বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ , ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

Aporup Bangla

নেতানিয়াহু এবারও কি টিকে যাবেন?

সারাবিশ্ব

অপরূপ বাংলা প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯:১৮, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

নেতানিয়াহু এবারও কি টিকে যাবেন?

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

তিন দশকেরও বেশি সময়ের রাজনৈতিক জীবনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বহুবার রাজনৈতিকভাবে শেষ হয়ে গেছেন বলে মনে করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করেছেন তিনি।

এবারের নির্বাচনের ফল তার বিরোধীদের সামনে নেতানিয়াহুর দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটানোর সুযোগ তৈরি করেছে। তবে ইসরায়েলের কঠিন রাজনৈতিক সমীকরণে তার বিদায় এখনো নিশ্চিত নয়।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত অধিকাংশ ভোট গণনা শেষ হলেও প্রধানমন্ত্রী পদে কে জয়ী হচ্ছেন, তা স্পষ্ট হয়নি। ফলে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সরকার গঠন নিয়ে দর-কষাকষি চলতে পারে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাসও।
ভোট গণনা প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও ১২০ আসনের ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টিই সবচেয়ে বড় দল হিসেবে রয়েছে।

দলটি আনুমানিক ২৬টি আসন পেতে যাচ্ছে। তবে লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। ৫৩টি আসন পেতে পারে নেতানিয়াহুর এ জোট। যেখানে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন।
অর্থাৎ, নেতানিয়াহু জেতেননি, আবার এখনো হারেননি। আপাতত তার প্রধান লক্ষ্য হবে প্রতিদ্বন্দ্বীদের নিজেদের সরকার গঠন থেকে ঠেকানো। এভাবেই হয়তো আরেকবার ক্ষমতায় টিকে যেতে পারেন তিনি।

আরব দলগুলোর ভূমিকা
হিসাব অনুযায়ী, বিরোধী দলগুলোর হাতে রয়েছে প্রায় ৬৭টি আসন। তবে আদর্শিক, জাতীয় ও ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে এই জোটের সমীকরণ বেশ জটিল। নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটের দল পেয়েছে ২১টি আসন। কিন্তু ইহুদি বিরোধী দলগুলোর মোট আসন ৪৮, যা সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট নয়।

সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হলে তাদের আরব দল রা’আম ও জয়েন্ট লিস্টের সমর্থন প্রয়োজন হবে। দল দুটি সম্মিলিতভাবে রেকর্ড ১৯টি আসন পেতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে আরব বা ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরায়েলি নাগরিকদের রেকর্ডসংখ্যক ভোট দেওয়ার পেছনে গত চার বছর ধরে উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী ইতামার বেন-গভিরের ভূমিকা রয়েছে। তার সময়ে আরব সম্প্রদায়ের মধ্যে অপরাধের ঘটনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। নির্বাচনে আরব ভোটারদের অংশগ্রহণ সেই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়ার অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

তবে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন নিয়েও মতবিরোধ রয়েছে। রা’আম একটি ইসলামপন্থী দল, যার সমর্থকদের বড় অংশ ইসরায়েলের বেদুইন সম্প্রদায়ের। দলটির নেতা মানসুর আব্বাস ২০২১ সালের নির্বাচনের পর প্রথম আরব রাজনীতিক হিসেবে ইসরায়েলের সরকারে যোগ দিয়েছিলেন।

অন্যদিকে, জয়েন্ট লিস্ট কয়েকটি ছোট দলের সমন্বয়ে গঠিত। এর মধ্যে রয়েছে কমিউনিস্ট দল হাদাশ, ধর্মনিরপেক্ষ দল তাআল এবং জাতীয়তাবাদী দল বালাদ।

বুধবার বামপন্থী ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান তার রাজনৈতিক মিত্রদের আরব দলগুলোকে বিরোধী জোটের অংশ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। নেতানিয়াহুর ‘ইহুদি ও আরব ভোটের মধ্যে বর্ণবাদী বিভাজন’ নীতির বিরোধিতা করেন তিনি।

তবে আইজেনকটের দুই ডানপন্থী মিত্র নাফতালি বেনেট ও আভিগদর লিবারম্যান আরব দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন। তবে ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে তারা নতুন করে কোনো বিবৃতি দেননি।

