বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪ , ২ শ্রাবণ ১৪৩১

modhura
Aporup Bangla

বাংলাদেশে বীমা খাতের অন্তরায় ও প্রতিকার

মতামত

কাজী মো. মোরতুজা আলী

প্রকাশিত: ০৯:৪৭, ৬ মার্চ ২০২৩

আপডেট: ০৯:৫১, ৬ মার্চ ২০২৩

সর্বশেষ

বাংলাদেশে বীমা খাতের অন্তরায় ও প্রতিকার

কাজী মো. মোরতুজা আলী

বাংলাদেশ একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। মাত্র ৫৬,১২৬ বর্গমাইলের ছোট দেশে প্রায় ১৭ কোটি লোক বাস করে। তাই বলা যায় বাংলাদেশ বীমার একটি বিরাট বাজার। কিন্তু নানা প্রতিকুলতায় এ বিরাট বীমা বাজারে বীমা ব্যবসার অর্থাৎ পলিসি বাজারজাতের মন্দা অবস্থা বিরাজ করছে। বীমা মূলত সেবামূলক ব্যবসা হওয়া সত্বেও এই পেশাটির ওপর বা বীমা প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণ পুরো আস্থা রাখতে পারছে না। কিন্তু কেন? এর পেছনে নিশ্চই কিছু অন্তরায় রয়েছে। বীমার উন্নয়নে কতিপয় অন্তরায় এবং তার প্রতিকার সম্পর্কে নি¤েœ আলোকপাত করা হলো:-

১) বীমা বিষয়ক শিক্ষার অভাব

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা বা পাঠ্যসূচির দিকে দৃষ্টিপাত দিলে দেখা যাবে যে, স্কুল, কলেজ কিংবা অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে বীমা বিষয়ের ওপর উপযুক্ত পাঠ্যক্রমের অভাব রয়েছে। অথচ অন্যান্য প্রায় সকল পেশা সম্পর্কে ছাত্র-জীবনে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। তাই অন্ততঃ স্কুল বা কলেজ পর্যায়ের পাঠ্যসূচীতে যদি ঝুঁকি ও বীমার ওপর এক বা একাধিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তাহলে বীমা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা সাধারণ শিক্ষিত সমাজের মধ্যে থাকবে।

২) বীমা সম্পর্কে সচেতনতার অভাব

বীমা কি এবং কেন বীমা করা দরকার? আমাদের দেশের অধিকাংশ জনগণের এ সম্পর্কে ধারণা কম। জনগণ পারস্পরিক আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে (কোন বিষয়ের খারাপ দিকটাই জনগণ সাধারণত সমালোচনা করে থাকে) যতটুকু জানে তা হলো বীমা কোম্পানীর নিকট হতে আর্থিক সহায়তা বা বীমার টাকা পাওয়া যাবে না। বীমা সম্পর্কে গণসচেতনতার অভাবই এর জন্য দায়ী। তাই বীমা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে তোলার জন্য বীমা কোম্পানিগুলোকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হবে। সম্ভাব্য গ্রাহক এবং গ্রাহক সম্মেলন করার মাধ্যমে জন-সচেতনতামূলক কর্মসূচি হাতে নেওয়া যেতে পারে। ইউনিয়ন লেভেল পর্যন্ত বীমা দিবসের কর্মসূচীকে পৌছে দিতে হবে। বীমা দিবসের কর্মসূচীর ব্যয়ভার বীমা কর্তৃপক্ষকে বহণ করতে হবে।

৩) অর্থনৈতিক অক্ষমতা

অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর বাংলাদেশ। এ দেশের অনেক লোক এখনও দারিদ্র সীমার নীচে বাস করে। মানুষের জীবনের মৌলিক চাহিদাসমূহ যেমন- অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ব্যয় নির্বাহ করতে পারলেই অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বি বলা যায়। বীমার মাধ্যমে মানুষের বিভিন্ন দুরবস্থা মোকাবেলা করা যায় বিধায় মানুষের জীবনের মৌলিক চাহিদার মতো বীমাকেও জীবনের আবশ্যকীয় বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। এ ধারণা মানুষের মনে সৃষ্টির লক্ষ্যে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিভিন্নমুখী প্রচারের মাধ্যমে গণসচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। 

