বুধবার, ২৯ মে ২০২৪ , ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

modhura
Aporup Bangla

বীমায় সুশাসন ও আস্থা দুটোই ফিরছে : শেখ কবীর হোসেন

সাক্ষাৎকার

অপরূপ বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪:৪১, ৫ মার্চ ২০২৩

সর্বশেষ

বীমায় সুশাসন ও আস্থা দুটোই ফিরছে : শেখ কবীর হোসেন

শেখ কবীর হোসেন

১৯৬০ সালের ১ মার্চ তৎকালীন আলফা ইন্স্যুরেন্সে যোগদানের মাধ্যমে বীমা পরিবারের সদস্য হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ফলে এ খাতের প্রতি বঙ্গবন্ধুর ছিল আলাদা টান। তাই দেশ স্বাধীন হলে বীমা খাতের সংস্কারে পদক্ষেপ নেন। সাধারণ বীমা করপোরেশন, জীবন বীমা করপোরেশন ও বীমা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু ’৭৫-এ বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর এ খাতটি সংস্কারের অভাব, অবহেলা আর অবজ্ঞায় উঠে দাঁড়াতে পারেনি। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার ২০১১ সালে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) প্রতিষ্ঠার পর একটু একটু করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এ খাত। সুশাসনের সঙ্গে সঙ্গে আস্থাও ফিরছে।
এখাতে ব্যবস্থাপনার কিছু সসম্যা অবশ্য রয়ে গেছে। বীমা দাবি নিয়ে সমস্যা মূলত ব্যবস্থাপনায়। আমি মনে করি এখানে অটোমেশন চালু করলে স্বচ্ছতা আসবে। তখন কেউ চাইলেও অনিয়ম করতে পারবে না। এটা নিয়ে কাজ করছে আইডিআরএ। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে জীবন বীমা করপোরেশন, সাধারণ বীমা করপোরেশন এবং বাংলাদেশ বীমা একাডেমিতে অটোমেশন করা হচ্ছে। এটা হলে বীমা খাতকে এগিয়ে নেবে। 
একদিকে অভিযোগ যেমন আছে তেমনই কিন্তু অনেক কোম্পানি সাত দিনের মধ্যে বীমা দাবি পরিশোধ করছে। এটা কিন্তু ইতিবাচক। আর যেসব কোম্পানি বীমা দাবি পরিশোধে গড়িমসি করছে তাদের সম্পদ বিক্রি করে হলেও গ্রাহক দাবি পূরণে নির্দেশনা দিয়েছে আইডিআরএ। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে সব ধরনের সহায়তা দেবে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন।
বীমাখাতে দক্ষতা বাড়াতে এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সরকার কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। বীমাখাতে সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ক্ষেত্রে দক্ষতার অভাব আছেই, সঙ্গে সদিচ্ছার অভাবও রয়েছে। এ জন্য অনেক বীমা কোম্পানি সময় মতো বীমা দাবি পূরণ করতে পারে না। সরকার এই সমস্যা সমাধানে বিদেশে বীমা শিক্ষার ব্যবস্থা করেছে। এরই মধ্যে কয়েকজনকে অ্যাকচুয়ারি বিজ্ঞানে পড়াশোনা করতে বৃত্তি দিয়ে বিদেশ পাঠিয়েছে। পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরলে বীমা খাতের দক্ষ জনবল পাওয়া যাবে। 
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য বীমা কোম্পানিগুলোকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে জবাবদিহির মুখে পড়তে চায় না অনেক কোম্পানি। এছাড়া অনেক কোম্পানি অনিয়মের কারণে একটা স্বচ্ছ আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করতে পারছে না, যা তালিকাভুক্তির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব কারণে অনেক বীমার আর্থিক প্রতিবেদন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ (বিএসইসি) গ্রহণ করতে পারছে না।
আইন থাকার পরও সেগুলোর বাস্তবায়ন না থাকায় পিছিয়ে পড়ছে বীমা খাত। আইন অনুযায়ী ১০০ জনের বেশি কর্মী থাকলে বীমার আওতায় আনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে কিন্তু বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এজন্য সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে এটা আমাদের প্রত্যাশা। 
 

জা. ই

সর্বশেষ