মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Aporup Bangla

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এক টেবিলে চায় বাংলাদেশ

সারাবিশ্ব

অপরূপ বাংলা প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮:৪১, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এক টেবিলে চায় বাংলাদেশ

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আইরিন খান

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও সংকটের স্থায়ী সমাধানে জাতিসংঘের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনার প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আইরিন খান।

তিনি বলেন, শুধু জাতিসংঘের পক্ষে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে, বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতাধারী দেশগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন ও সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পর রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের সঙ্গে কথা বলেন রাষ্ট্রদূত আইরিন খান। সাক্ষাৎকারে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা, অর্থায়নের ঘাটতি এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।

রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়া এবং বিশ্বের মনোযোগ অন্যদিকে সরে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের শরণার্থী সহায়তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আইরিন খান বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিশ্রুতি পূরণ না করাই সংকটের অন্যতম কারণ।

তিনি বলেন, ‘প্রথমত, এই ১২ লাখ শরণার্থীকে সহায়তা দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, দেশের একটি কঠিন সময়ে বাংলাদেশ সরকারের পাশে দাঁড়াতে হবে। তৃতীয়ত, রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।’

আইরিন খান বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী জনগোষ্ঠীগুলোর একটি এখন বাংলাদেশের ঘনবসতিপূর্ণ শিবিরগুলোতে বসবাস করছে। তাদের সহায়তার প্রয়োজন থাকলেও মানবিক সহায়তা ক্রমেই কমছে।

শরণার্থী শিবিরে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে বেড়ে ওঠা শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

আইরিন খান বলেন, ‘রোহিঙ্গারা নয় বছর ধরে আশ্রয় শিবিরে আছেন। শিশুরা সেখানেই বড় হচ্ছে। ১২ লাখ শরণার্থীর সংখ্যা প্রতিবছর আরও বাড়ছে। শিবিরগুলোতে বছরে প্রায় ৩০ হাজার শিশুর জন্ম হচ্ছে। তাদের ভবিষ্যৎ কী? শরণার্থী শিবিরে নয় বছর কাটানো দীর্ঘ সময়।’

রাষ্ট্রদূত আইরিন খান বলেন, ‘এ কারণেই আমাদের প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ এবং অঞ্চলের ভেতরে ও বাইরের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমাধানের লক্ষ্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।’

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎস মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও সেখানেই নিহিত। রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরতে আগ্রহী, তবে তারা নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে ফিরতে চান। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও মনোযোগ প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের সুনির্দিষ্ট প্রত্যাশা তুলে ধরে আইরিন খান বলেন, ‘আমরা চাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে জাতিসংঘ, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনুক। সেখানে থাকবে আশ্রয়দাতা দেশ বাংলাদেশ, এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশ এবং অবশ্যই মিয়ানমার। আরও থাকবে দূরবর্তী সেই সব দেশ, যাদের মিয়ানমারের ওপর প্রভাব রয়েছে কিংবা এই প্রক্রিয়ায় অর্থায়নের সামর্থ্য আছে।’

মিয়ানমারকে নিজ দেশের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব পালনে বাধ্য করার ওপরও জোর দেন তিনি। আইরিন খান বলেন, এমন একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া প্রয়োজন, যার মাধ্যমে মিয়ানমার সরকারকে তার জনগণকে ফিরিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব পালন করতে হবে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের ভেতরে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা নিরাপদে নিজ দেশে ফিরতে পারেন।

জাতিসংঘের ভূমিকা ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে আইরিন খান বলেন, জাতিসংঘের একার পক্ষে এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে নিজেদের দায়িত্ব আরও গুরুত্বের সঙ্গে পালন করতে হবে।

বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতাধারী দেশগুলোর আরও কার্যকরভাবে একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ম.র

সর্বশেষ