শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬ , ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Aporup Bangla

ইরানকে ঘিরে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লো ৪ শতাংশের বেশি

সারাবিশ্ব

প্রকাশিত: ২৩:১৮, ৮ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লো ৪ শতাংশের বেশি

ফাইল ছবি

ইরানকে ঘিরে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধের হুঁশিয়ারিতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর সঙ্গে মেক্সিকো উপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের তেল উৎপাদন বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ দশমিক ৪৩ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ৪২ ডলারে পৌঁছেছে।
তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি জানায়, ইরানে নতুন করে হামলার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়ার খবর প্রকাশের পর তেলের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী চাপ আরও বাড়ে।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডকে (সেন্টকম) নির্দেশ দিয়েছে।

তবে হামলার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
মার্কিন ও ইসরায়েলি সূত্রের বরাতে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, সম্ভাব্য হামলা আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং ২৭ অক্টোবরের ইসরায়েলি নির্বাচনের আগে হতে পারে।

সম্ভাব্য অভিযানে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালির বিকল্প জাহাজ চলাচলের পথও বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডারের উপদেষ্টা মোহাম্মদ রেজা নাকদি দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানি বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ইরানের ‘বৈধ দাবি’ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালি বন্ধ থাকবে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।

তেলের বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া। ঘূর্ণিঝড় ইসাইয়াসের প্রভাবে ওই অঞ্চলে তেল ও গ্যাস উত্তোলন বন্ধ রেখেছে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

মার্কিন মেরিন মিনারেলস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ৫ লাখ ১১ হাজার ৬১৯ ব্যারেল তেল উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এটি মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চলের মোট তেল উৎপাদনের প্রায় ২৫ শতাংশ।

শেল পাঁচটি স্থাপনায় উৎপাদন বন্ধ করেছে। শেভরনও চারটি অফশোর স্থাপনায় উৎপাদন বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব বাড়লে আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমাতে বা বন্ধ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কমে যাওয়ায় সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা আরও বেড়েছে। ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন কমে যাওয়ার সম্মিলিত প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে।

তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, অ্যাক্সিওস, রয়টার্স

সর্বশেষ

জনপ্রিয়