৪) অনগ্রসর চিন্তা ও ধর্মীয় বিশ্বাস

শিক্ষা ও সচেতনতায় অনগ্রসর আমাদের সমাজে গোঁড়ামি এখনও বিদ্যমান। বীমাকে না জায়েজ বলে আখ্যায়িত করে এ পেশাকে গ্রহণযোগ্য মনে করে না এক শ্রেণির নাগরিক। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বীমা সম্পর্কে বিরুদ্ধচারণ রুখতে হলে আলেম সমাজকে বীমা পেশায় জড়িত করার উদ্যোগ বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিতে হবে। একই সাথে বীমা পেশাজীবিদের মধ্যে ধর্মীয় বিধি বিধান সম্পর্কে সম্যক ধারণা অর্জন করতে হবে এবং জ্ঞানের প্রতি আস্থা ও বিশ^াস করতে হবে।

৫) বীমা পেশাজীবীদের সততা

বীমা পেশার মূল হাতিয়ার হচ্ছে সততা। সততা ও চূড়ান্ত সদ্বিশ্বাসকে পুঁজি করেই মানুষের বীমা করাতে হবে। বীমাকারীরা যদি বীমা গ্রহীতাকে প্রতারিত করে তাহলে এর বিরুপ ফলাফল ভোগ করতে হয় বীমা শিল্পকে। আর এহেন কর্মকান্ডে কিছু সংখ্যক বীমাকর্মী জড়িত থাকতে পারে বিধায় আজও বীমা পেশা এ দেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেনি। কতিপয় বীমা কর্মীর প্রতারণার দায় নিতে হচ্ছে গোটা বীমা শিল্পকে। তাই এ ধরনের ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পূর্বেই বীমা প্রতিষ্ঠানকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে যাতে করে বীমা শিল্পের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ও আস্থা বেড়ে যায়। বীমা কর্মীর প্রতারণার দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানেরই নেয়া উচিত যাতে করে বীমা গ্রহীতা কোনো রকমেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

৬) বীমা পেশাজীবীদের মধ্যে ঐক্যের অভাব

বীমা শিল্পের অনগ্রসরতার পেছনে বীমা পেশাজীবীদের মধ্যে ঐক্যের অভাব অনেকটা দায়ী। যেমন এক প্রতিষ্ঠানের বীমা কর্মী দ্বারা অন্য প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিরুপ ধারণা ছড়ানো জনগণের মাঝে পুরো বীমা শিল্প সম্পর্কেই বিভ্রান্তি ও আতংক সৃষ্টি করে। এভাবে একশ্রেণির বীমাকর্মী প্রতিনিয়ত বীমা শিল্পের সর্বনাশ করে চলেছে। আবার দেখা যাচ্ছে এক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক চাকরিচ্যুত অসৎ বীমা কর্মী অন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক চাকরি পেয়ে সমাদৃত হচ্ছেন। আবার দেখা যায় যে এক প্রতিষ্ঠানে নি¤œপদে আসীন কর্মকর্তাকে অন্য প্রতিষ্ঠান চড়াদামে উচ্চতর পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

বীমা পেশাজীবিদের ক্ষেত্রে সচারচর ঈড়ফব ড়ভ ঈড়হফঁপঃ পালিত হয় না। বীমা পেশাজীবীদের দক্ষতার অভাবে বীমা শিল্প আস্তে আস্তে অপেশাজীবীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে বিধায় বীমা বাজার উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বীমা বাজার উন্নয়নে বীমা পেশাজীবীদের সম্মিলিতভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যেমন- অসৎ বীমা কর্মীদের দূর করতে হবে। বীমা কর্মীদের জন্য একটি অভিন্ন চাকরিবিধি ঠিক করতে হবে। ছাড়পত্র ব্যতিরেকে এক কোম্পানির লোক অন্য কোম্পানিতে যোগদান কঠোরভাবে রোধ করতে হবে। পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পরিহার করতে হবে এবং পেশাজীবীদের মান উন্নয়ন জন্য কার্যকর বীমা পেশাজীবী সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। 

