ফাইল ছবি
বাংলাদেশ ব্যাংক-এর গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে দেওয়ার দিন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়ায় ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার সময় রিজার্ভ ছিল ২৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ১৮ মাসে রিজার্ভ বেড়েছে ১০ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ফেব্রুয়ারি দিন শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর বিপিএম–৬ হিসাবপদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভ হয়েছে ৩০ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার।
গত ১৯ জানুয়ারি গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছিলেন, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে, এমনকি তা অতিক্রমও করা যাবে।
রিজার্ভের উত্থান-পতনের প্রেক্ষাপট
দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০২১ সালের আগস্টে ৪৮ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। তখন প্রতি মার্কিন ডলারের দর ছিল ৮৪ টাকা ২০ পয়সা। তবে পরবর্তী সময়ে ঋণসংক্রান্ত অনিয়ম, অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন কারণে রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের সময় রিজার্ভ নেমে আসে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে। আইএমএফের হিসাবে তখন তা ছিল ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ডলারের দাম বাজারভিত্তিক করার পাশাপাশি প্রবাসী আয় বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেয়। আমদানি বিধিনিষেধ শিথিলকরণ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উদারীকরণ এবং হুন্ডি ও অর্থপাচার রোধে নজরদারি জোরদার করা হয়। এর ফলে প্রবাসী আয় বাড়তে থাকে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনে রিজার্ভ শক্তিশালী করে।
প্রবাসী আয় ও ডলার ক্রয়
তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে ৩১৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন। ফেব্রুয়ারির প্রথম ২৩ দিনেই এসেছে ২৫৭ কোটি ডলার।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৫৪৭ কোটি মার্কিন ডলার (৫.৪৭ বিলিয়ন) কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
অতীতের ডলার সংকট
২০২২ সালে দেশের ডলার বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। প্রতি ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ টাকায় পৌঁছে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, গত তিন অর্থবছরে প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়। এর মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৭.৬ বিলিয়ন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৩.৫ বিলিয়ন এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২.৭৯ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়। অথচ একই সময়ে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কেনা হয় প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের মতো।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি রিজার্ভ দেশের আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ম.র





