ফাইল ছবি
অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপেশাদার আচরণের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
সোমবার এবি পার্টির যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার সাদাত টুটুল এবং পটুয়াখালীর বাসিন্দা মুহাম্মদ জাকির হোসাইন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
অভিযোগ দাখিলের পর আনোয়ার সাদাত টুটুল বলেন, বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপেশাদার আচরণ দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন করেছে। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা ও মর্যাদা রক্ষার লক্ষ্যে এই অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিচারপতি আশফাকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ উপার্জন, অর্থের বিনিময়ে রায় প্রদান, জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জন এবং বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কিছু আইনজীবীর সঙ্গে সমন্বয় করে তিনি নির্দিষ্ট মামলায় দ্রুত শুনানি শেষে পক্ষপাতদুষ্ট রায় প্রদান করতেন।
আরও অভিযোগ করা হয়, হাইকোর্ট বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে তিনি কিছু মামলায় শর্ট রুল জারি করে দ্রুত শুনানি গ্রহণ করতেন এবং ঘুষদাতার পক্ষে রায় দিতেন।
দাখিলকৃত অভিযোগে বলা হয়েছে, বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে উন্নীত হন। অভিযোগকারীদের দাবি অনুযায়ী, তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, তার পিতা প্রয়াত বিচারপতি এ. কে. এম. নুরুল ইসলাম ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এইচ. এম. এরশাদের নেতৃত্বাধীন সরকারের উপ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি শিক্ষামন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন।
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম বিভিন্ন রায় ও আদেশের মাধ্যমে সাবেক সরকারের রাজনৈতিক অবস্থানকে সমর্থন করেছেন এবং বিচারিক সিদ্ধান্তে পক্ষপাতিত্ব প্রদর্শন করেছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ম. র