৭) বীমা কর্মী নিয়োগে অসর্তকতা

বীমা বাজারকে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য করে তোলার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন বীমা কর্মকর্তারা ও কর্মীরা। কারণ তারাই জনগণের সবচেয়ে নিকটে থাকেন এবং তাদের মাধ্যমেই জনগণ বীমার প্রাথমিক ধারণা পেয়ে থাকে। বীমা কর্মীরাই হলো বীমা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি। তাই তাদের হতে হয় বীমা সম্পর্কে শিক্ষিত, জ্ঞানী এবং মানুষ হিসাবে হতে হয় সৎ, কর্তব্যনিষ্ঠ, পরিশ্রমী, সদালাপী ও বিচক্ষণ। অর্থাৎ জনসমাজে গ্রহণযোগ্য হওয়ার মত একজন ব্যক্তিত্ববান। অথচ অনেক ক্ষেত্রে কোনো বাদ-বিচার ছাড়াই গণহারে বীমা কর্মীর নিয়োগ দেওয়া হয়। ফলে এ সকল অদক্ষ ও অপেশাদার বীমা কর্মীরা একদিকে যেমন বীমাকে মারাত্মক ক্ষতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে অন্যদিকে বীমার ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জন সাধারণকে বিভ্রান্তের মধ্যে ফেলে প্রকৃত সৎ, দক্ষ ও পেশাদার বীমাকর্মীদের সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করে তুলছে। তাদের কারণে জন সমাজ বীমা কর্মীদেরকে অবমূল্যায়ন করছে ফলে সমাজের তুলনামূলক ভাল ছেলেরা এ পেশায় আসছে না। সৎ, আন্তরিক, শিক্ষিত ও সমাজে গ্রহণীয় ব্যক্তিত্ববান ছেলেদের এ পেশায় আকৃষ্ট করতে হলে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বীমা কর্মী নিয়োগে সতর্কতা অবলম্বনের মাধ্যমে এ পেশার মান উন্নয়নে বলিষ্ট ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে।

৮) বীমা শিল্পে নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতা 

বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিকমত কাজ করছে কি না বা বীমা আইন অনুযায়ী যথাযথ পরিচালিত হচ্ছে কি না, জনগণের স্বার্থ ঠিকমত সংরক্ষণ হচ্ছে কি না ইত্যাদি দেখার জন্য সরকার বর্তমানে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করেছে। ঢাল-তলোয়ার বিহীন অবস্থায় যেভাবে সর্দারী করা যায় না তেমনি একটি বিরাট বীমা বাজার এর উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ করতে হলেও একটি শক্তিশালী বীমা কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা দরকার। শক্তিশালী বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের জন্য দরকার আরও অধিকতর পেশাগত দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনবল এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা। স্বল্প সংখ্যক অস্থায়ী বা বিধি বহির্ভূত জনবল নিয়ে বর্তমান বিশাল বীমা শিল্পের তদারকি করতে সত্যিই হিমশিম খাচ্ছে তারা। যার দরুন বীমা শিল্পে বিভিন্ন অনৈতিক কার্যকলাপে এক অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করছে এবং বীমা শিল্পের মান উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ না গড়তে পারলে দুর্নীতিমুক্ত বীমা শিল্প গড়ে উঠবে না। 

