ছবি : সংগ্রহ
বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে ‘জুলাইয়ের চেতনা’ ধারণ করে সব রাজনৈতিক দলের মতামতের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের তাগিদ দিয়েছেন দেশের শীর্ষ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনসহ (ইসি) রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীন করা এবং নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদি ও শক্তিশালী করার প্রস্তাব দিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন বিষয়ক বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের প্রধান নির্বাহী, সম্পাদক, হেড অব নিউজ এবং টকশো ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন।
বৈঠক শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান আমন্ত্রিত গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা।
বৈঠকে অংশ নেওয়া বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম-এর সম্পাদক এ কে এম মঞ্জুরুল হক নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন পদ্ধতি নিয়ে কমিটিকে কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে যে নির্বাচন হবে পরবর্তীতে ওই নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে যেন কোনো প্রশ্ন না ওঠে—তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিধানটা এমন করার প্রস্তাব দিয়েছি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান উপদেষ্টা বাছাই পদ্ধতি এবং গঠন প্রণালী নিয়ে আমার কিছু সুনির্দিষ্ট পরামর্শ ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেসি) চেয়ারম্যান ফাহিম আহমেদ বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বহুবার সংবিধান কাটাছেঁড়া হয়েছে। কিন্তু এবার জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে আমরা যেন একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে পারি, সেই লক্ষ্যে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের অনুরোধ করেছি।
তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে অবশ্যই বিরোধী দলগুলোকে রাখার চেষ্টা করতে হবে। তাদের কনভিন্স করে আলোচনায় আনতে হবে, তবেই এটি সারা দেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।
এছাড়া নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করার বিষয়গুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে বলে জানান ফাহিম আহমেদ।
বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক ও হেড অব নিউজ ড. আবদুল হাই সিদ্দিক বলেন, আমাদের সাংবিধানিক সংস্কারের মূল লক্ষ্য হলো গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো, বিশেষ করে নির্বাচন কমিশন যেন সত্যিকার অর্থে স্বাধীন থাকে এবং তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার মাধ্যমে গণতন্ত্রের ভিত্তি যেন মজবুত হয়, সেই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
সংবিধান সংশোধন যেন টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি হয় সে বিষয়ে জোর দিয়ে টকশো ব্যক্তিত্ব ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রক্রিয়া নিয়ে সবার কাছে সুচিন্তিত লিখিত মতামত চেয়েছে কমিটি। সংবিধানের এই সংশোধনটা যেন টেকসই হয়, বারবার যেন পরিবর্তন করতে না হয়, সে বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। বিরোধী দলসহ সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দল একসঙ্গে থেকে এই সংশোধন করলে তা কম বিতর্কিত হবে।
দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডা. সায়ন্থ বলেন, উচ্চকক্ষের প্রয়োজন আছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এটি দেশের আর্থিক ব্যয় বাড়াবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া উচ্চকক্ষ হলে সেখানে সিভিল সোসাইটির (সুশীল সমাজ) নামে দলীয় লোকজন ঢুকে যাবে কি না, ফলে নন-পার্টিজান সিভিল সোসাইটি অস্তিত্ব হারাবে কি না সেসব উদ্বেগও তুলে ধরা হয়েছে।





