মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬ , ১৬ চৈত্র ১৪৩২

Aporup Bangla

ডিএমটিসিএল চাইছে মেট্রোরেল সেবায় ভ্যাট অব্যাহতি ২০৩৬ পর্যন্ত

অর্থনীতি

অপরুপ বাংলা প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪:৪১, ২ মার্চ ২০২৬

সর্বশেষ

ডিএমটিসিএল চাইছে মেট্রোরেল সেবায় ভ্যাট অব্যাহতি ২০৩৬ পর্যন্ত

ফাইল ছবি

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) মেট্রোরেল সেবার ওপর মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট/মূসক) অব্যাহতি আগামী ১০ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে। কোম্পানির প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০৩৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ভ্যাট অব্যাহতি বহাল রাখার দাবি করা হয়েছে।

ডিএমটিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ-এর মাধ্যমে সম্প্রতি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবের মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-কে পাঠানো চিঠিতে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, মেট্রোরেল কোনো শ্রেণিভিত্তিক সেবা নয়; এটি সবার জন্য সমান ভাড়ার গণপরিবহন। তাই সেবাটির ওপর ভ্যাট আরোপ করা যৌক্তিক নয়।

চিঠিতে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মেট্রোরেল পরিচালনা দেখলে বোঝা যায়, শুধুমাত্র ভাড়া থেকে মেট্রোরেল লাভজনকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। ভাড়া থেকে আয় সাধারণত সর্বোচ্চ ৬৫ শতাংশ হয়; বাকি ৩৫ শতাংশ সরকার ভর্তুকি হিসেবে দিয়ে থাকে। এর ফলে মেট্রোরেলকে সাশ্রয়ী এবং জনসাধারণের জন্য কার্যকর গণপরিবহন হিসেবে রাখা যায়।

ডিএমটিসিএল চিঠিতে আরও উল্লেখ করেছে, মেট্রোরেল সম্পূর্ণ বিদ্যুৎচালিত, ফলে কোনো জীবাশ্ম জ্বালানি বা তরল জ্বালানি ব্যবহার হয় না। এমআরটি লাইন-৬ চালু হওয়ায় সড়ক যানবাহনের সংখ্যা কমে গেছে, যার ফলে বছরে প্রায় ২ লাখ ২ হাজার ৭৬২ টন কার্বন নিঃসরণ কমছে। পাশাপাশি, বায়ু দূষণ ও শব্দ দূষণও কমছে।

প্রকল্পের অর্থনৈতিক প্রভাবও চিঠিতে তুলে ধরা হয়েছে। এমআরটি লাইন-৬ চালু হলে দৈনিক ট্রাফিক টাইম কস্ট বাবদ প্রায় ৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং ভেহিক্যাল অপারেশন কষ্ট বাবদ প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ টাকা সাশ্রয় হবে। এই সাশ্রয় করা অর্থ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

ডিএমটিসিএল উল্লেখ করেছে, ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৬) এখনো চলমান। প্রকল্পের মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৮-এ শেষ হবে। প্রকল্প চলমান থাকার কারণে দায় এবং সম্পদ এখনো ডিএমটিসিএলের কাছে হস্তান্তর হয়নি। কোম্পানি হিসেবে ডিএমটিসিএল উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা থেকে গ্রহণ করা ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করছে। ইতিমধ্যে মোট ১০৬ কোটি ৫ লাখ ২৯ হাজার ৮৬ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের অন্যান্য দেশের মেট্রোরেল পরিচালনার অভিজ্ঞতা অনুসারে, মেট্রোরেল একটি ‘ইনফ্যান্ট ইন্ডাস্ট্রি’। দীর্ঘমেয়াদি কর রেয়াত সুবিধা দিয়ে মেট্রোরেলকে টেকসই এবং জনসাধারণের জন্য সাশ্রয়ী রাখা হয়। উদাহরণস্বরূপ, ভারতের দিল্লি মেট্রোরেল প্রায় ২৫ বছর ধরে পরিচালনা ও সম্প্রসারণ চালিয়ে যাচ্ছে, সেখানে মেট্রোরেল সেবার ওপর কোনো ভ্যাট নেই।

এছাড়া, মেট্রোরেলের আংশিক বাণিজ্যিক পরিচালনা শুরু হওয়ার পর বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩ সালে ৩ বার এবং ২০২৪ সালে একবার বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। বর্তমানে বিদ্যুতের বিল মাসে গড়ে প্রায় ৬ কোটি টাকা। তবুও, সরকার জনসাধারণের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় ভাড়া বৃদ্ধি করেনি।

ডিএমটিসিএল-র ১৬টি স্টেশনে মোট ৮৪টি স্বয়ংক্রিয় ভাড়া আদায় মেশিনে টিকিট বিক্রি হচ্ছে। মেশিনে ভ্যাট যুক্ত করলে তা ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ হয়। তাই, কোম্পানিটি ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০৩৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ভ্যাট অব্যাহতি বজায় রাখার বিষয়টি বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে।

ডিএমটিসিএল আশা করছে, দীর্ঘমেয়াদি ভ্যাট অব্যাহতি মেট্রোরেলকে দ্রুতগামী, নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, সময়সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব এবং দূরনিয়ন্ত্রিত গণপরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

ম.র

Bijoy

সর্বশেষ

জনপ্রিয়