৯) প্রশিক্ষণ

শুধু শিক্ষিত, সৎ, আন্তরিক, পরিশ্রমী ও ব্যক্তিত্ববান বীমাকর্মী নিয়োগে প্রাথমিক দায়িত্ব সমাধান হলেও তাদের বীমা বিষয়ে প্রশিক্ষণ না দিলে পেশার উৎকর্ষতা সাধনে তারা সফল হবে না। আজকাল দেখা যায়, বীমা কর্মী নিয়োগ করার পর পরই বীমা সম্পর্কে ন্যূনতম জ্ঞান না দিয়েই বীমা বাজারে বীমা পলিসি বিক্রয়ের জন্য পাঠানো হয়। তারা একদিকে না পারে গ্রাহকের প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে অন্যদিকে না পারে নিজেকে একজন বিচক্ষণ ও আকর্ষনীয় বীমা ব্যক্তিত্ব হিসাবে নিজেকে প্রকাশ করতে। ফলে বীমা পেশা তথা বীমা প্রতিষ্ঠানের ওপর মানুষের বিরূপ ধারণা জন্মে। তাই বীমা কর্মী নিয়োগের পাশাপাশি তাদের পর্যাপ্ত পরিমানে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ বীমা কর্মী তৈরি করে বাজারে পাঠাবার মনমানসিকতা বীমা প্রতিষ্ঠানের সৃষ্টি করতে হবে।

প্রতিকারের উপায়
বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বীমা শিল্পকে আরও বিস্তৃত ও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে কতিপয় সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এককভাবে কোনো বীমা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এসব পদক্ষেপ ফলপ্রসূ হবে না। সংস্কার শুরু করা যেতে পারে এককভাবে, যৌথভাবে বা গোষ্ঠীগতভাবে। যেমন বিপণন কৌশলসমূহ গ্রাহক-কেন্দ্রিক হতে হবে। এটি এককভাবেই করা যাবে। বিধি-বিধানসমূহ কার্যকর করার জন্য প্রয়োজন একক ও সমন্বিত উদ্যোগ। তথ্য-প্রযুক্তির প্রয়োগ ও আধুনিকীকরণের জন্যও প্রয়োজন একক, যৌথ এবং সমন্বিত প্রচেষ্টা। এছাড়া প্রয়োজন পেশাগত উৎকর্ষতা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রবল আগ্রহ। বীমা শিল্পের সঙ্গে জড়িত উদ্যোক্তাদের মধ্যে অন্যূন ঐকমত্য প্রয়োজন, যে বীমা শিল্পের সার্বিক উন্নয়নের জন্য তাদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে তারা অনাচার এবং কদাচার দূর করবেন এবং বোর্ড সদস্যগণ স্বীয় ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে ব্যহত করবেন না।

ক) গুনগত মান বৃদ্ধি

বীমা পেশাজীবীদের গুণগত মান উন্নয়ন ব্যতিরেকে বীমা শিল্পের মান বাড়ানো সম্ভব নয়। এ কারণে বীমা শিল্পে নিয়োজিত সকল ডেস্ক ও মাঠ কর্মীদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও প্রেষণা উন্নয়নে মনোনিবেশ করা জরুরি। এই শিল্পের মান উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন ক্রমাগত মানব-সম্পদ উন্নয়ন। মানব সম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে নৈতিক মান উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। ব্যক্তির কর্মদক্ষতা ও শিক্ষা, প্রশিক্ষণ কোনো কাজে আসবে না, যদি না আমরা জনসম্পদকে নৈতিকতার গুনে সমৃদ্ধ করতে না পারি। নৈতিক মানে উন্নত পেশাজীবীদের পক্ষেই সম্ভব বীমা শিল্পের মান বৃদ্ধি করা, বিধি-বিধান মেনে চলা এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

