মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ , ১১ কার্তিক ১৪৩৩

Aporup Bangla

আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ৬.৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে জাপান

জাতীয়

অপরূপ বাংলা প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:৫২, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১১:৫৪, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ৬.৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে জাপান

ফাইল ছবি

ঢাকা: আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ৬.৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বেসরকারি বিনিয়োগের প্রত্যাশা করছে জাপান। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বাংলাদেশ ও জাপান তাদের বিদ্যমান অংশীদারত্বকে ‘কৌশলগত অংশীদারত্বে’ উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

সানায়ে তাকাইচি জানান, দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার অন্যতম প্রধান উদ্যোগ ‘বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি অঞ্চল’ বা ‘বিগ-বি’ আরও সম্প্রসারণ করা হবে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একমত পোষণ করে তিনি এ উদ্যোগকে ‘সমৃদ্ধি ভাগাভাগি করার বিগ-বি’ হিসেবে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে দ্রুত ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (ইপিএ) কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। এ লক্ষ্যে শিগগিরই বাংলাদেশে জাপানি ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল পাঠানোর পরিকল্পনার কথা জানান সানায়ে তাকাইচি।

নতুন কৌশলগত অংশীদারত্বের কার্যক্রম চারটি মূল ভিত্তির ওপর পরিচালিত হবে বলে জানান জাপানের প্রধানমন্ত্রী। এগুলো হলো—আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি ও নীতিমালা প্রণয়ন এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারস্পরিক সহযোগিতা।

অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। সানায়ে তাকাইচি জানান, বাংলাদেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) কর্মসূচির আওতায় টহল জাহাজ সরবরাহের নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপান। পাশাপাশি অফিসিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স (ওএসএ) এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে দেশটি।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগ স্থাপনে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনা কাজে লাগানো গেলে তা জাপানের অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বক্তব্যের শেষে সানায়ে তাকাইচি বলেন, ভবিষ্যৎমুখী কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে দুই দেশ একসঙ্গে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে। এর মধ্য দিয়ে জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় সূচিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এর আগে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানান সানায়ে তাকাইচি। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

ম.র

সর্বশেষ