শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ , ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

Aporup Bangla

ট্রাম্প-পুতিন চুক্তি

বিশ্ববাজারে ৩ লাখ টন ডিজেল ছাড়বে রাশিয়া

সারাবিশ্ব

অপরূপ বাংলা প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯:২৩, ১০ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

বিশ্ববাজারে ৩ লাখ টন ডিজেল ছাড়বে রাশিয়া

ফাইল ছবি

জ্বালানির দাম কমাতে রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল আমদানি চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শিগগিরই ৩ লাখ টন ডিজেল যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে সরবরাহে সম্মত হয়েছেন। এ ছাড়া নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং পরবর্তী সময়ে আরও ১০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করবে রাশিয়া। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ট্রাম্পের এ ঘোষণায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার মতে, এ চুক্তি পুতিনকে উপহার দেওয়ার শামিল। যুদ্ধ বন্ধ করার পরিবর্তে এ ধরনের পদক্ষেপ যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার বিনিয়োগ।


চুক্তির অংশ হিসেবে আগামী ৭ এপ্রিল পর্যন্ত রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকে থাকা রাশিয়ার সম্পদসহ অন্যান্য সম্পদের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকছে বলে জানা গেছে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প আরও জানান, রাশিয়ার শোধনাগারগুলোর সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে স্বল্প সময়ের মধ্যে আরও ৩০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করা হবে। ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার এসব শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পুতিনও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে তেল এবং পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সরবরাহে রাশিয়া প্রস্তুত। তবে তার বিবৃতিতে সরবরাহের নির্দিষ্ট পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি।

এদিকে রাশিয়া ঘোষিত পরিমাণ ডিজেল সরবরাহ করতে পারবে কি না এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের জ্বালানির দাম কতটা কমবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকেরা।

চুক্তিতে ক্ষুব্ধ জেলেনস্কি
রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের এ চুক্তির সমালোচনা করে জেলেনস্কি বলেছেন, পুতিনকে উপহার দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। তার দাবি, ডিজেল সরবরাহের বিনিময়ে রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আরও সন্ত্রাস চালাবে।

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায্য সমর্থনের ওপর তারা নির্ভর করছেন। পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় আলোচনাও চান তিনি, দুর্বল কোনো অবস্থান নয়।

জেলেনস্কি আরও বলেন, রাশিয়া যদি ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস না করে, তাহলে ইউক্রেনও রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আগুন দেবে না। রাশিয়া বছরের পর বছর ধরে ইউক্রেনের জ্বালানি খাতে যে হামলা চালিয়ে আসছে, তার জবাবেই ইউক্রেন এসব হামলা চালাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

ইউক্রেনের ড্রোন হামলার কারণে চলতি বছর রাশিয়ায় দুই দফায় তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) হিসাব অনুযায়ী, দেশটির ডিজেল উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে।

রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। তার মতে, এসব হামলার কারণেই জ্বালানির দাম বাড়ছে।

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন
রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তির ঘোষণা এমন এক সময়ে এল, যখন সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস আমদানিকারী দেশগুলোর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দিয়ে একটি আইন পাস হয়েছে, যাতে স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প নিজেই।

এ চুক্তির কারণে ইউরোপের মিত্র দেশগুলো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউক্রেনপন্থি রাজনীতিকদের সমালোচনার মুখে পড়তে পারেন ট্রাম্প। তাদের অভিযোগ, রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কিনে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত মস্কোর যুদ্ধ পরিচালনার অর্থ জোগাতে সহায়তা করছে।

যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমাতে এ চুক্তি কতটা কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্টের দাম প্রতি ব্যারেল ১০৩ ডলারের ওপরে রয়েছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে এ দাম ছিল প্রায় ৭৩ ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমাতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছেন ট্রাম্প। ওই নির্বাচনের মাধ্যমে কংগ্রেসে রিপাবলিকান পার্টি তাদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে কি না, তা নির্ধারিত হবে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফেডারেল পর্যায়ে পেট্রোলের ওপর আরোপিত কর স্থগিত করার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানান ট্রাম্প। পাশাপাশি বিশেষ ধরনের লাল রং মেশানো ডিজেল ফেডারেল কর ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের মহাসড়কে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

এ ছাড়া জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমাতে জি-৭ দেশগুলোকে মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল তেল ও ডিজেল ছাড়তে চাপ দিয়েছেন ট্রাম্প। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবের প্রতিও সমর্থন জানিয়েছিলেন তিনি।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্য সরকারের এক মুখপাত্র বলেছেন, ইউক্রেনকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দিতে এবং টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে পুতিনের আগ্রাসনের মূল্য বাড়াতে রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখা হবে।

মুখপাত্র আরও বলেন, রাশিয়া চাইলে আজই যুদ্ধ বন্ধ করতে পারে। ইউক্রেনের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে যুক্তরাজ্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সূত্র: বিবিসি

ম.র

সর্বশেষ

জনপ্রিয়