নৈতিক মান হচ্ছে সেই অদম্য, অটল, শক্তি যে শক্তির বলে একজন পেশাজীবীর পক্ষে সব রকম বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে, সততা ও ন্যায়নিষ্ঠার একটি আদর্শ উদাহরণ সৃষ্টি করা সম্ভব। দুঃখের বিষয় এ ধরনের উন্নত মানের ব্যক্তিত্বের যেমন অভাব রয়েছে, তেমনি অতি উন্নত নৈতিক মানের দৃঢ়চেতা পেশাজীবীর চাহিদা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। যেসব কর্মী কর্মকর্তা প্রাতিষ্ঠানিক অরাজকতার বিরুদ্ধে আপসহীন হবে সে ধরনের কর্মকর্তা/কর্মচারী অনেকে পছন্দ করেন না। তারা যুক্তি দেন এই বলে যে, “জলে বাস করে কুমীরের সঙ্গে লড়াই করা যাবে না। ফলে কোম্পানির বৃহত্তর ও দীর্ঘস্থায়ী স্বার্থকে বিসর্জন দেওয়া হয়। একজন দৃঢ়চেতা পেশাজীবী হয়তো প্রথম অবস্থায় অন্যায় ও দুর্নীতির সঙ্গে আপস করতে না চাইলেও ধীরে ধীরে তাদের নৈতিক মানে অবক্ষয় দেখা দেয়। তারা নিজেও একসময় আপসকামী হয়ে ওঠেন। বীমা কোম্পানি সমূহে পেশাজীবি সৃষ্টির লক্ষ্যে আন্তজাতিক মানের ডিপ্লোমা ডিগ্রী অর্জন বধ্যতামূলক করা জরুরী 

(খ) ভাব মূর্তি উন্নয়নের প্রচেষ্টা/সুপারিশ

বীমা শিল্পের বর্তমান ভাবমূর্তি নি¤œমানের। এজন্য আমাদের প্রয়োজন সর্বাত্মক কর্মসূচি গ্রহণ করা। কী হতে পারে সেই কর্মসূচি? অতি সম্প্রতি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট ফর প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট এবং বাংলাদেশ ইনসিওরেন্স একাডেমি এই বিষয় একটি সেমিনার আয়োজন করে। বাংলাদেশ ও ভারতের বীমা বিশেষজ্ঞগণ সেই অনুষ্ঠানে তাদের সুচিন্তিত মতামত পেশ করেন। এই সেমিনারে বীমা শিল্পের ভাবমূর্তি উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু সুপারিশ পেশ করা হয়। পাঠকের জন্য এই সুপারিশমালার সার-সংক্ষেপ পেশ করা হলোঃ-

    বীমা শিল্পের মেধা ও যোগ্যতাসম্পন্ন মানব সম্পদের অনুপস্থিতি ও ঝুঁকি অসচেতনতার ফলে নেতিবাচক ভাবমূর্তি সৃষ্টি হচ্ছে।
    বাংলাদেশ ইনসিওরেন্স একাডেমিসহ অন্যাণ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান সমূহে বীমা বিষয়ক স্নাতক ও মাস্টারস প্রোগ্রাম চালু করা যেতে পারে।
    স্কুল সমূহে বীমা পরিচিতির জন্য বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিতে হবে যাতে শৈশব থেকে ছাত্র-ছাত্রীগণ বীমা সম্পর্কে সহজে বুঝতে পারে। বীমা কার্যক্রমগুলোতে ছাত্র-ছাত্রীদের অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে তারা সহজেই একটি ভাল পেশা হিসাবে বীমাকে বিবেচনা করতে পারে।
    কম বেতনের কারণে যোগ্যতাসম্পন্ন লোকবল বীমা কোম্পানিগুলোতে নিয়োগ পেতে আগ্রহী হয় না বিধায় উপযুক্ত মানের বেতন কাঠামো প্রয়োজন। কোম্পানিসমূহ মান সম্পন্ন দক্ষ কর্মীদের নিয়োগ এবং পরিচালনা করার মাধ্যমে নিয়ম ও যোগ্যতা নির্ধারণ করে বীমা শিল্প জনশক্তি উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
    মাঠ পর্যায়ের বিক্রয় কর্মীদের যথাযথ বীমা পণ্য ও বিক্রয় জ্ঞান নিশ্চিত করতে হবে যাতে বীমার প্রকৃত সুবিধা সম্পর্কে সম্ভাব্য গ্রাহকগণ সম্যক উপলব্ধি করতে পারে।
    বীমা সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতনতার জন্য ওউজঅ, বাংলাদেশ ইনসিওরেন্স একাডেমি ও বাংলাদেশ ইনসিওরেন্স এসোসিয়েশন এবং অনুমোদিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান সমূহের সমন্বিত কার্যক্রমের ব্যবস্থা এবং নিয়মিত ডড়ৎশংযড়ঢ়, ঝবসরহধৎ আয়োজন করা যেতে পারে।
    মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে বীমা শিক্ষা সম্প্রসারণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তাঁদের পাঠ্যসূচিতে বীমা শিক্ষা অন্তভুর্ক্ত করা যেতে পারে।

