ফাইল ছবি
সবার সাধ্যের মধ্যে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার ব্রত নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। অযৌক্তিক সিজারিয়ান অপারেশন এড়ানোর বিষয়ে উৎসাহিত করছে এ হাসপাতাল। গত এক বছরে প্রায় ১৫ হাজার প্রসূতির স্বাভাবিক সন্তান প্রসব হয়েছে এ হাসপাতালে। ঈদুল আযহার পর থেকে গত ৬ দিনে এই হাসপাতালে ৬১ টি স্বাভাবিক ডেলিভারি এবং ১২৮ টি সিজারিয়ান ডেলিভারিসহ মোট ১৮৯ টি ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে। এমনকি প্রথমবার সিজার থাকলেও পরবর্তীতে প্রসূতির স্বাভাবিক সন্তান প্রসব হয়েছে।
মগবাজার আদ্-দ্বীন হাসপাতালের গর্ভবতী সেবা কেন্দ্রে প্রতিদিন অ্যান্টিনেটাল কেয়ার নিতে আসেন ৩৫০ থেকে ৪ শতাধিক গর্ভবতী মা। তাঁদের সঙ্গে হাসাপতালের নিয়মিত টেলিকমিউনিকেশন হয়। চেকআপ ডেটের আগে, ডেলিভারির আগে যোগাযোগ করা হয়। কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে তাঁদের হাসপাতালে ডেলিভারির বিষয়ে উৎসাহিত করা হয়। আদ্-দ্বীনে ওয়ান টু ওয়ান, অর্থাৎ একজন মায়ের জন্য একজন মিডওয়াইফ নিবেদিত থাকেন। এ হাসপাতালে দিনে ৩০-৩৫ টি স্বাভাবিক ডেলিভারি এবং ৬০-৬৫ টি সিজারিয়ান ডেলিভারি সম্পন্ন হয়ে থাকে। আদ্-দ্বীন একটি রেফারেল হাসপাতাল। বিভিন্ন জায়গা থেকে রেফার করা রোগীরা এ হাসপাতালে আসেন ডেলিভারির জন্য।
আমেনা আক্তার নামে একজন রোগী জানান, ‘আমার প্রথম সন্তান সিজারের মাধ্যমে হয়েছে। এজন্য আমার পরিবারের সবাই সিজারিয়ান করতে বলেছে। তবে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সেরা আমাকে নরমাল ডেলিভারিতে উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং সাহস জুগিয়েছেন। তাঁদের পরামর্শে আমি নরমাল ডেলিভারিতে সম্মতি দিই। নরমাল ডেলিভারি করাতে পেরে আমি খুশি।’
আদ্-দ্বীন হাসপাতালসমূহের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন বলেন, ‘আদ্-দ্বীন হাসপাতাল শুরু থেকেই নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে গর্ভবতী মায়েদের আস্থা অর্জন করেছে। আমরা মূলত চেষ্টা করি নিরাপদ সন্তান প্রসব করানোর।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগের সিজারিয়ান ডেলিভারি থাকলেও আমরা রোগীদের কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে নরমাল ডেলিভারিতে উদ্বুদ্ধ করি। তবে মা ও শিশু যাতে সুস্থ থাকে আমরা সেদিকে লক্ষ রেখেই সিজারিয়ান রোগীকেও নরমাল ডেলিভারি করে থাকি।’
উল্লেখ্য, এই হাসপাতালে গত ২৪ ঘন্টায় বহির্বিভাগে ১২৩৮ জন রোগী সেবা গ্রহণ করেছে। এছাড়া ৬৭ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
ম.র