জয়েন্ট লিস্ট বুধবার জানিয়েছে, তারা রাজনৈতিক সহযোগিতায় প্রস্তুত এবং নেতানিয়াহুর শাসনের অবসান ঘটাতে নিজেদের ক্ষমতার সবটুকু কাজে লাগাবে।

কী হতে পারে নেতানিয়াহুর কৌশল?
নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনের পর তার প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ইহুদি ও আরব দলগুলোর রাজনৈতিক সহযোগিতাকে অবৈধ বা অগ্রহণযোগ্য হিসেবে তুলে ধরা, যাতে এই সমঝোতার মাধ্যমে তার বিদায়ের পথ তৈরি না হয়।

সূত্রটির ভাষ্য, সংখ্যালঘু সরকারের সম্ভাবনা নিয়ে নেতানিয়াহু অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। এ কারণে আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা না করতে বিরোধী দলের আইনপ্রণেতাদের ব্যক্তিগতভাবেও চাপ দিতে পারেন তিনি।

নির্বাচনী প্রচারে আরব দলগুলোর বিরোধিতা করার পর বুধবার লিকুদ পার্টি অভিযোগ করেছে, ঘুষ, হুমকি, সহিংসতা ও জালিয়াতির মাধ্যমে আরব দলগুলো ‘নির্বাচন চুরি’ করেছে। নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগের সঙ্গে এই বক্তব্যের মিল রয়েছে।

ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে নির্বাচনের দিন বিভিন্ন দলের কাছ থেকে পাওয়া হাজার হাজার অভিযোগ এরই মধ্যে খারিজ করেছে কমিশন।

নেতানিয়াহু ঘনিষ্ঠ ওই সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, ইহুদি ও আরব দলগুলোর সমঝোতার সম্ভাবনা ‘সব উপায়ে নস্যাৎ’ করার পরিকল্পনা রয়েছে নেতানিয়াহুর। এর মধ্যে ইরানে হামলা চালানো কিংবা ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তার পক্ষে হস্তক্ষেপ করতে ট্রাম্পকে রাজি করানোর চেষ্টাও থাকতে পারে।

বিরোধীদের আশঙ্কা, নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া থামিয়ে দিতে বা বাধাগ্রস্ত করতে নেতানিয়াহু কোনো নিরাপত্তা সংকটকে কাজে লাগাতে পারেন।

নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ইরানে যৌথ হামলা চালানোর জন্য চাপ দিয়েছিলেন। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর প্রধান এয়াল জামির সতর্ক করে দিয়েছিলেন, এ ধরনের হামলায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। আংশিকভাবে এ কারণেই ওয়াশিংটন হামলা চালানো থেকে বিরত থাকে।

ইসরায়েলের এক নিরাপত্তা সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, ইরানে হামলার সামরিক পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে। ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে সেগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এ অনুমোদন আসতে পারে।

বিরোধী শিবিরের এক সূত্র বলেছে, নেতানিয়াহু কী করবেন, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে তিনি পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করতে পারেন বলে তারা আশঙ্কা করছেন। আরেকটি সূত্রের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ছাড়তে না হয়, সে জন্য দেশের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশৃঙ্খলা তৈরিসহ সব ধরনের চেষ্টা করতে পারেন নেতানিয়াহু।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাবেক প্রধান আইজেনকট মঙ্গলবার রাতে নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের স্মরণ করিয়ে দেন, নেতানিয়াহু এখন কেবল তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী; তার হাতে নতুন ম্যান্ডেট নেই, জনসমর্থনও নেই।

ভোটের প্রাথমিক হিসাব প্রকাশের পর সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে আইজেনকট বলেন, জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে। বুধবার হালনাগাদ ফল প্রকাশের পরও তিনি ইসরায়েলে পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

এরপর কী?
ভোট গণনার চূড়ান্ত ফল এখনো পরিবর্তিত হতে পারে। বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে অধিকাংশ ভোট গণনা শেষ করার কথা কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের। এরপর গণনা করা হবে বিশেষ খামে জমা দেওয়া ভোট। এর মধ্যে রয়েছে সেনাসদস্য, বন্দি, হাসপাতালের রোগী ও কর্মী, বিদেশে অবস্থানরত কূটনীতিক এবং প্রতিবন্ধী ভোটারদের ভোট।

