শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ , ৪ বৈশাখ ১৪৩৩

Aporup Bangla

২৬ দিনে ৮ বার ভূমিকম্প: বড় দুর্যোগের আশঙ্কা কতটা বাস্তব?

জাতীয়

অপরুপ বাংলা প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:৪৩, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

২৬ দিনে ৮ বার ভূমিকম্প: বড় দুর্যোগের আশঙ্কা কতটা বাস্তব?

ফাইল ছবি

চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে মাত্র ২৬ দিনের ব্যবধানে দেশে আটবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সর্বশেষ গত বুধবার রাতে মিয়ানমারে সৃষ্ট ৫.১ মাত্রার একটি মাঝারি ভূমিকম্পে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা কেঁপে ওঠে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার রাত ১০টা ৫১ মিনিটে অনুভূত এ কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১২৯ কিলোমিটার গভীরে। যদিও এতে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে ঘন ঘন এ ধরনের কম্পন বড় কোনো দুর্যোগের পূর্বাভাস কি না—তা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

মাসের শুরু থেকেই দেশজুড়ে ধারাবাহিকভাবে ভূমিকম্প অনুভূত হচ্ছে। ১ ফেব্রুয়ারি সিলেটে ৩ মাত্রার মৃদু কম্পনের মধ্য দিয়ে মাসের ভূমিকম্পের সূচনা হয়। ৩ ফেব্রুয়ারি একই দিনে তিনবার ভূকম্পন অনুভূত হয়। এর মধ্যে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ৪.১ মাত্রা এবং মিয়ানমারে ৫.৯ ও ৫.২ মাত্রার দুটি কম্পন ছিল। এরপর ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি সিলেটে আরও দুবার এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের ছাতকে ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। সব মিলিয়ে ২৬ দিনে আটবার কেঁপেছে দেশ।

এর আগে গত নভেম্বরে ৫.৭ মাত্রার এক ভূমিকম্পে দেশে ১০ জন নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হন। সেই ঘটনার পর থেকে ভূমিকম্প নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্প মোকাবিলায় দেশের প্রস্তুতি এখনও অনেকাংশে উদ্ধার তৎপরতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অবকাঠামোগত ঝুঁকি কমাতে বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে অনুসরণ, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা প্রণয়ন এবং নিয়মিত মহড়ার কোনো বিকল্প নেই।

ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার গণমাধ্যমকে বলেন, ছোট ও মাঝারি মাত্রার ঘন ঘন কম্পন বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বলক্ষণ হতে পারে। ভূত্বকের নিচে দীর্ঘদিন ধরে শক্তি জমা হয়ে থাকলে তা বড় মাত্রার বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি করে। বাংলাদেশ ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় ভৌগোলিকভাবেই এটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল। ছোট কম্পনগুলো ভূ-অভ্যন্তরের অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভূমিকম্প-সহনশীল স্থাপনা নির্মাণে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

ম.র

Bijoy

সর্বশেষ