মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬ , ১৬ চৈত্র ১৪৩২

Aporup Bangla

ঈদযাত্রায় সড়কে রক্তঝরা

জাতীয়

অপরুপ বাংলা প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩:০৫, ২৫ মার্চ ২০২৬

সর্বশেষ

ঈদযাত্রায় সড়কে রক্তঝরা

ফাইল ছবি

ঈদুল ফিতরের ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশের সড়কগুলোতে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার পরিসংখ্যানের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যাওয়ায় তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) জানিয়েছে, ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সাত দিনের ঈদ ছুটিতে সারাদেশে ৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১০০ জন নিহত এবং ২১৭ জন আহত হয়েছেন। তবে বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রাথমিক হিসেবে একই সময়ে ২৬৮টি দুর্ঘটনায় অন্তত ২০৪ জন নিহত এবং ছয় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

সরকারি হিসাবে অনেক দুর্ঘটনার তথ্য বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত একটি বাস দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হওয়ার ঘটনাও সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। বিশেষ করে ২১ মার্চের বিআরটিএর প্রতিবেদনে কুমিল্লার কোনো ঘটনার উল্লেখ নেই।

ঈদের সময় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে দুর্ঘটনায় আহতদের চাপও ছিল চোখে পড়ার মতো। জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) ঈদের আগের রাত থেকে পরদিন বিকেল পর্যন্ত ১৫১ জন আহত রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। অন্যান্য হাসপাতালেও একই চিত্র দেখা গেছে। অধিকাংশ দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক জড়িত ছিল।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদযাত্রা সাধারণত ১৫ দিন ধরে চলে—ঈদের আগে সাত দিন, ঈদের দিন এবং পরের সাত দিন। গত বছর এই সময়ে ৩১৫টি দুর্ঘটনায় ৩২২ জন নিহত হন। ২০২৪ সালে একই সময়ে ৩৭২টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৪১৬ জন, যা ছিল এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এবারের ঈদযাত্রা শুরু হয় ১৭ মার্চ এবং ২৩ মার্চ পর্যন্ত সাত দিনের ছুটি শেষ হলেও এখনও অনেক প্রতিষ্ঠানে ছুটি চলমান রয়েছে। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি।

বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য প্রাথমিক। পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করা হলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তার আশঙ্কা, এবারের ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনায় প্রাণহানির নতুন রেকর্ড হতে পারে।

অন্যদিকে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরার সময় দুর্ঘটনা বাড়ার প্রবণতা থাকে। এ সময় সড়কে নজরদারি ও আইন প্রয়োগ তুলনামূলকভাবে কমে যায় বলেই ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ম.র

Bijoy

সর্বশেষ

জনপ্রিয়