ইরানের জ্বালানিমন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদ/ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘ সাত মাসের সামরিক ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই আকস্মিক রাজনৈতিক ধাক্কা খেল ইরান। তীব্র অর্থনৈতিক চাপ, জ্বালানি সংকট ও তেল রপ্তানি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পদত্যাগ করেছেন দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদ।
রোববার (৪ অক্টোবর) তাসনিম নিউজের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি। একই দিন রয়টার্সও ইরানের জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগের খবর প্রকাশ করেছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের যোগাযোগ বিভাগের উপপ্রধান মেহদি তাবাতাবাই জানান, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মহসেন পাকনেজাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। তার জায়গায় মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তদারকির জন্য ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানির (এনআইওসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হামিদ বোভার্দকে ভারপ্রাপ্ত জ্বালানিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের আগস্টে ইরানের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেন মহসেন পাকনেজাদ। তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর আন্তর্জাতিক সংস্থা ওপেকের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ইরানের তেল নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় দুই বছরের মাথায় আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকট এবং তেল রপ্তানি নিয়ে বাড়তে থাকা ঝুঁকির মধ্যে তাকে পদ ছাড়তে হলো।
তবে কেন পাকনেজাদ পদত্যাগ করেছেন, সে বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো কারণ জানানো নানা হলেও রয়েছে নানা আলোচনা। সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি হয়েছে পদত্যাগের সময় নিয়ে। আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদত্যাগের খবর প্রকাশের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ বক্তব্যে তেল বিক্রি নিয়ে আশাবাদী ছিলেন পাকনেজাদ।
ওই বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক বাধা ও অবরোধের মধ্যেও ইরানের তেল বিক্রির অর্থ যথাসময়ে দেশের অর্থনীতিতে প্রবেশ করছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার পদত্যাগের খবর সামনে আসায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে-হঠাৎ কী কারণে পরিস্থিতির পরিবর্তন হলো? তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন, নাকি তাকে সরে দাঁড়াতে হয়েছে, সে বিষয়েও এখন পর্যন্ত তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপ, তেল ও জ্বালানি সরবরাহে ক্রমাগত বিঘ্ন এবং তেল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ইরানের জ্বালানি খাতে এই আকস্মিক পরিবর্তনের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
পাকনেজাদের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া হামিদ বোভার্দ বর্তমানে রাষ্ট্রীয় তেল উত্তোলন ও বিপণন প্রতিষ্ঠান এনআইওসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তার নেতৃত্বে ইরানের জ্বালানি মন্ত্রণালয় এখন কীভাবে চলবে, বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে তেল রপ্তানি ও অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহের সংকট কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, সেদিকেই নজর থাকবে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি
ম.র





