ফাইল ছবি
একটা হাসপাতাল বন্ধ করা হয়েছে। অপরাধ ৬ নব জাতক শিশুর অনাকাঙ্খিত মৃত্যু। দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রনালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে গঠিত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়। বন্ধ হয় যায় হাসপাতালটির সব কার্যক্রম। কিন্তু হাসপাতালটি বন্ধ হওয়াটিই যেন শেষ কথা নয়। শিশু মৃত্যুর শাস্তি হিসেবে হাসপাতাল বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্তকে প্রথমে অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও পরক্ষণেই মানুষের আবেগ-অনুভূতি যেন বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ারের মতো উপচে পড়েছে হাসপাতালটিকে কেন্দ্র করে। গত এক মাস ধরে আপনি যদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো খেয়াল করেন তাহলে দেখতে পাবেন লাখো মানুষের কণ্ঠস্বর হাসপাতালের পক্ষে ধ্বণিত হয়েছে। কেউ লিখেছেন, কেউ ভিডিও তৈরি করে পোস্ট করেছেন। অনেক নিউজপোর্টাল তাদের নিয়মিত ভিডিও রিপোর্ট তৈরি করেছে। মোট কথা হাসপাতালটি বন্ধের ফলে সকলের অগোচরে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠে। কেউ কেউ রাস্তায় নামেন।
প্রশ্ন হচ্ছে এটা কেন হলো? জবাবটাও কিন্তু ওইসব লেখা, ভিডিও, রিপোর্ট আপনি যদি দেখে থাকেন তাহলে পেয়ে যাবেন। এসব কাজের মধ্যে একটি বিষয় খুবই স্পষ্ট যে, স্বল্পমূল্যে এমন মান সম্মত চিকিৎসা সেবা রাজধানীতে এক মাত্র আদ্-দ্বীনেই মিলতে পারে। অনেকেই উল্লেখ করেছেন দেশের বেহাল স্বাস্থ্যসেবার মধ্যে আদ্-দ্বীন ২০০ টাকায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে, ৩৮০ টাকায় এম্বুলেন্স সেবা পাচ্ছে সাধারণ মানুষ। ৪০০ টাকায় ডায়ালাইসিস সেবা মিলছে এখানে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে। এছাড়াও এখনকার আইসিইউ সেবা হাতের নাগালে। আদ্-দ্বীন এতোসব কেন করেছেন? শুধু বিজনেস মানসিকতা থাকলে এ ভাবে কমমূল্যে আধুনিক সেবা পৌছে দেয়া যায় না। ফতুর হতে হয়। তবুও আদ্-দ্বীন তাদের সেবা এক মূহুর্তের জন্য থামায়নি। হাসপাতালটি যখন বন্ধ হয়ে যায় তখনও বিনা খরচে এম্বুলেন্সের মাধ্যমে রোগীদের তাদের অন্য শাখায় পৌছে দিয়েছে।
হাসপাতালটি এক মাস বন্ধ থাকার কারণে কর্তৃপক্ষে চেয়ে সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার রেখার ভাজ পড়েছিল বেশি। রাজধানীতে যে আয় তা দিয়ে কোনো রকমে খেয়েপড়ে অনেকে বেঁচে আছেন। তারপর পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে তার চিকিৎসা করাতে হিমশিম খেতে হয়। এছাড়াও এমন আস্থাশীল হাসপাতাল রাজধানীতে আর কয়টা আছে সেটাও ভাবনার বিষয় ছিল তাদের। শুধু হাসপাতালের হাজারো কর্মকর্তা কর্মচারী বেকার হচ্ছে, বিদেশী শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়ছেন বিষয়টা আর সেই জায়গায় আটকে থেকেনি। বিষয়টি সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবার ওপর প্রভাব ফেলেছে।
সরকার নানা কারণে আদ্-দ্বীন খুলে দেয়ার ব্যাপারে এখন অনেক ইতিবাচক। যা খোঁজ পাচ্ছি আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষই হাসপাতাল সংস্কারে সরকারের সব শর্ত পূরণে করে হাসপাতালটি উপযোগী করে তুলেছে। দেখলে সেই ওয়ার্ডটি এখন আর চেনাই যায় না। বেকারি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। খোলামেলা বাতাস প্রবেশের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। দায়ীদের শাস্তি দেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে আর এ ধরণের দুর্ঘটনা যেন না ঘটে সে ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। সব মিলিয়ে আস্থার দুয়ার খুলছে এমনটাই আভাস পাওয়া গেছে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথায়।
আদ্-দ্বীনের ঘটনা একটি শিক্ষা দেয়। সেটি হলো যা ভালো তার পক্ষে মানুষ স্বার্থহীন ভাবে দাঁড়ায়। সামাজিক মাধ্যমের এই যে মানুষের দায়বোধের প্রকাশ তার প্রতি অবশ্যই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কৃতজ্ঞ থাকতে হবে। সেবা নিয়ে তারা যেমন মানুষের পাশে আছে মানুষই তেমনি দু:সময়ে তাদের পক্ষে কথা বলবে-এটা সার কথা। সবশেষ খুলে যাক আদ্-দ্বীন মানুষের যে দম বন্ধ এক অনূভূতি যেটা মুক্ত হোক। আদ্-দ্বীনের হাত ধরে দেশের স্বাস্থ্যখাত এগিয়ে যাক।
ম.র





