ফাইল ছবি
জ্বালানির বৈশ্বিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে জরুরি ডিজেল মজুত বাজারে ছাড়তে ফ্রান্স ও জার্মানিকে চাপ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তা না করলে দেশ দুটির জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তি। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সম্ভাব্য ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কথা ভাবছে। এর অংশ হিসেবেই ইউরোপের ওপর চাপ বাড়ানো হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য বিষয়টি কঠিন সিদ্ধান্তের। কারণ, দাম কমাতে মজুত ছাড়ার পাশাপাশি সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় পর্যাপ্ত মজুতও ধরে রাখতে হবে।ইউরোপীয় কমিশন ও ২৭টি সদস্য দেশের সমন্বয়ে গঠিত ইইউর জ্বালানি টাস্কফোর্স শুক্রবার পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করবে। বৃহস্পতিবার কমিশন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের কর্মকর্তারাও ডিজেল মজুত ছাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।তবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) এখনো জার্মানিকে মজুত ছাড়ার অনুরোধ জানায়নি বলে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। রাশিয়ার তেল আমদানি নিষিদ্ধ করার পর যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানির ওপর ইউরোপের নির্ভরতা বেড়েছে। এর মধ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটিয়েছে।
মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছেন, জরুরি ডিজেল মজুত ছাড়লে ইউরোপ জ্বালানির দাম কমাতে পারবে। একইভাবে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, আইইএর সদস্য দেশগুলোর মার্চের চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ার প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে। এখন মিত্রদেরও তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা উচিত।
এদিকে, রাশিয়া অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়েছে। ইউক্রেনের হামলায় দেশটির কয়েকটি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চীনের শোধনাগারগুলোও অভ্যন্তরীণ মজুত বাড়াতে অক্টোবরে জ্বালানি রপ্তানি স্থগিত করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর দপ্তর জানিয়েছে, গত সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ডিজেল মজুত ছাড়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়নি। তবে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও পরিশোধিত জ্বালানির বৈশ্বিক সরবরাহ নিয়ে জি৭ নেতাদের সঙ্গে ভিডিও বৈঠক করবেন ম্যাক্রোঁ।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
ম.র





