ছবি : সংগ্রহ
ভারতের পাঞ্জাবের লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটিতে (এলপিইউ) এক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও তার আত্মহত্যার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জালন্ধর-ফাগওয়ারা জাতীয় মহাসড়ক অবরোধ করলে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়।
বিক্ষোভ শুরু হয় শনিবার রাতে এবং রোববার সকাল পর্যন্ত চলে। শুরুতে শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিয়ে বিচার দাবি করলেও পরে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে ক্যাম্পাসের জানালার কাচ ও ফুলের টব ভাঙচুর করা হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অংশে আগুন দেওয়া হয়।
জালন্ধর রেঞ্জের ডিআইজি নবীন সিংলা জানান, শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, প্রায় তিন দিন আগে একটি হোস্টেলে এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হন এবং পরে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ওই ছাত্রীর বক্তব্যের ভিত্তিতে ধর্ষণের মামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এক বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থী দাবি করেন, ক্যাম্পাসে কর্মরত এক নির্মাণশ্রমিক ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন।
পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে বাড়িতে পাঠায়। ছাত্রীর রুমমেট অন্য শিক্ষার্থীদের জানান, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
তবে কাপুরথালার এসএসপি গৌরব তুরা বলেন, ধর্ষণের কোনো ঘটনা সম্পর্কে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য ছিল না। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিয়ে কিছু অভিযোগ তোলার পর ধর্ষণের গুজব ছড়ায় বলে জানান তিনি।
পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের পাঠানো এক বিবৃতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনাটিকে ‘ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর গুজব’ বলে দাবি করেছে। শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের অস্থিরতায় অংশ না নিয়ে নিজ নিজ হোস্টেল বা কক্ষে নিরাপদে থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ভাঙচুরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ম.র





