মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ , ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

Aporup Bangla

সাবেক সেনা কর্মকর্তা গুলশান আরা ও দেবাশীষ বড়ুয়া চার দিনের রিমান্ডে

আইন আদালত

অপরূপ বাংলা প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:২০, ১২ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

সাবেক সেনা কর্মকর্তা গুলশান আরা ও দেবাশীষ বড়ুয়া চার দিনের রিমান্ডে

ছবি : প্রতিনিধি

সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র, সহিংসতায় উসকানি, অবৈধ অর্থায়ন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে ডিএমপির পল্লবী থানায় করা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তাকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তারা হলেন– লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরা (৪৩) ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া (৪৭)।
সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষ থেকে জামিন ও রিমান্ড বাতিলের আবেদন করা হয়।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিরা পল্লবী থানার একটি বাসায় অবস্থান করে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাপোর্টারস আলফা’ ও ‘বিবিএম ট্রান্সফারেন্সি’ নামে দুটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলেছিলেন। এসব গ্রুপের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও সহিংসতায় উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, ‘ইউনিটি কেয়ার’ ও ‘পাবলিক পার্লামেন্ট’ নামের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তারা সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পলাতক অন্য শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগসাজশে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া ‘কালআজকাল ডটকম’ নামের একটি ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চালানোর অভিযোগও করা হয়েছে।
রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালে একটি গোলটেবিল বৈঠকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে আসামিরা ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ গঠন করেন। পরে তাঁরা সংগঠনটির ১০১ সদস্যের একটি কমিটি তৈরি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার যোগাযোগের তথ্য পাওয়ার কথাও আবেদনে উল্লেখ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন, মামলার অন্য সহযোগীদের নাম-ঠিকানা ও অবস্থান শনাক্ত করা, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা, ডিজিটাল আলামত ও অবৈধ অর্থায়নের উৎস খুঁজে বের করা এবং আসামিদের পরিচালিত অন্য ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজের তথ্য সংগ্রহের জন্য তাদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। মামলার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটনও রিমান্ড চাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গতকাল রবিবার রাতে রাজধানীর পল্লবী ও বনানী থানার ডিওএইচএস এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

ম.র

সর্বশেষ