(গ) সমস্যা চিহ্নিত করণ

বীমা শিল্পের বিকাশ কিভাবে আরো গতিশীল করা যায় এ নিয়ে বীমা বিশেষজ্ঞদের চিন্তাভাবনায় কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি বীমা সংস্থার প্রধান নির্বাহীদের সাথে নিয়মিতভাবে আলোচনার যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তা ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী ফল নিয়ে আসবে বলে অনেকে মনে করেন। আলোচনা ও পর্যালোচনার মধ্যে দিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও সম্মিলিত সিদ্ধান্ত ফলপ্রসু হয়। বীমা শিল্পে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের বা আলোচনার মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা ছিল না বলা চলে। বীমা পেশাজীবিদের মধ্যে বীমা শিল্পের সমস্যাসমূহ চিহ্নিত করে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়াস অতীতে ছিল কিন্তু তা কার্যকর করা দুরূহ ছিল। বাংলাদেশ ইনসিওরেন্স এসোসিয়েশন অতীতে যেসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতো তা বাস্তবায়ন করা বাস্তবে সম্ভব হতো না। এখন অবস্থার পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে বলে মনে হয়। কারণ বীমা এসোসিয়েশন অতি ঘন ঘন সভা করে বীমা শিল্পের উন্নয়নে তাদের ভূমিকা জোরদার করার প্রয়াস নিয়েছে। অতএব বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং ইনসিওরেন্স এসোসিয়েশন যৌথ প্রয়াস বীমা শিল্পের বিকাশের জন্য সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। বাহ্যত আলাপ-আলোচনার দ্বার উম্মুক্ত হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে স্টেক হোল্ডারদের মতামত তেমন গুরত্ব পাচ্ছেনা বলে অনেকে মনে করেন। একথা সত্য যে সব ব্যাপারে সবাই একমত হবেন এমনটি আশা করা যায় না।
  
বীমা শিল্পের উন্নয়নের প্রথম শর্ত হচ্ছে এর মান উন্নয়ন। মান উন্নয়নের প্রথম ধাপ হচ্ছে সঠিক রোগ নির্ণয় ও সঠিক বিধিমালা প্রণয়ন। সমস্যা সমূহকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করা না হলে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। সমস্যাকে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করেই রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হয়। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণ তাই রোগ নির্ণয়ের জন্য নানা ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রোগের প্রকৃত কারণ জানতে পারেন এবং নিরাময়ের জন্য ঔষধ চিহ্নিত করেন। সমস্যার কারণ সমূহ চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে যদি ত্রুটি পরিলক্ষিত হয় তবে সঠিক ঔষধ নির্বাচন করা সম্ভব নয়। বর্তমানে বাংলাদেশের বীমাশিল্পে সমস্যার প্রকৃত কারণ সমূহ চিহ্নিত করা সর্বাগ্রে প্রয়োজন। এজন্য বীমাশিল্পের সাথে জড়িত সকল শ্রেণীর সকল পেশার সংশ্লিষ্টদের সাথে খোলামন নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন। 