কমিশনের ধারণা, এ ধরনের খামের সংখ্যা ৪ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজারের মধ্যে। এসব ভোটের মাধ্যমে ১০টিরও বেশি আসনের ফল বদলে যেতে পারে। বিশেষ যাচাই প্রক্রিয়ায় এসব ভোট গণনা করা হয়। বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত ফল প্রকাশের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এরপর শুরু হবে সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দর-কষাকষি। এ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। নির্বাচিত দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে প্রধানমন্ত্রী পদে তাদের পছন্দের প্রার্থী সম্পর্কে জানতে চাইবেন তিনি। এরপর যিনি ৬১ আসনের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনে সবচেয়ে বেশি সক্ষম বলে মনে করবেন, তাকেই সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন।

এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দলের নেতাকেই যে দায়িত্ব দেওয়া হবে, এমন নয়। বরং কার পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন নিয়ে জোট গঠন সম্ভব, সেটিই হবে মূল বিবেচ্য বিষয়।

আরব দলগুলো আইজেনকটকে সমর্থন দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেতে নেতানিয়াহুর চেয়ে বেশি সুপারিশ পেতে পারেন তিনি।

দায়িত্ব পাওয়ার পর সরকার গঠনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানো হতে পারে। এ সময়ের মধ্যে মন্ত্রিসভার পদ বণ্টন, বাজেট ও নীতিগত বিষয়ে অন্যান্য দলের সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে।

প্রথম প্রার্থী ব্যর্থ হলে অন্য একজনকে চার সপ্তাহের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হবে। তিনিও ব্যর্থ হলে নেসেটের সামনে বিকল্প কোনো প্রার্থীকে সামনে আনার জন্য স্বল্প সময়ের সুযোগ থাকবে। তাতেও সমাধান না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহু এখানে বাড়তি সুবিধা পাবেন। আইজেনকট প্রথমে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেয়ে ব্যর্থ হলে নেতানিয়াহুকে কেবল সময় পার হওয়ার অপেক্ষায় থাকতে হবে। আর নতুন নির্বাচনের দিকে এগোলে সেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত কয়েক মাস তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন তিনি।

আইজেনকটের সামনে বিকল্প পথ
সরকার গঠন করতে না পারলেও বিরোধী দলগুলোর সামনে বিকল্প রয়েছে। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে তারা নেসেটের স্পিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে পরিবর্তন আনতে পারে। এতে নেতানিয়াহুর সরকার পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত হওয়ার পাশাপাশি বিরোধীদের আইন প্রণয়নের সুযোগও তৈরি হতে পারে।

তবে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আইজেনকটের জন্য এটি খুব একটা স্বস্তির জায়গা নয়। নেতানিয়াহুর জোটের সদস্যরা তার প্রতি অত্যন্ত অনুগত। ফলে জোটের ভেতর থেকে কেউ বেরিয়ে যাবেন, এমন আশঙ্কা আপাতত কম।

আইজেনকটের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। তার বিরোধী জোটে বিভিন্ন মতাদর্শের দল রয়েছে। ফলে সামান্য কোনো পদক্ষেপেও জোটে ভাঙন দেখা দিতে পারে, যার পরিণতিতে দেশকে আবার নির্বাচনের দিকে যেতে হতে পারে।

এখন সবার নজর প্রেসিডেন্ট হারজগের দিকে। বর্তমান অচলাবস্থায় তার ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোনো পক্ষই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নেতানিয়াহু ও আইজেনকটকে নিয়ে একটি জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের উদ্যোগ নিতে পারেন তিনি।

বুধবার হারজগ বলেছেন, নতুন করে আরেক দফা নির্বাচন এড়াতে আমাদের সবকিছু করতে হবে। এ জন্য দলীয় নেতাদের খোলা মন নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ফলে এবারের নির্বাচনেও নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে শুধু ভোটের ফলের ওপর নয়, বরং বিরোধী দলগুলোর ঐক্য, আরব দলগুলোর ভূমিকা এবং সরকার গঠন নিয়ে আগামী দিনগুলোর রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর।

সূত্র: সিএনএন

ম.র

সর্বশেষ