ফাইল ছবি
র্যাবের টিএফআই সেলে বিরোধী মতের ব্যক্তিদের গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের যে বিচার চলছে, তা দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয় বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
বুধবার দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে গুমের মামলায় সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষে সাংবাদিকদের সামনে এ মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, র্যাবের যেসব কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে, তাদের একজন আইনজীবী ভার্চ্যুয়াল শুনানির আবেদন করেছিলেন। কিন্তু আদালত আবেদনটি নাকচ করেন। তাঁর দাবি, আসামিপক্ষ সেনাবাহিনীর সঙ্গে এই বিচারকে মুখোমুখি করার চেষ্টা করছে, যা শুনানিতে স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আদালত স্পষ্ট জানিয়েছেন—এই বিচার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয়। আমরা-ও বলেছি, এটি দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো বিচার নয়। কারণ আসামিরা ওই সময় সামরিক শৃঙ্খলার বাইরে, র্যাবে দায়িত্ব পালনকালে এসব অপরাধ করেছেন। এ ধরনের অপরাধ মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে পড়ে। তাই বিশেষ সুবিধা চেয়ে করা আবেদন আদালত খারিজ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, আইন অনুযায়ী সবার অবস্থান এক। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তারা নির্দোষ। তবে অন্য আসামিরা যেসব সুবিধা পান, এর বাইরে অতিরিক্ত কোনো সুবিধা তারা পাবেন না।
এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ করেছে প্রসিকিউশন। আসামিপক্ষ অব্যাহতির আবেদন করেছে। সময়ের আবেদন বিবেচনায় নিয়ে আগামী ১৪ ডিসেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন রেখেছে ট্রাইব্যুনাল।
দিনের শুরুতে সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে গ্রেপ্তার ১০ সেনা কর্মকর্তাকে পুলিশ ট্রাইব্যুনালে হাজির করে। তারা হচ্ছেন—ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম, তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, কামরুল হাসান, মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, কর্নেল মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম।
পলাতকদের তালিকায় আছেন—সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদসহ র্যাবের কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা। হাজির না হওয়ায় আদালত তাদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ করেছে।
২৩ নভেম্বর অভিযোগ গঠন নিয়ে শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য ছিল। এর আগে ২২ অক্টোবর গ্রেপ্তার ১০ কর্মকর্তাকে হাজির করা হলে ট্রাইব্যুনাল তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। পরে পলাতকদের নামে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। ৮ অক্টোবর প্রসিকিউশন মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে, যা ট্রাইব্যুনাল আমলে নেয়।





