অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং ওয়ালটনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ওয়ালটন সোলার ইকো-সিস্টেম উন্মোচন করেন
শিল্প খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ সাশ্রয়, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের পথে এক নতুন মাইলফলক ও দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে টেক জায়ান্ট ওয়ালটন। সূর্যের আলো বা সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে শতভাগ পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চয়, জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালনের পাশাপাশি বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত দৈনন্দিন ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য পরিচালনায় এক সমন্বিত ‘সোলার ইকো-সিস্টেম’ প্রযুক্তি ব্যবস্থা উন্মোচন করেছে ওয়ালটন।
এই সোলার ইকোসিস্টেম ব্যবস্থায় নিজস্ব কারখানায় রূফটপ, ফ্লোটিং বা ভাসমান সোলার পাওয়ার প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ৩২ মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করছে ওয়ালটন। যা দেশের বড় এক জেলা শহরের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার সমান। ওয়ালটনের উৎপাদিত সৌরবিদ্যুতের বড় অংশ নিজস্ব উৎপাদন কার্যক্রমে ব্যবহারের মাধ্যমে কারখনার জ্বালানি সাশ্রয় করার পাশাপাশি নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডেও বছরে গড়ে প্রায় ১১৫০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।
সোলার ইকোসিস্টেম ব্যবস্থায় ওয়ালটন শুধু শতভাগ পরিববেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনই করছে না; বাসাবাড়ির শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, খাদ্য সংরক্ষণ, বিনোদন, রান্নাবান্না, আলোকসজ্জা, কাপড় ধোয়া ইত্যাদি দৈনন্দিন কাজে জ্বালানি সাশ্রয়ী সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারিসহ সৌরশক্তি নির্ভর পণ্যও উৎপাদন করছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর বসুন্ধরায় ওয়ালটন কর্পোরেট অফিসে এক জমকালো আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে ‘ওয়ালটন সোলার ইকো-সিস্টেম’ এর উন্মোচন করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির চেয়ারম্যান এস এম শামছুল আলম, ভাইস-চেয়ারম্যান এস এম আশরাফুল আলম, ম্যানেজিং ডিরেক্টর এস এম মাহবুবুল আলম, পরিচালক এস এম রেজাউল আলম, এস এম মঞ্জুরুল আলম অভি এবং তাহমিনা আফরোজ তান্না।
উদ্বোধনের পরে ওয়ালটনের সোলার ইকোসিস্টেমের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্যানেল, সোলার পাওয়ার ক্যাবলস, স্টোরেজ ইনভার্টার ব্যাটারি, সোলার হাই-ব্রিড প্রযুক্তিনির্ভর ফ্রিজ, এসি ও স্মার্ট টিভিসহ সৌরবিদ্যুত চালিত ওয়াশিং মেশিন, ইলেকট্রিক কুকার, ওভেন, রাইস কুকার, বিএলডিসি ফ্যান, সোলার বেজড প্যাডেস্টাল, টেবিল ফ্যান, বাল্ব, স্ট্রিট লাইটসহ ইত্যাদি পণ্যের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও জ্বালানি সাশ্রয় সম্পর্কে জেনে সন্তোষ প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি সোলার হাইব্রিড প্রযুক্তিনির্ভর এয়ার কন্ডিশনার, রেফ্রিজারেটর ও স্মার্ট টেলিভিশনে সৌরবিদ্যুৎ ও প্রচলিত গ্রিড বিদ্যুতের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নতুন সুযোগ তৈরি করায় ওয়ালটনের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “সোলার পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ। সোলারের মাধ্যমে ওয়ালটন যেটা করছে, সেটা সারা বাংলাদেশে হতে যাচ্ছে। সোলারের মাধ্যমে আগামী এক দুই বছরে দেশে বড় অংকের বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। এর ফলে কম খরচে জনগণের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানি কমবে। ফলে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে। পর নির্ভরশীলতা কমে যাবে। সোলারের মাধ্যমে শুধু বাতি নয়, ফ্রিজ, এসি, ওয়াশিং মেশিন, ওভেন থেকে শুরু করে সব ধরনের ইলেকট্রনিক্স পণ্য ব্যবহার করা যাবে। আমরা আশা করছি দেশের সব মানুষ সৌরশক্তি ব্যবহারের বিষয়ে এগিয়ে আসবেন।”
ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির চেয়ারম্যান এস এম শামসুল আলম বলেন, “ওয়ালটন সোলার ইকোসিস্টেম গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, কার্বন নিঃস্বরণ হ্রাস এবং সবুজ ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
