শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬ , ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Aporup Bangla

ক্ষোভে উত্তাল দক্ষিণ আফ্রিকা, ২৪ গাড়িতে আগুন

সারাবিশ্ব

প্রকাশিত: ০৯:২৮, ৯ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

ক্ষোভে উত্তাল দক্ষিণ আফ্রিকা, ২৪ গাড়িতে আগুন

ছবি : সংগ্রহ

দক্ষিণ আফ্রিকায় আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন গ্রহণের বিরোধিতা করে বিক্ষোভে নেমে সহিংসতায় জড়িয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ডারবান ও জোহানেসবার্গের সোয়েটু এলাকায় গাড়িতে আগুন দেওয়া ও বিদেশিদের মালিকানাধীন দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশের হিসাবে, দুই শহরে অন্তত ২৪টি যানবাহন পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি পোর্ট এলিজাবেথেও বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে।

আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন গ্রহণ বন্ধের দাবিতে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ পরে সহিংস রূপ নেয়। দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারের অভিযোগ, আদালতের রায় নিয়ে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
ডারবানে চে গুয়েভারা সড়কের রিফিউজি রিসেপশন সেন্টার ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়।

বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রটিতে আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণ বন্ধের দাবি জানান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কেন্দ্রটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয় এবং আবেদনকারীদের সেখান থেকে সরে যেতে বলা হয়। পরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায়।
পুলিশের হিসাবে, ডারবানে অন্তত ১৪টি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়েছে। বিদেশি নাগরিকদের মালিকানাধীন কয়েকটি দোকানেও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এক বিক্ষোভকারীকে মারধরের অভিযোগে তিন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

জোহানেসবার্গের সোয়েটুর অরল্যান্ডো ওয়েস্ট এলাকায় হোম অ্যাফেয়ার্স অফিস বন্ধের দাবিতে মিছিল করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কয়েকটি দোকানে লুটপাট এবং যানবাহনে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশের হিসাবে, সোয়েটুতে অন্তত ১০টি যানবাহন পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সংঘর্ষের সময় গুলির শব্দ শোনা গেলেও কারা গুলি করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে পোর্ট এলিজাবেথের গকেবেরহা এলাকায় হোম অ্যাফেয়ার্সের রিফিউজি অফিসে অস্থায়ী অনুমতিপত্রের জন্য শত শত আশ্রয়প্রার্থী জড়ো হন। তাদের আবেদন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে প্রায় ৩০ জন বিক্ষোভকারী সেখানে অবস্থান নেন। আবেদনকারীদের সরে যেতে বলাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

আদালতের রায় ঘিরে উত্তেজনা

গত জুলাইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সাংবিধানিক আদালত আশ্রয়ের আবেদন করার ক্ষেত্রে কিছু প্রক্রিয়াগত বাধা তুলে দিয়ে রায় দেন। এর ফলে অনিয়মিতভাবে দেশে প্রবেশ করা, আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত ট্রানজিট ভিসা না থাকা কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিপোর্ট করতে না পারার মতো কারণে কাউকে আবেদন করার সুযোগ থেকে সরাসরি বঞ্চিত করা যাবে না।

আদালতের রায়ের পর দেশটির স্বরাষ্ট্র দপ্তর নতুন আবেদনকারীদের জন্য আশ্রয়প্রক্রিয়া আবার চালু করে। এতে বিভিন্ন রিফিউজি রিসেপশন সেন্টারে আবেদনকারীর সংখ্যা বেড়ে যায় এবং দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। তবে আবেদন বেড়ে যাওয়ায় অফিসগুলো চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে বলে জানিয়েছে সরকার।

আশ্রয়ের আবেদন মানেই শরণার্থী মর্যাদা নয়

সরকার জানিয়েছে, আদালতের রায়ের অর্থ এই নয় যে আশ্রয়ের আবেদন করলেই কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শরণার্থী মর্যাদা, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা অন্য কোনো আইনি অধিকার পেয়ে যাবেন। প্রতিটি আবেদন যাচাই-বাছাই করে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরিচয় যাচাই ও আবেদন নিষ্পত্তির সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

সরকারের মুখপাত্র উইলিয়াম বালয়ি বলেছেন, আদালতের রায় নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর কারণে সহিংসতা উসকে উঠেছে। অন্যদিকে, পুলিশের ভারপ্রাপ্ত জাতীয় কমিশনার পুলেং দিমপানে বলেছেন, প্রতিবাদ জানানোর অধিকার থাকলেও অপরাধ সংঘটনের অধিকার কারও নেই। যানবাহনে আগুন দেওয়া ও লুটপাটে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ নতুন নয়। চলতি বছরও বিভিন্ন এলাকায় বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। বেকারত্ব, কর্মসংস্থান এবং সরকারি সেবার ওপর চাপ নিয়ে অসন্তোষের মধ্যে অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তবে অভিবাসীরাই চাকরি সংকট ও অপরাধ বৃদ্ধির জন্য দায়ী-এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই বলে সামাজিক বিজ্ঞানীদের বক্তব্য তুলে ধরেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), আল জাজিরা।

ম.র

সর্বশেষ

জনপ্রিয়