোন বিপদ আসলেও সেটি কেটে যাবে। সাময়িক সময় হয়তো তোমাকে ভূগাবে। এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কখনই মনোবল হারাবে না। মনে রাখবে সত্যের জয় সব সময়।
এক সময় আমি সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার পর মা-ই আমাকে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দিয়েছিলেন। ঢাকায় আসার পর প্রায় প্রতিদিনই মা আমাকে ফোন করতেন। কথা হত। বলতেন বাবা তোমার রিপোর্ট তো পড়তে পারছি না। পত্রিকা তো পাইনা।
আমি তখন দেশের প্রথম ট্যাবলয়েড দৈনিক মানবজমিন এ স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ করি। মাকে বললাম, দুই দিনের মধ্যেই তোমার কাছে পত্রিকা পৌঁছে যাবে। ঠিকই প্রতিদিন পত্রিকা এক কপি মানবজমিন পৌঁছে যেত আমার মায়ের কাছে। আর যেদিনই আমার নামে রিপোর্ট থাকত সেই রিপোর্ট পড়ে মা ফোন দিতেন।
এখন আর মায়ের সেই ফোন আসে না। মা যে আমার চলে গেছে গেছেন দূরে বহু দূরে... দূর আকাশের তারা...।
মা তোমাকে অনেক ভালোবাসি। আল্লাহ তোমাকে জান্নাবাসী করুন।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top