ফাইল ছবি
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ভারত, মধ্যপ্রাচ্য-আফ্রিকা ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোকে নিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোট ‘হেক্সাগন’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। এই জোটে ভারতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে তিনি মনে করছেন।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বর্তমানে ইসরায়েলে অবস্থান করছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সফরের সময় নেতানিয়াহু ও মোদির মধ্যে ‘হেক্সাগন’ জোট গঠনের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
নেতানিয়াহু বলেন, “আমরা একটি ষড়ভুজ আঞ্চলিক ব্যবস্থা গড়ে তুলব, যাতে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল এবং এশিয়ার কয়েকটি দেশ অন্তর্ভুক্ত হবে। ভারত এই জোটের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হবে।” জোটের মাধ্যমে মৌলবাদী শিয়া ও কট্টরপন্থি সুন্নি উভয় পক্ষের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে, উল্লেখ করেছেন তিনি।
তবে এই জোটে এখনও কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বিশেষ করে গ্রিস ও সাইপ্রাস, যাদের নেতানিয়াহু অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন, তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সদস্য রাষ্ট্র এবং ২০২৪ সালে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ভারতের জন্য এই জোটে যোগ দেওয়া কঠিন হতে পারে। নয়াদিল্লি যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ইউরোপসহ বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী এবং ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। হেক্সাগনে যোগ দিলে ভারতের মধ্যপ্রাচ্যে নিরপেক্ষ অবস্থান ও ইরানের সঙ্গে বন্ধুত্ব ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
লন্ডনের কিংস কলেজের অধ্যাপক আন্দ্রেস ক্রেইগ বলেন, “নেতানিয়াহুর এই জোট মূলত আঞ্চলিক মেরুকরণ প্রকল্প। ভারত-ইসরায়েলের সম্পর্ক ভালো, তবে ভারত এই জোটে যোগ দেবে এমনটা কঠিন।”
ম.র





