ছবি : সংগ্রহ
রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার দক্ষিণ মানিকদীর ইসিবি চত্বর এলাকায় নিউগিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেডের আবাসন প্রকল্পে হামলা, ভাঙচুর, গুলিবর্ষণ ও লুটপাটের অভিযোগে সাবেক মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। একই ঘটনায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদীরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। নিউগিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেডের পক্ষ থেকে মো. সাইফুল ইসলাম ভূইয়া বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলাটি করেন। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে একজনকে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশের ভাষ্য।
মামলায় নাম থাকা অন্য আসামিরা হলেন—শাহরিয়ার মাহমুদ, মো. আবুল কাশেম, মো. বাবুল হোসেন, মোহাম্মদ শাহিনুজ্জামান, মতিউর রহমান, মজিবুর রহমান, নুরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, এমকে আজাদ, মো. মামুন, মো. আসলাম ও মুন্না।
দুই ট্রাকে করে হামলার অভিযোগ
সালমান মুক্তাদীরের অভিযোগ, শনিবার রাতে দুটি ট্রাকে করে লোকজন গিয়ে তার স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। রাত পৌনে দুইটার দিকে স্টুডিওটির ফেসবুক পেজে লাইভে এসে তিনি জানান, হামলায় স্টুডিওটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নিউগিনি প্রোপার্টিজের কাছ থেকে প্রায় ৫ হাজার বর্গফুটের একটি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিও পরিচালনা করতেন সালমান। তবে পুলিশের ভাষ্য, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জের ধরেই মূল হামলার ঘটনা ঘটে এবং সালমানের স্টুডিও হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য ছিল না। ডিএমপির কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, এ ঘটনায় চাঁদাবাজির সম্পৃক্ততার তথ্য তারা পাননি।
এজাহারে বলা হয়েছে, রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলাকারীরা প্রকল্পে প্রবেশ করেন। তাঁদের হাতে পিস্তল, শটগান, রিভলবার, চাপাতি, রামদা, ছুরি, রড ও লাঠিসোঁটা ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। কয়েক দফা গুলিবর্ষণের পর শ্রমিক ও নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
হামলাকারীরা প্রকল্পের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজকে মারধর করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। রিভলবারের বাট দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত এবং পরে ছুরি দিয়ে পা, হাত ও পিঠে আঘাত করার অভিযোগ রয়েছে। তাঁকে রক্ষা করতে গেলে নিরাপত্তাকর্মী সৈয়দ নজরুল ইসলামকেও মারধর করা হয়। তাঁর কাছ থেকে ২ হাজার টাকা, একটি মোবাইল ফোন ও ওয়্যারলেস সেট নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
ভাঙচুর ও লুটের অভিযোগ
এজাহার অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্রকল্পের প্রধান ফটকে গুলি করে লোহার গেট, থাইগ্লাস ও কাঁচের গেট ভাঙচুর করেন। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পরে অফিসকক্ষে ঢুকে কম্পিউটার মনিটর, ডিভিআর, ফ্রিজ, ল্যাপটপ, টেবিল, চেয়ার ও আলমারি ভাঙচুর করা হয়। এ অংশে আরও প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া লকার ভেঙে নির্মাণসামগ্রী কেনার জন্য রাখা ২৫ লাখ টাকা, ২৩ টন রড, একটি সিএফ মোটর স্কুটারসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। স্টোররুম থেকেও তার, পানির পাম্প, নির্মাণসামগ্রী ওঠানোর সরঞ্জাম, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, সিসি ক্যামেরা, ডিভিআর ও মনিটরসহ বিভিন্ন মালামাল চুরির অভিযোগ রয়েছে।
সালমানের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওতেও দুটি টেলিভিশন, এসি ও আসবাবপত্র ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে। এজাহারে স্টুডিওতে প্রায় ৯৫ লাখ টাকার ক্ষতি এবং বিভিন্ন মালামাল চুরির দাবি করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে হামলা ও ভাঙচুরে ১ কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং ১ কোটি ৫০ লাখ ৪৩ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব ক্ষয়ক্ষতি ও লুটপাটের অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হবে।
পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলির অভিযোগ
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাঁচটি শটগানের গুলি ছোড়ে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি পিস্তলের গুলির খোসা উদ্ধারের কথাও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মো. মামুন ও মো. আসলামকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুন্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শাহরিয়ারকেও হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ম.র





