ফাইল ছবি
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানি আপিল বিভাগ ৫ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করেছে। আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির বেঞ্চ বুধবার এই আদেশ দেন। হাইকোর্ট ২০২৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু অংশ অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন। বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল, ৭ক, ৭খ এবং ৪৪ (২) অনুচ্ছেদ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধানে থাকা গণভোটের বিধান পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। তবে পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল হয়নি।
সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া লিভ টু আপিল দায়ের করেন। বিএনপি, জামায়াত, ইনসানিয়াত বিপ্লবসহ আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি আপিলে ইন্টারভেনর হিসেবে যুক্ত হন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদ উদ্দিন। আপিলকারীরা চেয়েছেন পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করা হোক। আদালত এখন তা নিয়ে পরবর্তী শুনানি করবে।
পঞ্চদশ সংশোধনী ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয়। এতে শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয় এবং সংসদে নারীদের সংরক্ষিত আসন ৪৫ থেকে ৫০ করা হয়। এছাড়া মোট ৫৪টি বিষয়ে পরিবর্তন ও সংযোজন আনা হয়।
হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছিল, ৭ক ও ৭খ অনুচ্ছেদ বাতিল, যা সংবিধানের মৌলিক বিধান সংশোধন অযোগ্য করার চেষ্টা করেছিল। ৪৪ (২) ধারা বাতিল করা হয়েছে, যা আদালতের ক্ষমতা সীমিত করার বিষয়। হাইকোর্ট গণভোটের বিধান পুনঃস্থাপন করেছে। আদালত জানিয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জনগণের চাহিদা অনুযায়ী সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। দলীয় সরকারের অধীনে গত তিনটি সংসদ নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার যথাযথ প্রতিফলন হয়নি। এর ফলে গণতন্ত্রের মৌলিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পরবর্তী ধাপে আপিল শুনানি ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হবে। জাতীয় সংসদ বাকি অংশ নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন, পরিবর্তন ও পরিমার্জন করতে পারবে। এতে জাতির পিতার স্বীকৃতি এবং ২৬ মার্চের ভাষণ সংক্রান্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ম.র