(ঘ) গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা 

বীমার প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে বীমা গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা করা। জানামতে দেশের অনেক বীমা কোম্পানি বিশেষ করে জীবন বীমা কোম্পানি মারাতœক রকম আর্থিক সংকটে ভূগছে। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সৃষ্টি হয়েছে মূলত বীমা গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা এবং বীমাখাতের সার্বিক উন্নয়ন সাধনের জন্য। বিগত প্রায় এক দশকে বীমা কর্তৃপক্ষ তাদের ওপর ন্যস্ত এই গুরুদায়িত্ব পালনে কতটা কার্যকরী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে তা ভেবে দেখা প্রয়োজন। বীমা কর্তৃপক্ষের উচিত বীমা আইন লঙ্ঘনকারী বীমা কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং বীমা গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষায় এগিয়ে আসা। অন্যথায় বীমার প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যহত বা পরাস্ত হতে বাধ্য। বীমাখাতে ব্যাপক সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে আর সেই প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আসতে হবে বীমা কর্তৃপক্ষের পক্ষ হতে। তাদের কৃতকার্যতা এবং ব্যর্থতা এই দুইয়ের ওপর নির্ভর করছে বীমা শিল্পের ভবিষ্যৎ। বীমা কর্তৃপক্ষ তাদের ওপর ন্যস্ত দায়িত্ব এবং কর্তব্য পালনে যথাযথভাবে সচেষ্ট হবে এমনটাই তাদের কাছে সবার প্রত্যাশা। আর এর সাথেই জড়িয়ে আছে তাদের নির্ভরযোগ্যতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সমূহ।

বীমাখাত আর্থিকখাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অথচ এ খাতের বেশিরভাগ সাধারণ কর্মচারী নি¤œ বেতন ভাতা ও অপর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধার কারণে মারাত্বক রকম আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন যাপন করছে। অনেক বীমা কোম্পানি বছরের পর বছর কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির ব্যাপারে গড়িমসি করে চলেছে। 

বীমার প্রতি সর্বসাধারণের আস্থা এবং বিশ্বাসের অভাব মূলত বীমা শিল্পের বর্তমান নৈরাজ্যজনক অবস্থার জন্য দায়ি। এই সংকট থেকে বের হওয়া সহজ ব্যাপার নয়। এর জন্য সরকার, বীমা কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। বীমা কর্তৃপক্ষকে এ কথা মনে রাখতে হবে যে, কেবলমাত্র অনুষ্ঠান উদযাপনের জন্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যথেষ্ট নয়। জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ ব্যতিরেকে এই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করার কোনো যথার্থতা বা সার্থকতা নাই। অতীতে সরকারি পর্যায়ে বর্তমানের মতো বীমাখাতকে তেমন গুরত্ব দেয়া হয়নি। বীমাখাতের সমস্যা রাতারাতি সৃষ্টি হয়নি। বছরের পর বছর ধরে পুঞ্জীভূত হয়েছে। বীমাখাতের দীর্ঘ দিনের অবহেলা, অনাদর ইত্যাদি এর জন্য বহুলাংশে দায়ী। বীমাখাতকে সঠিক লক্ষ্যে পরিচালনার জন্য এবং একে গতিশীল করার জন্য বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তপক্ষকে সঠিক এবং সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। অনেক সময় নষ্ট হয়ে গেছে। আর পেছনে ফিরে তাকানোর সময় নেই। উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করা শুধু আবশ্যক নয়, সময়ের দাবিও বটে। এ ব্যাপারে তাদের ব্যর্থতা বা অক্ষমতা বীমা সেক্টরের উন্নয়ন এবং বীমাগ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা ব্যাহত হতে বাধ্য।
 