“সোলার পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ। সোলারের মাধ্যমে ওয়ালটন যেটা করছে, সেটা সারা বাংলাদেশে হতে যাচ্ছে। সোলারের মাধ্যমে আগামী এক দুই বছরে দেশে বড় অংকের বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। এর ফলে কম খরচে জনগণের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানি কমবে। ফলে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে। পর নির্ভরশীলতা কমে যাবে। সোলারের মাধ্যমে শুধু বাতি নয়, ফ্রিজ, এসি, ওয়াশিং মেশিন, ওভেন থেকে শুরু করে সব ধরনের ইলেকট্রনিক্স পণ্য ব্যবহার করা যাবে। আমরা আশা করছি দেশের সব মানুষ সৌরশক্তি ব্যবহারের বিষয়ে এগিয়ে আসবেন।” -অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ভাইস-চেয়ারম্যান এস এম আশরাফুল আলম বলেন,“ওয়ালটন সোলার ইকোসিস্টেম পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চয় ও জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালনের পাশাপাশি গৃহস্থালির দৈনন্দিন কাজে সৌরশক্তি নির্ভর অ্যাপ্লায়েন্স উৎপাদন সক্ষমতার এক সমন্বিত প্রযুক্তি ব্যবস্থা। সোলার ইকোসিস্টেম আমাদের ব্যবসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। এর মাধ্যমে কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা ও মৌলভিত্তি আরো শক্তিশালী করে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সৃষ্টিই আমাদের লক্ষ্য।”
ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ম্যানেজিং ডিরেক্টর এস এম মাহবুবুল আলম বলেন, “সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও কার্যকর ব্যবহারের সমন্বিত প্রযুক্তি ব্যবস্থা হলো ওয়ালটন সোলার ইকোসিস্টেম। আমাদের লক্ষ্য শুধু ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নয়; বরং বাংলাদেশেই প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও উন্নয়ন ঘটিয়ে বিশ্ববাজারে দেশের সক্ষমতা তুলে ধরা।”
ওয়ালটনের সোলার ইকোসিস্টমে আওতায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি নির্ভর শতভাগ পরিবেশান্ধব প্রযুক্তিপণ্য পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে ওয়ালটন বাংলাদেশের হাই-টেক শিল্প খাতের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা, অগ্রগতি ও সক্ষমতাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলে মনে করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ওয়ালটনের সোলার ইকোসিস্টেম ব্যবস্থায় হাইব্রিড প্রযুক্তিতে চলবে এসি, ফ্রিজ ও টিভি। পর্যাপ্ত সূর্যালোক থাকলে ব্যাটারি ছাড়াই সরাসরি সৌরবিদ্যুতে চলবে হাইব্রিড প্রযুক্তি নির্ভর ওয়ালটনের সোলার ফ্রিজ, এসি ও স্মার্ট টিভি। সৌরবিদ্যুতের সরবরাহ প্রয়োজনের তুলনায় কম হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিড থেকে ঘাটতি বিদ্যুৎ গ্রহণের মাধ্যমে চালু থাকবে হাইব্রিড ফ্রিজ, এসি ও টিভি। ফলে সৌরবিদ্যুতের প্রাপ্যতা অনুযায়ী গ্রিড বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো সম্ভব।
এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম বা ইএসএস প্রযুক্তির সমন্বয়ে ওয়ালটন সোলার ইকোসিস্টেম ব্যবস্থায় সৌরবিদ্যুৎ নির্ভর নতুন মডেলের ওয়াশিং মেশিন, কুকার ও ওভেন যুক্ত করা হয়েছে। দিনের বেলায় সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে সংরক্ষণ করে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন গৃহস্থালি কাজে ব্যবহার করা যায়। এই ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ওয়াশিং মেশিন, ইলেকট্রিক কুকার, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, রাইস কুকার এবং বিএলডিসি ফ্যানের মতো পণ্যও পরিচালনা করা যাবে।
ওয়ালটনের ইনভার্টার ব্যাটারিত সোলার চার্জার ও এসি চার্জার সমন্বিত থাকায় সৌরবিদ্যুৎ ও গ্রিড—উভয় উৎস থেকে ব্যাটারি চার্জ করা যায়।
ওয়ালটনের সোলার ইকোসিস্টেমের আওতায় নতুন মডেলের তাকিওন ই-বাইকে সংযুক্ত করা হয়েছে ইন্টেলিজেন্ট ব্যাকআপ পাওয়ার সাপ্লাই সিস্টেম স্মার্ট, পরিবেশবান্ধব ও বহুমুখী এনার্জি সল্যুশন সমৃদ্ধ ব্যাটারি। এই প্রযুক্তির ব্যাটারি ই-বাইককে একটি মোবাইল এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমে রূপান্তর করে, যা পরিবহন, সৌরশক্তি সংরক্ষণ ও জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহের সুবিধা একসঙ্গে প্রদান করে।
“সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও কার্যকর ব্যবহারের সমন্বিত প্রযুক্তি ব্যবস্থা হলো ওয়ালটন সোলার ইকোসিস্টেম। আমাদের লক্ষ্য শুধু ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নয়; বরং বাংলাদেশেই প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও উন্নয়ন ঘটিয়ে বিশ্ববাজারে দেশের সক্ষমতা তুলে ধরা।” -এস এম মাহবুবুল আলম, এমডি, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি
এ ছাড়া সোলার ইকোসিস্টের সমন্বিত ব্যবস্থায় সৌরবিদ্যুতের নিরাপদ ও স্বাভাবিক সঞ্চালনের বিষয়টি মাথায় রেখে ওয়ালটন এনেছে ফটোভোলটাইক বা সোলার ক্যাবল। UV রশ্মি, আর্দ্রতা ও বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশে ব্যবহারের উপযোগী ওয়ালটন সোলার ক্যাবলসে নমনীয় টিনড কপার কন্ডাক্টর এবং বিশেষ ইনসুলেশন ব্যবহৃত হয়েছে। এর মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগের সুবিধা পাওয়া যায়।





