শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ , ৪ বৈশাখ ১৪৩৩

Aporup Bangla

পর্যটকের ঢল, সেন্ট মার্টিন রুটে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত টিকিট হাউসফুল

দেশজুড়ে

অপরূপ বাংলা প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯:২৭, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

সর্বশেষ

পর্যটকের ঢল, সেন্ট মার্টিন রুটে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত টিকিট হাউসফুল

ফাইল ছবি

সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটকদের আগ্রহ বেড়ে যাওয়ায় কক্সবাজার–সেন্ট মার্টিন নৌরুটে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় সব টিকিট অগ্রিম বিক্রি হয়ে গেছে। এছাড়া আগামী ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত ৫০ শতাংশ টিকিটও ইতোমধ্যে বিক্রি শেষ হয়েছে। সব মিলিয়ে এই সময়ে অগ্রিম বিক্রি হওয়া টিকিটের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার।

সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের অনুমতি পাচ্ছেন। সেই অনুপাতে ১৫ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জাহাজগুলোর টিকিট পুরোপুরি বুকড হয়ে গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১ ডিসেম্বর থেকে এই নৌরুটে জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ার পর ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ২২ হাজার পর্যটক সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ করেছেন।

সরকারি ট্রাভেল পাস ইস্যুর ওয়েবসাইট (www.travelpass.gov.bd
) অনুযায়ী, গত ১৪ দিনে প্রতিদিন দুই হাজার পাসের বিপরীতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮ শত ৭১টি পাস ইস্যু করা হয় রোববার (১৪ ডিসেম্বর)। ওই দিন ছয়টি জাহাজে করে সেন্ট মার্টিন যান ১ হাজার ৮ শত ৫৬ জন পর্যটক।

সি ক্রুজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, শুরুর দিকে পর্যটকের চাপ কম থাকলেও বিজয় দিবস ও সরকারি ছুটিকে ঘিরে তৃতীয় সপ্তাহ থেকে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মাসের শেষ দিন পর্যন্ত সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। ২৫ ডিসেম্বর সরকারি ছুটি থাকায় তখনও পর্যটকের চাপ থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও জানান, গত ১ নভেম্বর সেন্ট মার্টিন দ্বীপ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও রাতযাপনের অনুমতি না থাকায় ওই মাসে পর্যটকদের আগ্রহ কম ছিল। তবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত রাতযাপনের অনুমতি থাকায় এখন পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে এবং অনুমোদিত ছয়টি জাহাজ নিয়ম অনুযায়ী যাত্রী পরিবহন করছে।

এদিকে প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার থাকা সত্ত্বেও সেন্ট মার্টিন যাত্রায় কিছু অনিয়ম ও টিকিট জালিয়াতির ঘটনা সামনে এসেছে। যাত্রার প্রথম দিনেই, ১ ডিসেম্বর ট্রাভেল পাস ছাড়া টিকিট বিক্রির দায়ে ‘কেয়ারি সিন্দাবাদ’ নামের একটি জাহাজকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া ৩ ডিসেম্বর কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউ ঘাটে নকল কিউআর কোড সংবলিত টিকিট শনাক্ত করে ট্যুরিস্ট পুলিশ। একই টিকিটে দুইজন যাত্রী ভ্রমণের চেষ্টা করলে বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে প্রশাসনের মধ্যস্থতায় ভুক্তভোগী পর্যটকদের ভ্রমণের সুযোগ দেওয়া হয়।

গত ১১ ডিসেম্বর মিজান ট্রাভেলস নামে একটি এজেন্সি থেকে টিকিট কিনে প্রতারণার শিকার হন মানিকগঞ্জ থেকে আসা ৪৪ জন পর্যটক। অভিযোগের পর ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই এজেন্সিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে ট্যুরিস্ট পুলিশ সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে। অনিয়ম বা জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানজিলা তাসনিম জানান, প্রতিদিন ভোর থেকেই ঘাট এলাকায় যাত্রা তদারকি করা হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দিনে দুই হাজারের বেশি পর্যটক পরিবহনের সুযোগ নেই। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভ্রাম্যমাণ আদালত সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করা হয়। সর্বশেষ ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে সেন্ট মার্টিন সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের ১ হাজার ৭৪৩ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করা হয়। দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার ১২ দফা নির্দেশনা জারি করেছে।

ম. র

Bijoy

সর্বশেষ