(ঙ) দাবি পরিশোধের প্রতিশ্রুতি রক্ষা

কিছু বীমা কোম্পানি আর্থিকভাবে দুর্বল এবং অসুস্থতায় ভুগছে। বিশেষ করে জীবন বীমা কোম্পানি আর্থিক স্বচ্ছলতার অভাবে সময় মতো বীমা গ্রাহকের দাবি পরিশোধে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে বা হিমসীম খাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই যে প্রশ্নটি সামনে আসছে সেটি হচ্ছে- মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উচ্চ পদস্থ কর্মচারীর অস্বাভাবিক রকম উচ্চ মূল্যে নিয়োগ করার কি যুক্তি বা সার্থকতা থাকতে পারে? বীমাখাতে বিভিন্ন অনিয়মের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে; (১) পরিশোধিত মূলধনের শর্ত পূরণে ব্যর্থতা, (২) মেয়াদ উত্তীর্ণ পলিসির টাকা সময় মত পরিশোধ না করা, (৩) জীবন বীমা পলিসিতে লিয়েনের অপব্যবহার, (৪) জীবন বীমা গ্রাহকের ফান্ডের অপব্যবহার ইত্যাদি। কোন কোন ক্ষেত্রে প্রস্তাবকারীর মেডিকেল পরীক্ষার পরিবর্তে তৃতীয় কোন ব্যক্তির মেডিকেল পরীক্ষার রির্পোট গ্রহণের মাধ্যমে পলিসি ইস্যু করা ইত্যাদি।

বীমা গ্রাহকরা যে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তা হলো বীমা পলিসির মেয়াদ উত্তীর্ণের দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও বীমা গ্রহীতার টাকা পরিশোধ না করা। তাদের অভিযোগ, বীমা কোম্পানি এ ব্যাপারে গুরত্ব প্রদান না করে দীর্ঘ সুত্রিতার আশ্রয় নিচ্ছে এবং নানা প্রকার তালবাহানা দেখিয়ে বছরের পর বছর তাদের সঞ্চয়কৃত টাকা পরিশোধ করছে না। এটি একটি গুরতর অভিযোগ, যা বীমা আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। মৃত্যুদাবি পরিশোধের বেলায় অভিযোগ উঠেছে যে, কিছু কিছু বীমা কোম্পানি নানা প্রকার অযৌক্তিক কারণ দেখিয়ে বীমা গ্রহীতার বৈধ দাবি নাকচ/ প্রত্যাখ্যান করছে বা করার অপপ্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

অগ্রাধিকার

অনেক দেরীতে হলেও সম্প্রতি বীমা কর্তৃপক্ষ আট বছরের তথ্য, উপাত্ত ও বিশ্লেষণসমূহ বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এই প্রতিবেদনে ব্যবসার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। কোন কোম্পানির কত আয়, কত ব্যয়, প্রবৃদ্ধি কত ইত্যাদির তথ্য দেওয়া হয়েছে। এসব তথ্যের আলোকে বীমা শিল্পের উন্নয়নে কিভাবে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে বা হবে তার সুস্পষ্ট বক্তব্য বা সুপারিশ প্রতিবেদনে নেই। সরকারের নিকট কোন পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কি না তা এই প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। যেসব প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটকে এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার দায়িত্ব অর্পন করা হয়েছে তাদের উৎসাহ বা সহায়তা দেওয়া সমীচিন কিনা তাও উল্লেখ করা হয়নি। বীমা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে যে বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবার যোগ্য বলে মনে করা হয় তা নিম্নরূপ :

    বীমা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রসারের লক্ষ্যে বীমা কর্তৃপক্ষ এবং বীমা কোম্পানি সমূহের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ।
    তথ্য উপাত্ত ভিত্তিক একটি গতিশীল ওয়েবসাইট তৈরী করা।
    বীমা প্রতিষ্ঠান সমূহে কমিশন ভিত্তিক জনবলের স্তর পুর্নগঠনের নির্দেশনা প্রদান।
    বীমা কোম্পানিসমূহের সম্পদ বিনিয়োগের সঠিকতা নিশ্চিত করার জন্য ত্রৈমাসিক সম্পদ বিবরণী কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিলের নির্দেশনা প্রদান।
    প্রতিটি বীমা প্রতিষ্ঠানে সকল বিভাগের প্রধান সহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের শিক্ষা/প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা।


লেখক : বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট ফর প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট (বিআইপিডি)’র মহাপরিচালক 

সর্বশেষ